ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২১ মে ২০২৬,   জ্যৈষ্ঠ ৭ ১৪৩৩

রুপম আচার্য্য

প্রকাশিত: ১০:০৫, ২১ মে ২০২৬

আড্ডা থেকে অনুভূতি, তরুণ প্রজন্মের প্রথম পছন্দ এখন চা

ছবিতে চায়ের কাপে রাজদীপ, তন্নী ও বৃষ্টি।

ছবিতে চায়ের কাপে রাজদীপ, তন্নী ও বৃষ্টি।

একসময় চা ছিল মূলত বয়স্কদের আড্ডা কিংবা ক্লান্তি দূর করার পানীয়। কিন্তু সময়ের সঙ্গে বদলে গেছে সেই চিত্র। এখন শহর থেকে গ্রাম, ক্যাম্পাস থেকে কর্পোরেট অফিস অথবা বিভিন্ন পর্যটন শহর সবখানেই তরুণ-তরুণীদের অন্যতম প্রিয় পানীয় হয়ে উঠেছে চা। শুধু পানীয় হিসেবেই নয়, চা এখন এক ধরনের সংস্কৃতি, স্টাইল এবং সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমেও পরিণত হয়েছে।

চা অধ্যুষিত মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, সিলেট শহরে দিনদিন চা পানের প্রবনতা দেখা যায় সবচেয়ে বেশী। সকাল কি বিকাল যখনই ফ্রি সময় হাতে থাকে প্রিয়জন বন্ধ-বান্ধব পরিবার নিয়ে চলে যান চা খেতে। শহরের বিভিন্ন মুড়ে অথবা রাস্তার পাশের চায়ের দোকানে দেখা মেলে তরুণ-তরুণীরা মিলে আড্ডা দিচ্ছেন ও চা পান করছেন।

দেশের বিভিন্ন শহরে দিনদিন বাড়ছে আধুনিক টি-স্টল, টি-ক্যাফে ও বিশেষায়িত চায়ের দোকান। যেখানে বন্ধুদের আড্ডা, গল্প, পড়াশোনা কিংবা ছোটখাটো মিটিংয়ের অন্যতম অনুষঙ্গ হয়ে উঠেছে এক কাপ চা। বিশেষ করে শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও সিলেটের মতো এলাকায় তরুণদের মধ্যে চায়ের প্রতি আগ্রহ চোখে পড়ার মতো।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কফির তুলনায় তুলনামূলক কম খরচ, সহজলভ্যতা এবং বৈচিত্র্যময় স্বাদের কারণে তরুণদের মধ্যে চায়ের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। এখন শুধু দুধ চা নয়, লেবু চা, মালাই চা, গ্রিন টি, মশলা চা, তুলসী চাসহ অন্যান্য টি পর্যন্ত জায়গা করে নিয়েছে তরুণদের পছন্দের তালিকায়।

হাসবেন্ডের সঙ্গে ঘুরতে আসা তন্নী পাল বলেন, “এখন বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা মানেই এক কাপ চা। যখনই কোথাও ঘুরতে বের হই, চায়ের কাপে জমে ওঠে গল্প আর আড্ডা। বন্ধু-বান্ধব সবাই একসঙ্গে হলে চা ছাড়া যেন আড্ডাই সম্পূর্ণ হয় না। আর নতুন নতুন ফ্লেভারের চা ট্রাই করতেও আমার ভীষণ ভালো লাগে।”

একই কথা জানালেন কলেজছাত্রী রিতু বণিক জাহান। তিনি বলেন, “আগে কফি বেশি পছন্দ করতাম। এখন বিভিন্ন ধরনের চা খেতে ভালো লাগে। বিশেষ করে গ্রিন টি আর মশলা চা অনেক পছন্দ।”

সানজিদা তফাদার বলেন, “চা ছাড়া আমার একটা দিনও যেন ঠিকভাবে শুরু হয় না। সকাল থেকে রাত, দিনের বিভিন্ন সময় এক কাপ চা আমার সঙ্গী হয়ে থাকে। কাজের ফাঁকে, আড্ডায় কিংবা একান্ত অবসরে চায়ের কাপে চুমুক না দিলে যেন কিছু একটা অপূর্ণ থেকে যায়। বাহিরে ঘুরতে বের হলে কোথায় আড্ডায় বসলে সাথে থাকে এককাপ চা। সত্যি বলতে, আমি অনেক বেশি চা পাগল। চায়ের প্রতি এই ভালোবাসাটা এখন আমার দৈনন্দিন জীবনেরই একটা অংশ হয়ে গেছে।”

চায়ের সঙ্গে এখন যুক্ত হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ট্রেন্ডও। আকর্ষণীয় পরিবেশে বসে চা পান, রঙিন কাপ, ধোঁয়া ওঠা চায়ের ছবি কিংবা ভিডিও নিয়মিত ছড়িয়ে পড়ছে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও টিকটকে। ফলে তরুণদের মধ্যে চা নিয়ে তৈরি হচ্ছে নতুন ধরনের আগ্রহ।

চা ব্যবসায়ীরাও বলছেন, আগের তুলনায় তরুণ ক্রেতার সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বিশেষ করে বিকেল ও সন্ধ্যার সময় বিভিন্ন টি-স্টলে তরুণদের উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।

বাংলাদেশের চা শিল্পের জন্যও এটি ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে চায়ের চাহিদা বাড়ার ফলে উৎপাদন, বিপণন ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাস্থ্য সচেতনতার কারণেও অনেকে কোমল পানীয়ের পরিবর্তে চায়ের দিকে ঝুঁকছেন। বিশেষ করে গ্রিন টি ও ব্ল্যাক টি স্বাস্থ্যকর পানীয় হিসেবে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, বর্তমান প্রজন্মের কাছে চা আর শুধুই পানীয় নয়; এটি এখন জীবনধারার অংশ। এক কাপ চাকে ঘিরেই তৈরি হচ্ছে সম্পর্ক, আড্ডা, অনুভূতি ও নতুন প্রজন্মের এক আলাদা সংস্কৃতি।

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়