ঢাকা, রোববার   ৩১ মে ২০২৬,   জ্যৈষ্ঠ ১৬ ১৪৩৩

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৩:৩০, ৩০ মে ২০২৬

জিয়া আরও পাঁচ বছর বেঁচে থাকলে দেশের চিত্র বদলে যেত: নাসের রহমান

এমপি নাসের রহমান। ছবি: আই নিউজ

এমপি নাসের রহমান। ছবি: আই নিউজ

বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান বলেছেন, “শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যদি আরও পাঁচ বছর জীবিত থাকতেন, তাহলে আজ বাংলাদেশের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন হতো।”

শনিবার (৩০ মে) দুপুরে মৌলভীবাজার শহরের এম সাইফুর রহমান অডিটোরিয়ামে জেলা বিএনপি আয়োজিত শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান (বীর উত্তম)-এর ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে অডিটোরিয়ামজুড়ে ছিল আবেগঘন পরিবেশ। বক্তারা স্বাধীনতার ঘোষক ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক হিসেবে পরিচিত জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শন, নেতৃত্ব এবং রাষ্ট্রগঠনে তাঁর অবদানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে এম নাসের রহমান বলেন, “দেশের উন্নয়ন, রাজনীতি ও ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থার কথা চিন্তা করেই জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এটি ছিল দেশের রাজনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার একটি দূরদর্শী উদ্যোগ।”

তিনি বলেন, “বিএনপি প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক পর্যায়ে যারা ভূমিকা রেখেছিলেন, তাঁদের মধ্যে মরহুম অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম সাইফুর রহমান অন্যতম ছিলেন। ১৯৭৮ সালে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল গঠনের মধ্য দিয়ে যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, পরে তা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।”

বিএনপির জনপ্রিয়তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বিগত ১৭ বছর ধরে বিএনপির বিরুদ্ধে নানা ধরনের অপপ্রচার চালানো হলেও জনগণের সমর্থন দলটির প্রতি অব্যাহত রয়েছে।”

জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও রাষ্ট্রনায়কোচিত নেতৃত্বের প্রসঙ্গ তুলে ধরে নাসের রহমান বলেন, “তিনি ছিলেন একজন সাহসী, সংযত ও সৎ রাষ্ট্রনায়ক। দেশের উন্নয়ন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি সম্মুখযুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং স্বাধীনতার পর রাষ্ট্র পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।”

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জিয়াউর রহমানের গ্রহণযোগ্যতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “১৯৮০ সালে ইরান-ইরাক যুদ্ধ বন্ধে মুসলিম বিশ্বের রাষ্ট্রনেতাদের নিয়ে গঠিত একটি বিশেষ কমিটির নেতৃত্ব তাঁর ওপর অর্পণ করা হয়েছিল। এটি ছিল আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তাঁর প্রতি আস্থার প্রতিফলন।”

তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার ক্ষেত্রেও তাঁর অবদান ছিল গুরুত্বপূর্ণ।”

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন মৌলভীবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য নাসির উদ্দীন আহমেদ মিঠু, জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মিজানুর রহমান মিজান, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সিনিয়র সদস্য আলহাজ আব্দুল মুকিত, মৌলভী মো. আব্দুল ওয়ালী সিদ্দিকী, অ্যাডভোকেট সুনীল কুমার দাশ এবং জাসাসের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সৈয়দ আশরাফুল মজিদ খোকন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. ফয়জুল করিম ময়ূন এবং সঞ্চালনা করেন সদস্য সচিব মো. আব্দুর রহিম রিপন।

বক্তারা বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শুধু একজন রাজনৈতিক নেতা নন, তিনি ছিলেন একটি রাজনৈতিক দর্শনের প্রতীক। স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পুনর্গঠনে তাঁর অবদান জাতি দীর্ঘদিন স্মরণ করবে।

আলোচনা সভা শেষে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা কামনা করা হয়।

ইএন/এসএ

Green Tea
সিলেট বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়