রুপম আচার্য্য
এশীয় শামুকখোল: স্রোতের মাঝের নিখুঁত শিকারি
এশীয় শামুকখোল পাখির ছবি তুলেছেন বার্ডফটোগ্রাফার কাজল হাজরা।
মৌলভীবাজারের জলাশয় ও নদীতে দেখা যায় এক অভিনব দৃশ্য। সাদা রঙের ঝলমলে দেহ, দীর্ঘ কালো ঠোঁট, আর আকাশের নীল ছায়ার সাথে মিলেমিশে উড়ে চলা এক আশ্চর্য পাখি এশীয় শামুকখোল বা Asian Openbill Stork।
চরিত্র ও চেহারা
এশীয় শামুকখোল মাঝারি আকারের একটি সাদা বক প্রজাতির পাখি। তাদের দেহের বেশিরভাগ অংশ সাদা, পাখার প্রান্ত ও লেজের একাংশ কালো। কিন্তু সবচেয়ে বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো তাদের অদ্ভুত আকৃতির খোলা ঠোঁট, যা মাছ ও শামুক ধরার জন্য নিখুঁতভাবে তৈরি। ঠোঁটের ওপরে একটি ছোট ফাঁক থাকে, যা শামুকের খোল সহজে ফাটাতে সাহায্য করে।
আচরণ ও খাদ্যাভ্যাস
প্রকৃতির এক নিখুঁত শিকারি এ পাখি। এরা সাধারণত নদী, খাল, পুকুর ও ভরা জলাশয়ে শিকার করে। এদের প্রধান খাদ্য হলো শামুক, ছোট মাছ এবং কেঁচো, যদিও কখনও কখনও ছোট সাপ বা পানির অন্যান্য প্রাণীকেও খেতে দেখা যায়।
পানিতে হাঁটতে হাঁটতে, ধীরে ধীরে মাথা নিচু করে শিকার খুঁজে বের করা এদের প্রধান শিকার কৌশল। ঠোঁটের ফাঁক ব্যবহার করে শামুকের খোল ফাটিয়ে ভিতরের নরম অংশ খায়।
প্রজনন ও বাসস্থান
এশীয় শামুকখোল সাধারণত জলাভূমিতে দলবদ্ধভাবে বাস করে। বসতি গড়ে তোলে গাছের ডালে। প্রজননের সময়ে, তারা একে অপরের সাথে খুবই স্নেহভাজন আচরণ দেখায়, যেমন: জুড়ে ঠোঁট স্পর্শ বা নাচের মতো আন্দোলন। প্রতি বছর গরম মৌসুমে এগুলো ডিম পাড়ে এবং উভয় মা-বাবাই ডিমে টা–পাশা করে।
সংরক্ষণ ও গুরুত্ব
এশীয় শামুকখোল প্রাকৃতিক পরিবেশের পরিচ্ছন্নতার দায়িত্বে অন্যতম। শামুক ও কেঁচো খাওয়ায় তারা জলাশয়ের ভারসাম্য রক্ষা করে। তবে জলাশয় দখল, নদী দূষণ ও কৃষি রাসায়নিকের কারণে এদের সংখ্যা কমে আসছে। তাই স্থানীয় প্রশাসন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণকারী সংস্থাগুলো এদের সংরক্ষণে গুরুত্ব দিচ্ছে।
দৃষ্টি নন্দন দৃশ্য
মৌলভীবাজারের হরিণ, নদী ও খাল ঘেঁষে এদের গঠনগত দৃষ্টিনন্দন উড়ন্ত দৃশ্য এক দর্শনীয় অভিজ্ঞতা। সকালবেলা সূর্যোদয়ের আলোয় সাদা দেহে আলো ফুটে এক অপরূপ রূপ ধারণ করে। স্থানীয়রা বলেন, এরা যেমন প্রকৃতির শিকারি, ঠিক তেমনি এদের উপস্থিতি জলাশয়কে জীবন্ত ও সজীব রাখে।
উপসংহার
এশীয় শামুকখোল কেবল একটি পাখি নয়; এটি প্রাকৃতিক ভারসাম্যের সূচক, স্থানীয় পরিবেশের জীবন্ত রূপক। সঠিক সংরক্ষণ ও সচেতনতার মাধ্যমে এই সুন্দর পাখিকে আগামী প্রজন্মও উপভোগ করতে পারবে।
ইএন/এসএইচএ
- কেএফসির মালিকের জীবন কাহিনী
- প্রজাপতি: আশ্চর্য এই প্রাণীর সবার ভাগ্যে মিলন জোটে না!
- বিশ্বের অদ্ভুত কিছু গাছের ছবি
- মা-শাশুড়িকে হারিয়েও করোনার যুদ্ধে পিছিয়ে যাননি এই চিকিৎসক
- যেখানে এক কাপ চা পুরো একটি পত্রিকার সমান!
- তিন রঙের পদ্মফুলের দেখা মিলবে এই বিলে
- সোনার দাম এত কেন : কোন দেশের সোনা ভালো?
- রহস্যময় গ্রামটি লাখো পাখির সুইসাইড স্পট
- ২০২৩ সালে পৃথিবীর শক্তিশালী ১০টি দেশ!
- ঢাকার মাঠ মাতানো বিদেশি ফুটবলাররা

























