ঢাকা, রোববার ২৬ জুলাই ২০২৬,   শ্রাবণ ১১ ১৪৩৩

ইমরান আল মামুন

প্রকাশিত: ০৯:০২, ২৬ জুলাই ২০২৬

ভারতে উত্তাল ছাত্র আন্দোলন, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগে উল্লাস দিল্লি

ভারতের জাতীয় প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা ‘নিট’ (NEET)-এর প্রশ্নপত্র ফাঁস ও শিক্ষাব্যবস্থায় চরম অনিয়মের অভিযোগে টানা এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা নজিরবিহীন আন্দোলন অবশেষে বড় বিজয়ের মুখ দেখেছে। শিক্ষার্থীদের তীব্র দাবির মুখে ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছেন। এই ঘটনার পর দিল্লির যন্তর মন্তরসহ দেশটির বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনরত হাজার হাজার তরুণ-শিক্ষার্থী উল্লাসে ফেটে পড়েন।

গুগল টপ স্টোরিজ এবং ডিসকভার ফিডের পাঠকদের জন্য ভারতের ছাত্র আন্দোলনের খবর সংক্রান্ত ব্রেকিং আপডেট ও বিজয়ের পেছনের ঘটনা নিচে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।

এক নজরে ভারতে আন্দোলনের চিত্রপট

  • আন্দোলনের মূল কারণ: নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শিক্ষাব্যবস্থায় দুর্নীতির প্রতিবাদ।

  • আন্দোলনকারী প্ল্যাটফর্ম: তরুণদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)।

  • প্রধান কেন্দ্রবিন্দু: দিল্লির যন্তর মন্তর ও সংসদ ভবন এলাকা।

  • সর্বশেষ বড় ঘটনা: শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ও কেন্দ্রীয় সরকারের ৩টি দাবি মেনে নেওয়ার ঘোষণা।

ব্রেকিং নিউজ: ব্যারিকেড ভেঙে সংসদ অভিমুখে জনস্রোত ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ

দিল্লিতে সাম্প্রতিক সময়ে যা ঘটেছে, তা ভারত সরকারের জন্য সাম্প্রতিক বছরগুলোর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। আন্দোলনকারীরা সংসদ ভবনের নিরাপত্তা ব্যারিকেড ভেঙে মাত্র ১০০ মিটারের মধ্যে পৌঁছে গেলে পুলিশ টিয়ার গ্যাস এবং লাঠিচার্জ করে তা ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা চালায়।

তবে আন্দোলন দমানো যায়নি। লাগাতার বিক্ষোভ ও সারা দেশে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার মুখে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার নমনীয় হতে বাধ্য হয়। পদত্যাগের পর শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) তাঁর সিদ্ধান্তের কথা জানান।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের তোপে কেন্দ্রীয় সরকার যে বিষয়গুলো মেনে নিয়েছে:

১. পরীক্ষায় অনিয়মের শিকার শিক্ষার্থীদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া।

২. আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে করা সব মামলা ও এফআইআর প্রত্যাহার।

৩. পরীক্ষা সংস্কারে শিক্ষার্থীদের দেওয়া ৫ দফার রূপরেখা বিবেচনা করা।

আন্দোলনের স্পটলাইট: 'ককরোচ জনতা পার্টি' ও আমজনতার সমর্থন

"গণতন্ত্রের জয় হলো! আমাদের রাজপথের লড়াই কোনো সাধারণ পরীক্ষা ব্যবস্থার জন্য ছিল না, এটি ছিল তরুণদের মেধা সুরক্ষার লড়াই।"

সোশ্যাল মিডিয়া থেকে গড়ে ওঠা এই আন্দোলন শুধু সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; রিকশাচালক, শিক্ষক থেকে শুরু করে সাধারণ পরিবারগুলো রাজপথে ট্রাফিক সামলানো, খাদ্য ও পানি বিতরণে অংশ নেয়। দেশটির ক্রিকেট কিংবদন্তি শচীন টেন্ডুলকার ও বিশিষ্ট অধিকারকর্মী আন্না হাজারেও শিক্ষার্থীদের মেধা ও যোগ্যতার মূল্যায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে সংহতি জানান।

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়