ঢাকা, সোমবার ২৭ জুলাই ২০২৬,   শ্রাবণ ১২ ১৪৩৩

আবুজার বাবলা

প্রকাশিত: ২০:৪১, ২৭ জুলাই ২০২৬

বাওবাব কথা

ছবি: সাংবাদিক ফারুক আহমেদ

ছবি: সাংবাদিক ফারুক আহমেদ

একটি গাছ জড়িয়ে ধরতে ৩৫ থেকে ৪০ জন লোক লাগে। এর মানে দাঁড়ায়  গাছের গোড়ার ঘের ৫৪ দশমিক ৪ মিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে। এ গাছের গুঁড়ি ১০ হাজার লিটার পর্যন্ত পানি ধরে রাখতে পারে। যা কি-না শুষ্ক মৌসুমে স্থানীয়দের কাজে লাগে। আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলে এই গাছের পাতা সবজি হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। টাটকা পাতা এবং শুকনো গুঁড়ো দু'ভাবেই খাওয়া যায়। উত্তর নাইজেরিয়ায় এই পাতা কুকা নামে পরিচিত এবং এই পাতা কুকু স্যুপ তৈরিতে ব্যবহার হয়। জাপানের পেপসি কোম্পানি এই গাছ ব্যবহার করে বাওবাব পেপসি নামে সীমিত সংস্করণে টক স্বাদযুক্ত কার্বনেটেড পেপসি উৎপাদন করেছে।

অনুমান করা হয়, এ গাছের উৎপত্তি প্রায় ৬ হাজার বছর। পিরামিড থেকেও পুরনো। যিশুখ্রিস্টের জন্মের কয়েক হাজার বছর আগে এ গাছের জন্ম। এটি পৃথিবীর অন্যতম বৃহত্তম গাছ। শেষ গ্রীষ্মে গাছে ফুল ফোটে। ফুল সাদা বা হালকা গোলাপি। আকারেও বেশ বড় লম্বা বোঁটায় নিচের দিকে ঝুলে থাকে। ফুল ফোটে রাতের বেলায়, বাদুড় দ্বারা পলিনেটেড হয়। এর লম্বা ডাঁটার ঝুলন্ত বেলাকার সবুজ রঙা ফল অন্য রকম। শাঁসাল এই ফলে শিমবীজের মতো বাদামি রঙের বীজ থাকে। ফল শুকিয়ে গেলে মাছ ধরার জালে শোলা খণ্ডের মতো ব্যবহার হয়। এর শাঁস দিয়ে তৈরি করা হয় এক ধরনের সুপেয় পানীয়, যা কি-না ক্লান্তি দূর করে। বয়স্ক গাছের মাঝখানে গর্ত দেখা যায়। কোনো কোনো আফ্রিকান জাতি মৃতদেহ শুকানোর জন্য এই গাছের গর্ত বা খোড়ল ব্যবহার করে থাকে।

গাছটির নাম বাওবাব। দেখতে তেমন সুন্দর নয়। তবু তার আকর্ষণ-ক্ষমতা প্রবল। গোড়ার দিকে খুব মোটা হয়ে গাছটি ওপরের দিকে সরু হয়ে ওঠে। আর শুধু গঠনগত কারণেই বিশাল গাছটিকে কেমন বামন বামন মনে হয়। আর এ কারণেই বাওবাবের প্রতি মানুষের আর্কষণ। বাওবাব গাছ আমাদের দেশে নেই বললেই চলে। তবে রমনা উদ্যানে দুটি গাছ আছে। বলধা বাগানে একটি, কার্জন হলের উদ্ভিদ বাগানে একটি এবং ধানমণ্ডির লেকের পাশে একটি গাছ রয়েছে। এই হলো সর্বসাকল্যে আমাদের দেশের বাওবারের সংখ্যা ইতিহাস।

উদ্ভিদবিদ্যার শিক্ষক বৃক্ষসখা দ্বিজেন শর্মার সঙ্গে দেখা হলে তিনি প্রায়ই বলেন, 'বাওবাব হলো বাগানের সৌন্দর্য। আমাদের বাগানগুলোতে বাওবাব রোপণ করা দরকার।' সিকোয়া গাছ আবিষ্কারের আগে বাওবাবই ছিল পৃথিবীর বৃহত্তম গাছ। বৃক্ষসখা দ্বিজেনদার কথা আমার মনে ছিল, সেজন্য আমাদের ঢাকাভিত্তিক সংগঠন ঢাকাহেরিটেজের বন্ধুরা ২০১১ সালের দিকে দুটি বাওবাব গাছ নিসর্গী মোকারম হোসেনের কাছ থেকে সংগ্রহ করে ঢাকার অদূরে শ্রীপুরের কাছে গড়গড়িয়া মাস্টারবাড়িতে সুইস বেকারির কর্ণধার উলফাত কাদেরের বাংলোয় রোপণ করেছিলাম। সেদিন কাজের চাপে বৃক্ষসখা শ্রীপুর যেতে না পারলেও আমাদের সঙ্গী হয়েছিলেন পাখিবিশারদ ও লেখক শরীফ খান এবং কথাসাহিত্যিক এবং নিসর্গী বিপ্রদাশ বড়ূয়া। গাছ দুটি দিনে দিনে বড় হচ্ছে। গ্রীষ্ম বা বর্ষায় কোনো একদিন নিশ্চিত শুনব উলফাত ভাই বলছেন, তোমাদের বাওবাব গাছে ফুল ফুটেছে!

বাওবাব পর্ণমোচী গাছ। শুষ্ক মৌসুমে গাছ তার পাতা হারায়। গরমকালে গাছ আবার পাতায় পাতায় ভরে ওঠে। সে সময়ই গাছে ফুল ফোটে। একটি বাওবাব ফুল ঝুলন্ত ডগায় ঝুলে থাকে। ফুল দেখতে খুব সুন্দর। কিন্তু ফুলের গন্ধ নাকে নিতে গেলে এর কটূগন্ধে ছিটকে সরে আসতে হয়। ফুল ফোটে রাতের বেলা। বাদুড় দ্বারা পরাগায়িত। বাওবাব গাছের ইংরেজি প্রচলিত নাম বাওবাব। হিন্দিতে বলা হয় গোরাখ ইমলি। সংস্কৃত নাম সর্পগন্ধি। অনেকেই একে গাধা গাছ বলে থাকেন। আদি বাড়ি সেই আফ্রিকা। (সংকলিত) 

 ইএন/এসএ

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়