নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট: ২৩:১৬, ২৮ জুলাই ২০২৬
শ্রীমঙ্গলে ১৬ ফুট লম্বা অজগর উদ্ধার, নিরাপদে বনে অবমুক্ত
ছবি: আই নিউজ
বিশ্ব প্রকৃতি সংরক্ষণ দিবসে প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের গুরুত্বের এক বাস্তব উদাহরণ তৈরি হলো মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে। উপজেলার জাগছড়া চা বাগান থেকে প্রায় ১৬ ফুট দীর্ঘ ও ৩০ কেজি ওজনের একটি বিশাল আকৃতির অজগর সাপ উদ্ধার করেছে বন বিভাগ ও বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্ধারকারী দল।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে জাগছড়া চা বাগানের ১৭ নম্বর সেকশনে চা শ্রমিকরা বাগানে কাজ করার সময় হঠাৎ বিশাল আকৃতির অজগরটি দেখতে পান। সাপটি দেখে শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে তারা সাময়িকভাবে কাজ বন্ধ করে দেন।
পরে শ্রমিকরা বিষয়টি জাগছড়া চা বাগানের বাবু সেলিম মিয়াকে জানান। তিনি দ্রুত বন বিভাগ ও বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকে খবর দেন। খবর পেয়ে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল, পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ এবং বন বিভাগের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন। সতর্কতার সঙ্গে পরিচালিত অভিযানে অজগরটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা জানান, অজগরটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১৬ ফুট এবং ওজন প্রায় ৩০ কেজি। প্রাথমিকভাবে এটি সুস্থ রয়েছে। প্রয়োজনীয় পর্যবেক্ষণ শেষে উপযুক্ত বনাঞ্চলে নিরাপদে অবমুক্ত করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অজগর বিষধর নয় এবং সাধারণত মানুষের ওপর আক্রমণ করে না। বনাঞ্চল সংকুচিত হওয়া, খাদ্যের সন্ধান এবং প্রাকৃতিক আবাসস্থলের পরিবর্তনের কারণে অনেক সময় এসব সাপ লোকালয়ে বা চা বাগানের মতো সবুজ এলাকায় চলে আসে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত হয়ে সাপ হত্যা না করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে খবর দেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ ও দায়িত্বশীল পদক্ষেপ।
প্রকৃতিবিদদের ভাষ্য, অজগর পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ইঁদুরসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর প্রাণীর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে এ প্রজাতির সাপ কার্যকর ভূমিকা রাখে। ফলে কৃষি ও বনজ পরিবেশের জন্য অজগর একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্যপ্রাণী।
বিশ্ব প্রকৃতি সংরক্ষণ দিবসে এমন একটি উদ্ধার অভিযান মানুষকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং বন্যপ্রাণীর নিরাপদ আবাস নিশ্চিত করা শুধু সরকারি সংস্থার দায়িত্ব নয়, বরং স্থানীয় জনগণ, চা শ্রমিক, পরিবেশকর্মী এবং বন বিভাগের সমন্বিত উদ্যোগই প্রকৃতি সংরক্ষণে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
স্থানীয় পরিবেশকর্মীরা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে মৌলভীবাজারের বিভিন্ন চা বাগান ও বনসংলগ্ন এলাকায় বন্যপ্রাণী উদ্ধারের ঘটনা বেড়েছে। এটি একদিকে এলাকার সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্যের পরিচয় বহন করলেও অন্যদিকে বনাঞ্চলের ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ ও মানুষের সঙ্গে বন্যপ্রাণীর সংঘাতের বিষয়টিও সামনে নিয়ে আসছে। তাই বন সংরক্ষণ, প্রাকৃতিক আবাসস্থল রক্ষা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।
ইএন/এসএ
- দুলাভাইয়ের ধর্ষণের শিকার শ্যালিকা
- মৌলভীবাজারের রাজনগরে
আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেল বিধবা রুবির বিউটি পার্লার - `প্রধানমন্ত্রীর কথা বলে আমাদের ধোকা দেওয়া হচ্ছে`
- রাখাল নৃত্যের মধ্য দিয়ে কমলগঞ্জে রাস উৎসব শুরু
- কমলগঞ্জে মাদকবিরোধী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত
- মেয়ের বাড়িতে ইফতার: সিলেটি প্রথার বিলুপ্তি চায় নতুন প্রজন্ম
- দেশের চতুর্থ ধনী বিভাগ সিলেট
- অবশেষে ক্লাস করার অনুমতি পেল শ্রীমঙ্গলের শিশু শিক্ষার্থী নাঈম
- শ্রীমঙ্গল টু কাতারে গড়ে তুলেছেন শক্তিশালি নেটওয়ার্ক
মৌলভীবাজারে অনলাইন জুয়ায় রাতারাতি কোটিপতি সাগর - এসএসসির ফলাফলে বিভাগে ৩য় স্থানে মৌলভীবাজার
























