ঢাকা, রোববার   ৩১ মে ২০২৬,   জ্যৈষ্ঠ ১৭ ১৪৩৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১০:০০, ৩১ মে ২০২৬
আপডেট: ১০:১৭, ৩১ মে ২০২৬

চীন বনাম ভারত: আগামী এশিয়ার নেতৃত্ব কার হাতে?

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্ব রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা এখন চীন ও ভারতের মধ্যে। জনসংখ্যা, অর্থনীতি, প্রযুক্তি, সামরিক সক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক প্রভাবের দিক থেকে দুটি দেশই দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। একদিকে চীন ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠিত বৈশ্বিক শক্তি হিসেবে নিজেকে সুসংহত করেছে, অন্যদিকে ভারতকে দেখা হচ্ছে আগামী দিনের সম্ভাবনাময় সুপারপাওয়ার হিসেবে।

জনসংখ্যা ও অর্থনৈতিক শক্তি
চীনের জনসংখ্যা প্রায় ১ দশমিক ৪১ বিলিয়ন এবং আয়তন প্রায় ৯ দশমিক ৬ মিলিয়ন বর্গকিলোমিটার। দেশটি বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি। উৎপাদনশিল্প, রপ্তানি, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং প্রযুক্তিগত অগ্রগতির মাধ্যমে চীন বৈশ্বিক অর্থনীতিতে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে।

অন্যদিকে ভারতের জনসংখ্যা প্রায় ১ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন, যা বর্তমানে বিশ্বের সর্বাধিক। দেশটির আয়তন প্রায় ৩ দশমিক ২৮ মিলিয়ন বর্গকিলোমিটার। বিশ্বের দ্রুত বর্ধনশীল বৃহৎ অর্থনীতিগুলোর অন্যতম ভারত তথ্যপ্রযুক্তি, সফটওয়্যার সেবা, মানবসম্পদ এবং অভ্যন্তরীণ বাজারের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।

চীনের শক্তি ও চ্যালেঞ্জ
চীন বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ উৎপাদনভিত্তিক অর্থনীতি। দ্রুতগতির রেল নেটওয়ার্ক, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বৈদ্যুতিক যানবাহন এবং মহাকাশ প্রযুক্তিতে ব্যাপক বিনিয়োগ দেশটিকে প্রযুক্তিগতভাবে শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে গেছে।

তবে চীনের সামনে কিছু গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জও রয়েছে। জনসংখ্যার বার্ধক্য বৃদ্ধি, রিয়েল এস্টেট খাতের সংকট, ঋণের চাপ এবং পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে বাণিজ্য ও কূটনৈতিক উত্তেজনা ভবিষ্যতে দেশটির প্রবৃদ্ধির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

ভারতের সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ
ভারত বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ আইটি ও সফটওয়্যার সেবা কেন্দ্র। মহাকাশ গবেষণায় দেশটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। তরুণ জনসংখ্যা, দ্রুত সম্প্রসারিত ডিজিটাল অর্থনীতি এবং শক্তিশালী স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম ভারতের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাকে আরও উজ্জ্বল করেছে।

তবে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, দারিদ্র্য, বৈষম্য এবং পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টির চ্যালেঞ্জ এখনও ভারতের উন্নয়নের পথে বড় বাধা হিসেবে রয়ে গেছে।

সামরিক ও কৌশলগত প্রতিযোগিতা
সামরিক বাজেট, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি এবং শিল্প সক্ষমতার ক্ষেত্রে চীন বর্তমানে ভারতের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে। বিশেষ করে নৌবাহিনী, ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি এবং প্রতিরক্ষা উৎপাদনে দেশটির অবস্থান শক্তিশালী।

অন্যদিকে ভারতও দ্রুত সামরিক আধুনিকায়নের পথে এগোচ্ছে। ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে দেশটির কৌশলগত গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, জাপান এবং ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বৈশ্বিক রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

প্রযুক্তি ও ভবিষ্যতের প্রতিযোগিতা
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বৈদ্যুতিক যানবাহন, উৎপাদনশিল্প এবং ৫জি অবকাঠামোর ক্ষেত্রে চীন বর্তমানে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। অন্যদিকে সফটওয়্যার, ডিজিটাল সেবা, স্টার্টআপ এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে ভারত দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে।

বিশ্বের বহু বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান এখন ‘চীন প্লাস ওয়ান’ কৌশলের অংশ হিসেবে ভারতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে, যা দেশটির অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে আরও জোরদার করছে।

আগামী ২০ বছরে নেতৃত্ব কার?
বর্তমান বাস্তবতায় অর্থনীতি, শিল্প উৎপাদন ও অবকাঠামোর ক্ষেত্রে চীন স্পষ্টভাবে এগিয়ে। তবে ভারতের তরুণ জনসংখ্যা, প্রযুক্তিখাতের বিস্তার এবং ধারাবাহিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আগামী দুই দশকে বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতের এশিয়া সম্ভবত এমন এক ভূখণ্ডে পরিণত হবে, যেখানে চীন ও ভারত উভয়ই নিজ নিজ ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দেবে এবং বিশ্ব রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করবে।

প্রশ্ন রয়ে যায়, আগামী ২০ বছরে এশিয়ার সবচেয়ে প্রভাবশালী শক্তি কোন দেশ হবে—চীন, ভারত, নাকি ভিন্ন ভিন্ন ক্ষেত্রে উভয় দেশই নেতৃত্ব দেবে?

ইএন/এসএ

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়