গৌরব দাশ নয়ন
আপডেট: ২৩:১৩, ১১ মে ২০২৬
হামে শিশুমৃত্যু ও ড. ইউনুসের দায়
গৌরব দাশ নয়ন
বাংলাদেশে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে প্রায় ৪০০ শিশু। এটা রিপোর্টেড নাম্বার বা সরকারি হিসেব, প্রকৃত সংখ্যা আরো অনেক বেশি হবে। আমার পড়াশোনা ও কর্মক্ষেত্র জনস্বাস্থ্য ও রোগ প্রতিরোধ বিষয়ক বিধায়, অন্য পাঁচ জনের চেয়ে একটু হলেও ভালো বুঝি এই মহা মর্মান্তিক ঘটনার কারণ, পটভূমি ও এর সংগে জড়িত দুঃখজনক অবহেলা কত গভীর। তাই এটা নিয়ে না লিখলে নিজের বিবেক কখনো ক্ষমা করবে না।
১৯৮৯ সালে এতে যুক্ত হয় হামের টিকা। পরবর্তী সকল সরকার এটা কন্টিনিউ করে। ২০০০-২০১৮ সালের মধ্যে সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে সফলতা ও হাম নির্মূলের জন্য বাংলাদেশ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ভূয়সী প্রশংসা লাভ করে।
এমন যখন অবস্থা ছিল, কীভাবে ২০২৬ সালে সেই দেশের শত শত শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে? শত শত পরিবার সারা জীবনের জন্য নরকের যন্ত্রণায় থাকতে বাধ্য হল?
হাম, ইংরেজিতে যাকে বলে Measles, একটি ভাইরাস জনিত রোগ যা বাতাসের মাধ্যমে আক্রান্ত ব্যক্তির থেকে ছড়ায়। মুখ ও শরীরে লাল ফুসকুড়ি বা র্যাশ হামের অন্যতম চিহ্ন হলেও বাকি উপসর্গগুলোর মধ্যে উচ্চ জ্বরসহ সর্দি কাশি প্রধান। নানা বয়েসের মানুষরা আক্রান্ত হলেও, শিশুদের জন্য এটি মারাত্বক। অনেক ক্ষেত্রে মৃত্যুও হতে পারে।
১৯৬৩ সালে টিকা আবিষ্কার ও ধারাবাহিক প্রয়োগের আগ পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে লক্ষ লক্ষ মানুষ হামে মারা যেত। তবে এরপর থেকে হাম নিয়ন্ত্রয়ে আসে, মৃত্যু কমে যাওয়া থেকে অনেক দেশে হাম নির্মূল হয়ে যায়।
একটি নিম্ন আয়ের দেশ হওয়া স্বত্তেও স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশ স্বাস্থ্য খাতে ব্যাপক উন্নতি সাধন করে। গড় আয় বৃদ্ধি, মাতৃ মৃত্যুর হার হ্রাস সহ হাম ও অন্যান্য সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে সফলতা ছিল ঈর্ষনীয়। ১৯৭৯ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময়কালে শুরু হওয়া ই পি আই প্রোগ্রাম দিয়ে টিকাদান ও ভিটামিন ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে সংক্রামক ব্যাধির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ শুরু হয়, ১৯৮৯ সালে এতে যুক্ত হয় হামের টিকা। পরবর্তী সকল সরকার এটা কন্টিনিউ করে। ২০০০-২০১৮ সালের মধ্যে সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে সফলতা ও হাম নির্মূলের জন্য বাংলাদেশ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ভূয়সী প্রশংসা লাভ করে।
এমন যখন অবস্থা ছিল, কীভাবে ২০২৬ সালে সেই দেশের শত শত শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে? শত শত পরিবার সারা জীবনের জন্য নরকের যন্ত্রণায় থাকতে বাধ্য হল?
এর কারণ একজন নোবেল জয়ীর অপরিনামদর্শী বা অবহেলাপূর্ণ সিদ্ধান্ত। প্রায় দুইটি বছর শিশুদের হামের টিকা দেয়া হল না, টিকা কেনা হল না। উনার নেতৃত্বে একজন চরম অযোগ্য এনজিওর কর্মকর্তাকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হল! যার খেসারত দিল ছোট্ট নবজাতক শিশুরা। জানিনা তারা কোন দল করত, কোনপন্থী ছিল, ড. ইউনুসের সমালোচনা করত কিনা আমার মত।
ড. ইউনুস ২০০৬ সালে নোবেল পুরষ্কার লাভ করেন, তাও শান্তিতে। একজন উচ্চসুদের কারবারি কীভাবে বা কেন শান্তিতে নোবেল লাভ করল সেই ছোট্ট বয়েসে মনে প্রশ্ন জাগলেও, তখন আমরা খুশিই ছিলাম। ধীরে ধীরে জানাশোনার গন্ডি যখন বাড়ল তখন বুঝলাম তিনি একজন বৈশ্বিক লেভেলের বাটপার, ডিপ স্টেটের এজেন্ট। গত দুই বছরে আরো পরিষ্কার হল তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিরোধী, সাম্প্রদায়িক ও মববাজির জনক।
এতকিছুর পরও ড. ইউনুসের শিক্ষাদীক্ষা, বৈশ্বিক কানেকশন ও একটা ন্যূনতম কমনসেন্সের কথা ভাবলে কীভাবে তিনি ও তার উপদেষ্টারা এই টিকা কেনা বন্ধ রাখলেন এবং অবুঝ শিশুদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিলেন তা মাথায় আসেনা! এমনকি উনার বিদেশী প্রভুদের থেকে যদি বেশি দামেও টিকা কিনত তাও মাসুম বাচ্চাগুলো আজ মরত না।
আরো আশ্চর্য এই শিশু মৃত্যু নিয়ে ন্যুনতম অপরাধবোধ বা অন্তত একটা বিবৃতি দেয়ারও প্রয়োজন মহাজন অনুভব করেন নি! অথচ বিলিয়নার টেড টার্নারের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন ঠিকই।
আমার জানামতে বর্তমান সরকার প্রায় পৌনে দুই কোটি টিকা দিয়েছে, তাদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। আশা করি তারা সকল প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। আমি মনে করি আগের যে গাফিলতি হয়েছে এটার সুষ্ঠু নিরপেক্ষ তদন্ত করে ফলাফল জাতির সামনে তুলে ধরাও তাদের দায়িত্ব। সকল ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী ও সংশ্লিষ্টদের তাদের সুমহান সেবা কাজের জন্য ও বাচ্চাদের রক্ষার জন্য চেষ্টার জন্য কৃতজ্ঞতা জানাই।
গৌরব দাশ নয়ন, এমপিএইচ (MPH), এমসিএইচইএস (MCHES), হেলথ অপারেশনস ডিরেক্টর, নিউ ইয়র্ক ন্যাটিভ আমেরিকান কাউন্সিল (NYIC) নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র
ইএন/এসএ
আরো পড়ুন:
- বাংলাদেশে শিশু শ্রম: কারণ ও করণীয়
- পনেরো আগস্ট পরবর্তী রাজনৈতিক দ্বন্ধ
মোশতাক বললেও মন্ত্রীদের কেউ সেদিন বঙ্গবন্ধুর লাশের সঙ্গে যায়নি! - ২০২৩ সালে কী সত্যিই ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ আসছে?
- করোনা যেভাবে চিকিৎসকদের শ্রেণীচ্যুত করলো
- চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সমস্যা এবং সম্ভাবনা
- ফিলিস্তিনে প্রাণ হারাচ্ছেন গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা
- ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের কুকুর স্থানান্তরকরণ ও ভবিষ্যৎ
- শরীফার গল্প পড়তে আমাদের এতো কেন সমস্যা?
- মহান মুক্তিযুদ্ধে বিদেশী গণমাধ্যমের ভূমিকা
- রেমডেসিভির একটি অপ্রমাণিত ট্রায়াল ড্রাগ
























