ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০৪ জুন ২০২৬,   জ্যৈষ্ঠ ২১ ১৪৩৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫:৩৯, ৪ জুন ২০২৬

তিয়েনআনমেন বিতর্কে যুক্তরাষ্ট্রকে চীনের পাল্টা জবাব

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং ও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। ছবি: সংগৃহীত

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং ও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। ছবি: সংগৃহীত

তিয়েনআনমেন স্কয়ারে ১৯৮৯ সালের দমন-পীড়ন নিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর মন্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে চীন। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ঐতিহাসিক তথ্য বিকৃত করছে এবং চীনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছে।

রাজনৈতিক সংস্কারের দাবিতে ১৯৮৯ সালের ৪ জুন বেইজিংয়ের তিয়েনআনমেন স্কয়ার ও এর আশপাশে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান চালায় চীনের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ওই ঘটনায় কতজন নিহত হয়েছিলেন, তার সঠিক সংখ্যা আজও জানা যায়নি। পাশাপাশি ঘটনাটি নিয়ে চীনের ভেতরে প্রকাশ্য আলোচনা ও স্মরণ অনুষ্ঠানও দীর্ঘদিন ধরে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত।

তিয়েনআনমেন ঘটনার ৩৭তম বার্ষিকী উপলক্ষে বুধবার দেওয়া এক বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, “সেন্সরশিপ কিংবা কড়াকড়ি আরোপ করে ১৯৮৯ সালের দমন-পীড়নের স্মৃতি মুছে ফেলা যাবে না। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও মানবাধিকারের জন্য যারা আত্মত্যাগ করেছিলেন, তারা একদিন অবশ্যই ন্যায়বিচার পাবেন।”

রুবিওর এ বক্তব্যের বিষয়ে বৃহস্পতিবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করা হলে মুখপাত্র মাও নিং বলেন, “সেই রাজনৈতিক অস্থিরতা সম্পর্কে চীন সরকার অনেক আগেই একটি স্পষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্রের এসব ভুল মন্তব্য ঐতিহাসিক সত্যকে বিকৃত করে, চীনের রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে কলঙ্কিত করে এবং দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের শামিল।”

এদিকে, তিয়েনআনমেন অভিযানে নিহতদের স্মরণে বুধবার তাদের কবরস্থানে প্রার্থনার উদ্যোগ নিয়েছিলেন স্বজনরা। তবে অভিযোগ উঠেছে, চীনা কর্তৃপক্ষ ওই কর্মসূচি পালনে বাধা দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা Amnesty International এ ধরনের পদক্ষেপকে ‘হৃদয়হীন কাজ’ বলে আখ্যায়িত করেছে এবং নিহতদের স্মরণে শান্তিপূর্ণ কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

তিয়েনআনমেন স্কয়ারের ঘটনাকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই মতপার্থক্য রয়েছে। মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের প্রশ্নে পশ্চিমা দেশগুলো যেখানে ঘটনাটির স্বাধীন তদন্ত ও স্মরণ অনুষ্ঠানের পক্ষে অবস্থান নেয়, সেখানে চীন এটিকে দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে বিবেচনা করে আসছে।

ইএন/এসএ

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়