ঢাকা, মঙ্গলবার   ১২ মে ২০২৬,   বৈশাখ ২৮ ১৪৩৩

জান্নাতুল ফেরদৌস ডলি

প্রকাশিত: ১৮:৪৬, ১১ মে ২০২৬
আপডেট: ২৩:১৯, ১১ মে ২০২৬

অন্ধকারে জনজীবন

জান্নাতুল ফেরদৌস ডলি

জান্নাতুল ফেরদৌস ডলি

বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাত গত এক দশকে অনেক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেছে। একসময় যেখানে লোডশেডিং ছিল নিত্যদিনের বিষয়, এখন সেখানে দেশের প্রায় সব জায়গায় বিদ্যুৎ পৌঁছে গেছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে আবার লোডশেডিং বেড়ে যাওয়ায় মানুষ বিভিন্ন ভাবে উদ্বেগের স্বীকার হচ্ছে।

বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাত একদিকে উন্নয়নের এক অবিস্মরণীয় দৃষ্টান্ত- যেখানে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার অবদান ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। কিন্তু একই সঙ্গে বর্তমান বাস্তবতা আমাদের সামনে কঠিন কিছু প্রশ্নও তুলে ধরছে। এই অর্জনকে টেকসই রাখা এবং বিদ্যুৎ খাতকে কার্যকরভাবে পরিচালনা করা আজ সেটিই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ, এবং সেই প্রশ্নের উত্তর এখন সময়ের কাঠগড়ায়।

দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাত্রা অনেকাংশেই কম ছিল ২০০৯ সালের আগে। প্রায়ই দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ থাকত না। শহর ও গ্রাম প্রায় সব জায়গায় মানুষ কষ্ট পেত, বিশেষ করে স্কুল/কলেজ পড়ুয়া ছাত্রছাত্রীরা পড়াশোনায় প্রচন্ড ব্যাঘাত ঘটতো, আর শিল্প-কারখানাও ঠিকমতো চলতে পারত না।

বিদুৎ খাতের এই অবনতি প্রায় শেষাংশ হয়ে উন্নতির ধারায় পৌঁছে ২০০৯ সালে যখন আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসে বাংলাদেশে। আওয়ামী লীগ সরকার বিদ্যুৎ খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে ধীরে ধীরে অনেক নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরি করেছিল যা মানুষের ভোগান্তির সমাপ্তিতে সহযোগী হয়।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২৫,০০০ মেগাওয়াটের বেশি হয়েছে (সূত্র: বাংলাদেশসংবাদসংস্থা)।

এছাড়া: প্রায় ৯৯% মানুষ বিদ্যুতের আওতায় এসেছে (সূত্র: ওয়ার্ল্ড নিউক্লিয়ার এসোসিয়েশন)।

গ্রামাঞ্চলেও বিদ্যুৎ পৌঁছেছে, শিল্প ও ডিজিটাল খাতে উন্নয়ন হয়েছে, তার মধ্যেবড় বড় প্রকল্প রয়েছে (যেমন রঞ্জুর নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট)। ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে আশাবাদী।

সব মিলিয়ে, এই সময় কে অনেকেই বিদ্যুৎ খাতের বড় উন্নয়নের সময়" বলে মনে করেন।

কিন্তু ইদানীং গ্রামে, গঞ্জে যেভাবে ব্যাপক হারে লোডশেডিং বেড়েছেতা নিউজ পোর্টাল খুললেই বড় বড় পাতায় চোখে পড়ছে, মানুষের আহাজারি, প্রচন্ড গরমে সাধারণ মানুষের অস্বস্তি, পড়াশোনায় অমনোযোগীতা বৃদ্ধি, ব্যবসা-বাণিজ্য অবনতি।

এত উন্নয়ন হওয়ার পরও এখন কেন এত লোডশেডিং হচ্ছে- এটাই বড় প্রশ্ন। তবে এত লোডশেডিং এর মূল কারণ হিসেবে যা অবহিতি করা যায়, তা হল

১. গ্যাস সংকট
বিদেশ থেকে গ্যাস আমদানি নানা কারণে ব্যাহত হচ্ছে। দেশীয় গ্যাসের উৎপাদনও কমে গেছে।

২. ডলার সংকট
বিদেশ থেকে কয়লা, তেল ও গ্যাস কিনতে ডলার প্রয়োজন। বর্তমানে সেই ডলারের সংকট প্রকট।

৩. বিদ্যুৎ কেন্দ্র থাকলেও সব চালুনয়
অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপিত হলেও জ্বালানির অভাবে সেগুলোর একটি বড় অংশ বন্ধবা আংশিক চালুথাকে।

৪. গরমে চাহিদা বেড়ে যাওয়া
গ্রীষ্ম মৌসুমে হঠাৎ বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সংকট আরও তীব্র হয়। (সূত্র: দ্য ওয়ার্ল্ড ব্যাংক-এনার্জি সেক্টর এনালাইসিস)

বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে আজ একটি মিশ্র চিত্র স্পষ্ট।

একদিকে, গত দেড় দশকে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতায় অভূতপূর্ব বৃদ্ধি ঘটেছে- যা দেশের উন্নয়নের একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করেছে। একসময় যেখানে লোডশেডিং ছিল নিত্যদিনের বাস্তবতা, সেখানে বিদ্যুৎ অবকাঠামো আজ বহুগুণ বিস্তৃত। কিন্তু বর্তমান লোডশেডিং পরিস্থিতি এতটাই নাজেহাল মানুষ আদিকালের মতো হাড়িকেন জ্বালাতে বাধ্য হচ্ছে।

অন্যদিকে, জ্বালানি সংকট, বৈশ্বিক বাজারের চাপ এবং অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার কারণে সেই অর্জিত সক্ষমতাকে পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না। ফলে সক্ষমতা থাকলেও সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হচ্ছে।

বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাত একদিকে উন্নয়নের এক অবিস্মরণীয় দৃষ্টান্ত- যেখানে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার অবদান ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। কিন্তু একই সঙ্গে বর্তমান বাস্তবতা আমাদের সামনে কঠিন কিছু প্রশ্নও তুলে ধরছে। এই অর্জনকে টেকসই রাখা এবং বিদ্যুৎ খাতকে কার্যকরভাবে পরিচালনা করা আজ সেটিই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ, এবং সেই প্রশ্নের উত্তর এখন সময়ের কাঠগড়ায়।

জান্নাতুল ফেরদৌস ডলি, কবি ও সাংবাদিক, লন্ডন

ইএন/এসএ

Green Tea