Bilas Moulvibazar, Bilas

ঢাকা, সোমবার   ৩০ মার্চ ২০২৬,   চৈত্র ১৬ ১৪৩২

সংগ্রাম দত্ত

প্রকাশিত: ১৭:৩১, ৩০ মার্চ ২০২৬

ভাষা সৈনিক আমিনা আহমেদের বিদায়: এক সংগ্রামী জীবনের অবসান

আমিনা আহমেদ

আমিনা আহমেদ

দেশের প্রগতিশীল রাজনীতি ও ভাষা আন্দোলনের এক উজ্জ্বল নাম, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ-মোজাফফর) এর সাবেক সভাপতি, ভাষা সৈনিক ও সাবেক জাতীয় সংসদ সদস্য আমিনা আহমেদ আর নেই। শনিবার (২৮ মার্চ ২০২৬) সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯১ বছর।

দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন এই বরেণ্য রাজনীতিক। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি এক কন্যা ও জামাতাসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী, সহযোদ্ধা ও শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন। তাঁর প্রয়াণে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

উল্লেখ্য, তিনি ছিলেন কুঁড়েঘর নির্বাচনী প্রতীক ও সৎ, ত্যাগী, আদর্শবান ও তাত্ত্বিক রাজনীতিবিদ ন্যাপের সভাপতি অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের সহধর্মিনী—যা তাঁদের জীবনদর্শনের সরলতা ও ত্যাগের এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত।

আমিনা আহমেদের রাজনৈতিক জীবন ছিল আদর্শ, সংগ্রাম ও ত্যাগে ভরপুর। ১৯৫৭ সালে মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির সঙ্গে তিনি সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন। পরবর্তীতে ১৯৬৭ সালে দলটি বিভক্ত হলে তিনি ন্যাপ (মোজাফফর) ধারার রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

পাকিস্তান আমলে ন্যাপ ছিল একটি শক্তিশালী বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি, যা গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা রাখে। আমিনা আহমেদ সেই ধারারই একজন সাহসী কণ্ঠস্বর হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে বিভিন্ন গণআন্দোলনে তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণ তাঁকে করে তুলেছিল এক অনন্য সংগ্রামী ব্যক্তিত্ব।

১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের পর ন্যাপ (মোজাফফর) দেশের প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়। ১৯৭৩ সালের নির্বাচনের পর দলটি নানা রাজনৈতিক চাপে পড়ে এবং ১৯৭৫ সালের পটপরিবর্তন ও পরবর্তী আন্তর্জাতিক-জাতীয় রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দলটির সাংগঠনিক শক্তি ক্রমশ ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। তবুও আদর্শনিষ্ঠ ও ত্যাগী নেতৃত্বের কারণে দলটি দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতিতে একটি স্বতন্ত্র পরিচয় বজায় রেখেছে।

এই দীর্ঘ পথচলায় আমিনা আহমেদ ছিলেন সততা, আদর্শ ও গণমানুষের প্রতি অঙ্গীকারের প্রতীক। তাঁর নেতৃত্বে ন্যাপ (মোজাফফর) সংগঠনের ভেতরে গণতান্ত্রিক চর্চা ও প্রগতিশীল রাজনীতির চর্চা জোরদার হয়।

তাঁর মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে। বিশিষ্টজনেরা তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

একজন ভাষা সৈনিক, একজন নির্ভীক রাজনীতিক এবং একজন মানবিক নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবে আমিনা আহমেদের অবদান দেশের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর প্রয়াণে জাতি হারালো এক নিবেদিতপ্রাণ সংগ্রামীকে, যার জীবন ও আদর্শ আগামী প্রজন্মকে পথ দেখাবে।

ইএন/এসএ

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়