Bilas Moulvibazar, Bilas

ঢাকা, সোমবার   ০৬ এপ্রিল ২০২৬,   চৈত্র ২৩ ১৪৩২

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১০:০৩, ৬ এপ্রিল ২০২৬

মঙ্গল শোভাযাত্রার নাম পরিবর্তনে উদীচীর ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখকে ঘিরে আয়োজিত ঐতিহ্যবাহী “মঙ্গল শোভাযাত্রা”-এর নাম পরিবর্তনের ঘোষণায় তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী।

রোববার সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে উদীচীর কেন্দ্রীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহমুদ সেলিম এবং সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে এই প্রতিবাদ জানান।

সংগঠনটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহমুদ সেলিম এবং সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, মঙ্গল শোভাযাত্রা কেবল একটি নাম নয়; এটি বাঙালির অসাম্প্রদায়িক চেতনা, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং সার্বজনীন ঐক্যের এক শক্তিশালী প্রতীক। বারবার নাম পরিবর্তনের উদ্যোগকে তারা সংস্কৃতির ওপর অযাচিত ও অগ্রহণযোগ্য হস্তক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন।

বিবৃতিতে নেতারা বর্তমান সরকার ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের কাছে জোরালোভাবে দাবি জানান, “মঙ্গল শোভাযাত্রা” নামটি অবিলম্বে পুনর্বহাল করতে হবে। পাশাপাশি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক বা ধর্মীয় মৌলবাদী গোষ্ঠীর চাপের কাছে নতি স্বীকার না করার আহ্বান জানান তারা।

উদীচী নেতারা বলেন, গত শতকের আশির দশকে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে এই শোভাযাত্রার সূচনা হয়। সময়ের পরিক্রমায় এটি “মঙ্গল শোভাযাত্রা” নামে দেশ-বিদেশে ব্যাপক স্বীকৃতি লাভ করে। ২০১৬ সালে ইউনেস্কো এই আয়োজনকে বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের মর্যাদা দেয়, যা বাংলাদেশের জন্য এক গৌরবজনক অর্জন।

তারা আরও বলেন, এই ঐতিহ্যের নাম পরিবর্তন বা মুছে ফেলার চেষ্টা ইতিহাস, সংগ্রাম এবং সাংস্কৃতিক ধারাবাহিকতাকে অস্বীকার করার শামিল। “মঙ্গল” শব্দটি অশুভের বিরুদ্ধে শুভের জয়, বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য এবং মানুষের মুক্তির আকাঙ্ক্ষার প্রতীক—এটি অপসারণ মানে সাংস্কৃতিক ভিত্তিকে দুর্বল করে দেওয়া।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশের সংস্কৃতি বহুত্ববাদ, সহনশীলতা ও মুক্তচিন্তার জন্য বিশ্বে সমাদৃত। সেই চেতনাকে অক্ষুণ্ণ রাখা সবার নৈতিক দায়িত্ব। ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ধারাবাহিকতা রক্ষা করা কেবল সাংস্কৃতিক দায়িত্ব নয়, এটি জাতির অস্তিত্ব ও পরিচয়ের প্রশ্ন।

ইএন/এসএ

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়