ঢাকা, মঙ্গলবার   ১২ মে ২০২৬,   বৈশাখ ২৯ ১৪৩৩

নূরুর রহিম নোমান

প্রকাশিত: ১৭:৪৬, ১২ মে ২০২৬
আপডেট: ১৮:১৪, ১২ মে ২০২৬

রিফর্ম ইউকে কি পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনে জয়ী হতে পারবে?

নাইজেল ফারাজ (বামে) ও নূরুর রহিম নোমান (ডানে)

নাইজেল ফারাজ (বামে) ও নূরুর রহিম নোমান (ডানে)

অসন্তুষ্ট টোরি ও লেবার ভোটারদের ঢেউয়ে ভর করে নাইজেল ফারাজ এখন জনপ্রিয়তার শীর্ষে এবং রিফর্ম ইউকে ব্রিটিশ রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। স্থানীয় নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য, ধারাবাহিক জনমতে এগিয়ে থাকা এবং অভিবাসন ও অর্থনৈতিক অসন্তোষকে রাজনৈতিক শক্তিতে রূপ দেওয়ার সক্ষমতায় — নাইজেল ফারাজ কি ব্রিটেনের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন? 

জনমত জরিপে রিফর্ম এখন সব দলের চেয়ে এগিয়ে—সমর্থন ২৫ থেকে ৩০ শতাংশের মধ্যে। তাই স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে: রিফর্ম কি ব্রিটেনের পরবর্তী সরকার গঠন করবে? বিষয়টা এত সহজ নয়।

যেকোনো মানদণ্ডে বিচার করলে এই নির্বাচনী পর্বে রিফর্ম ইউকে ভালো ফল করেছে। ইংল্যান্ডের যেসব কাউন্সিল আসনে ভোট হয়েছিল, তার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ তারা জিতেছে; ওয়েলসেও তাদের ফল চোখে পড়ার মতো। জনমত জরিপে রিফর্ম এখন সব দলের চেয়ে এগিয়ে—সমর্থন ২৫ থেকে ৩০ শতাংশের মধ্যে। তাই স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে: রিফর্ম কি ব্রিটেনের পরবর্তী সরকার গঠন করবে? বিষয়টা এত সহজ নয়।

এই জনপ্রিয়তা ও স্থানীয় নির্বাচনে ভালো ফলাফল সত্ত্বেও, রিফর্ম যে খুব সহজে পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করবে— এমন সিদ্ধান্তে  এখনই পৌঁছানো খুব তাড়াহুড়ো হবে।

স্থানীয় নির্বাচন কি সাধারণ নির্বাচনের নির্ভরযোগ্য পূর্বাভাস? সংক্ষিপ্ত উত্তর: না—অন্তত সাধারণ নির্বাচনের এত আগে নয়। যদিও  স্থানীয় নির্বাচনে রিফর্ম এবং গ্রীন পার্টির কাছে ব‍্যাপক সংখ‍্যক সিট হারানোর কারণে বিপর্যস্ত লেবার পার্টি এবং প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার দলের নেতৃত্ব থেকে সরে যাওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি হয়েছে। তবে— কোনো বড় অঘটন না ঘটলে বা প্রধানমন্ত্রী আগেভাগে নির্বাচন না ডাকলে পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন সম্ভবত ২০২৯ সালের আগে হবে না।

এখন নির্বাচন হলে লেবারের হারার আশঙ্কাই বেশি। তাদের হাতে এখন ১৬৫ আসনের বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠতা। ফলে উপনির্বাচনে হার, কাউন্সিলে ধস, দলত্যাগ বা পার্লামেন্টে বিদ্রোহ—এসব কারণে সরকার পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ।

অতীতে অনেক সরকার অল্প সময়ের মধ্যে নাটকীয়ভাবে বেশ জনপ্রিয়তা ফিরে পেয়েছে, যদিও শেষ পর্যন্ত জয়ী হতে পারেনি। এবার চ্যালেঞ্জ হয়তো আরও কঠিন, এবং ভোটাররাও আগের চেয়ে অনেক বেশি অস্থির।

আরেকটি বিষয় মনে রাখা দরকার: লিবারেল ডেমোক্র্যাটদের মতো কিছু দল স্থানীয় নির্বাচনে সাধারণ নির্বাচনের চেয়ে ভালো করে। উপনির্বাচনের মতো স্থানীয় নির্বাচনেও ভোটাররা প্রায়ই প্রতিবাদী ভোট দেন, যা সাধারণ নির্বাচনে এলে অনেকটাই ভিন্ন যায়।

ইলেক্টোরাল ক্যালকুলাসের সর্বশেষ বিশ্লেষণ অনুযায়ী, রিফর্ম পেত ১৮৮টি আসন—ঐতিহাসিক বিচারে বিশাল সাফল্য, কিন্তু সংখ্যালঘু সরকার গঠনের জন্যও হয়তো যথেষ্ট নয়। একই বিশ্লেষণে কনজারভেটিভরা পেত ১৫৯টি আসন। গাণিতিক হিসাবে দুই দলের মধ্যে কোনো সমঝোতা সম্ভব, তবে তাদের সম্মিলিত আসন প্রায় ৩৪৭—DUP যোগ করলেও সংখ্যাগরিষ্ঠতার ব্যবধান থাকবে খুবই সামান্য। একই জরিপে লেবার পাবে ৮৬টি আসন, গ্রিন পার্টি ৭১, লিবারেল ডেমোক্র্যাট ৬১ এবং SNP ও Plaid Cymru মিলিয়ে ৬১।

এখন নির্বাচন হলে রিফর্ম কি জিতত? সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য আসনভিত্তিক জরিপগুলো বলছে, এখন নির্বাচন হলে রিফর্ম সম্ভবত হাউস অব কমন্সে সবচেয়ে বড় দল হতো, কিন্তু এককভাবে সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেত না।

ইলেক্টোরাল ক্যালকুলাসের সর্বশেষ বিশ্লেষণ অনুযায়ী, রিফর্ম পেত ১৮৮টি আসন—ঐতিহাসিক বিচারে বিশাল সাফল্য, কিন্তু সংখ্যালঘু সরকার গঠনের জন্যও হয়তো যথেষ্ট নয়। একই বিশ্লেষণে কনজারভেটিভরা পেত ১৫৯টি আসন। গাণিতিক হিসাবে দুই দলের মধ্যে কোনো সমঝোতা সম্ভব, তবে তাদের সম্মিলিত আসন প্রায় ৩৪৭—DUP যোগ করলেও সংখ্যাগরিষ্ঠতার ব্যবধান থাকবে খুবই সামান্য। একই জরিপে লেবার পাবে ৮৬টি আসন, গ্রিন পার্টি ৭১, লিবারেল ডেমোক্র্যাট ৬১ এবং SNP ও Plaid Cymru মিলিয়ে ৬১।

যে পরিস্থিতিই হোক, ফারাজ ও তার সহকর্মীরা সীমাবদ্ধতার মধ্যে থাকবেন এবং পুরো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে পারবেন না। এমনকি ফারাজ প্রধানমন্ত্রিত্বের দাবি করলে, কনজারভেটিভদের পক্ষে তা মেনে নেওয়া রাজনৈতিকভাবে অসম্ভব হবে। আবার কনজারভেটিভের সাথে সমঝোতা করলে ফারাজ এবং রিফর্মের এস্টাবলিশমেনট-বিরোধী রাজনৈতিক পরিচয়ও দুর্বল হয়ে পড়বে।

স্থানীয় সরকারে রিফর্ম: ক্ষমতার আসল পরীক্ষা ২০২৪ সালের মে মাসে রিফর্ম ১১টি কাউন্সিলের নিয়ন্ত্রণ পায়। কিন্তু সেখানে তাদের কার্যক্ষমতা ছিল সাধারণ থেকে একেবারে বিপর্যয়কর।

১১টি রিফর্ম কাউন্সিলের একটিও কাউন্সিল ট্যাক্স কমানোর প্রতিশ্রুতি রাখেনি—বরং সবাই ট্যাক্স বাড়িয়েছে, ওর্চেস্টারশায়ারে তো একটানা নয় শতাংশ পর্যন্ত। ব্যয় সংকোচনের যে বড় বড় প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা বাস্তবায়নে তারা সামান্যই এগোতে পেরেছে—কারণ কাউন্সিলগুলোর বাজেট আগে থেকেই শূন্যের কোঠায় নামানো ছিল, আর কাটছাঁটের সুযোগ ছিল না বললেই চলে। 

৬০-এরও বেশি রিফর্ম কাউন্সিলর পদ ছেড়ে দিয়েছেন বা দল ত্যাগ করেছেন। স্টাফোর্ডশায়ারে দলের কাউন্টি কাউন্সিল নেতাকে অতীত বর্ণবাদের অভিযোগে পদত্যাগ করতে হয়; তাঁর স্থলাভিষিক্তকেও একই কারণে সরে যেতে হয়। এবার আরও ১২টি কাউন্সিল রিফর্মের হাতে গেছে। ফলে ফারাজের দল ক্ষমতায় এলে কেমন চলে—সে বিষয়ে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের র হাতে আরও বেশি প্রমাণ জমবে।

তবে ব্যক্তিগত ব্যর্থতা, বর্ণবাদের অভিযোগ, ভাঙা প্রতিশ্রুতি—সব কিছুর পরও রিফর্মের মূল সমর্থনভিত্তি, অর্থাৎ ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ ভোটার, সম্ভবত টলবে না। তাঁরা হয়তো বলবেন, রিফর্ম অন্য দলগুলোর চেয়ে খারাপ কিছু করেনি; আর একমাত্র ফারাজই  ব্রিটেনকে সত্যিকারের পরিবর্তন এনে দিতে পারবেন— যে পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি লেবার পার্টি দিয়েও বাস্তবায়ন করতে পারেনি।

তবু ফারাজের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা কম! পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনে দুটো বড় কারণ ফারাজকে ডাউনিং স্ট্রিট থেকে দূরে রাখবে। প্রথমত, তার অর্থনৈতিক নীতিমালার অস্পষ্টতা এবং বারবার অবস্থান বদলাতে দেখা গেছে। ভোটাররা ক্রমশ সন্দিহান হয়ে পড়বেন—অর্থনৈতিক সংকট সামলাতে তিনি আদৌ সঠিক মানুষ কিনা। দ্বিতীয়ত, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি। পুতিন ও ট্রাম্পের চাপের মুখে ইউরোপকে একত্রিত রাখার মতো কূটনৈতিক নেতৃত্বের কাজটি কি করতে পারবেন চিরকালের ব্রেক্সিটপন্থী এই নেতা—সেটিও বড় প্রশ্ন।

এছাড়া ফারাজের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বাবদ প্রাপ্ত অনুদানের দানের ৫ মিলিয়ন পাউন্ড নিয়েও স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতার  প্রশ্ন উঠেছে—এই অর্থ নির্বাচনী ব্যয়ে ব্যবহৃত হয়েছে কিনা, নির্বাচন কমিশনকে জানানো হয়েছে কিনা। ক্ষমতায় যাওয়ার পথে রিফর্মকে ক্রমবর্ধমান জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হবে।

কৌশলগত ভোটিং রিফর্মের বড় বাধা হতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে রিফর্মের সবচেয়ে বড় কাঠামোগত সমস্যা হলো ব্রিটেনের First-Past-The-Post নির্বাচন ব্যবস্থা। এই ব্যবস্থায় জাতীয়ভাবে ৩০ শতাংশ ভোট পাওয়া মানেই ব্যাপক আসন জেতা নয়। বরং অনেক আসনে দ্বিতীয় হয়েও  দল বিপুলসংখ্যক আসন ট লস্ট করতে পারে।

যেসব আসনে রিফর্ম জয়ের অবস্থানে থাকবে, সেখানে লেবার, লিবারেল ডেমোক্র্যাট, গ্রিন অথবা কনজারভেটিভ সমর্থকদের একটি অংশ সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বীর পক্ষে একত্রিত হতে পারে। সাম্প্রতিক কয়েকটি উপনির্বাচনে এই প্রবণতা দেখা গেছে।

আর এবারের কাউন্সিল নির্বাচনের মতো নয়, পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনে কৌশলগত ভোটদান অনেক বেশি দেখা যাবে। ক্যারফিলি এবং গর্টন ও ডেন্টনের উপনির্বাচনে যেমন দেখা গেছে, ভোটাররা দল বেঁধে রিফর্মের বিরুদ্ধে নামবেন—ফারাজ নিজে তার নিজের আসনেও বারবার এই প্রবণতার শিকার হয়েছেন।

আসনে আসনে ভোটাররা ঐক্যবদ্ধ হবেন সেই প্রার্থীর পেছনে, যিনি রিফর্মকে হারানোর সবচেয়ে ভালো অবস্থানে আছেন। অর্থাৎ ফারাজ বিরোধী ভোট একত্রিত হওয়ার সম্ভাবনা যত বাড়বে, রিফর্মের জন্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন তত কঠিন হবে।

রিফর্মের সমর্থনের কি কোনো সীমা আছে? ফারাজ হয়তো বলবেন, সীমাবদ্ধতা নেই। কিন্তু বাস্তবে ৩০ শতাংশের বেশি সমর্থন পাওয়া তাদের জন্য কঠিন হচ্ছে। ২০২৫ সালের স্থানীয় নির্বাচনে দলটি প্রায় ৩০ শতাংশ ভোট পেয়েছিল, এখন তা ২৭ শতাংশে নেমে এসেছে। প্রশ্ন হলো—এটাই কি তাদের সর্বোচ্চ সীমা?

রিফর্মের সমর্থনভিত্তি মূলত তিন শ্রেণিতে: অভিবাসনবিরোধী ভোটার, হতাশ লেবার-কনজারভেটিভ সমর্থক এবং পুরোনো রাজনীতির প্রতি  বিরক্ত জনগোষ্ঠী। দলটি যদি ৩৫ বা ৪০ শতাংশে পৌঁছাতে পারে, তাহলে আরও বড় জয় সম্ভব।

কিন্তু জনতুষ্টিবাদী দল হিসেবে জনপ্রিয় হওয়া আর সরকার গঠনে যোগ্য দল হিসেবে গ্রহণযোগ্য হওয়া এক কথা নয়। অর্থনীতি, স্বাস্থ্যসেবা, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বা জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে ভোটাররা জাতীয় নির্বাচনে ভিন্ন মানদণ্ডে ভোট প্রয়োগ করে থাকেন ।

ইতিহাস কী বলে? ইতিহাসও ফারাজের জন্য খুব আশাব্যঞ্জক নয়। ফারাজের বিভিন্ন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম অন্য দলগুলোকে চাপে ফেলতে পারলেও হাউস অব কমন্সে বড় সাফল্যে রূপ নেয়নি।

২০১৪ সালের ইউরোপীয় নির্বাচনে UKIP ২৬.৬ শতাংশ ভোট পেয়ে প্রথম হয়েছিল। ২০১৯ সালে ব্রেক্সিট পার্টি পেয়েছিল ৩০.৫ শতাংশ। কিন্তু এই অসাধারণ ফলাফলের পরেও ফারাজ নিজে কমন্সে ঢুকতে পারেননি। ২০১৫ সালে UKIP মাত্র একটি ওয়েস্টমিনস্টার আসন জিতেছিল, ২০১৯ সালে ব্রেক্সিট পার্টি একটিও পায়নি।

ব্রেক্সিট রেফারেন্ডাম এর সময়ও অসত্য এবং ভুল তথ্য দিয়ে তিনি ব্রিটিশ জনগণকে বিভ্রান্ত করেছিলেন। বর্তমানেও প্রশ্ন আছে—করনীতি, অভিবাসন, কল্যাণ রাষ্ট্র, সরকারি ব্যয়, অর্থনৈতিক সংস্কার ও অর্থনৈতিক সংকট মোকাবেলায়  রিফর্ম কি আদৌ প্রস্তুত? নেতা হিসেবে জনপ্রিয় হতে পারেন, কিন্তু প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশের অর্থনীতি পরিচালনার ক্ষেত্রে ভোটারদের আস্থা অর্জন করা ভিন্ন চ্যালেঞ্জ।

Reform UK এখন ব্রিটিশ রাজনীতির একটি বাস্তবতা  ও গুরুত্বপূর্ণ শক্তি। 

 ২০২৯ সালে তারা আরও ভালো করবে, তবে সেটা নির্ভর করবে লেবার ও কনজারভেটিভরা দুর্বল থাকে কিনা, গ্রিন পার্টির জনপ্রিয়তা কমে কিনা এবং লিবারেল ডেমোক্র্যাটরা তাদের ১০ থেকে ১৫ শতাংশ সমর্থন ধরে রাখতে পারে কিনা—এর কোনোটিই নিশ্চিত নয়।

 ২০২৯ সালে তারা আরও ভালো করবে, তবে সেটা নির্ভর করবে লেবার ও কনজারভেটিভরা দুর্বল থাকে কিনা, গ্রিন পার্টির জনপ্রিয়তা কমে কিনা এবং লিবারেল ডেমোক্র্যাটরা তাদের ১০ থেকে ১৫ শতাংশ সমর্থন ধরে রাখতে পারে কিনা—এর কোনোটিই নিশ্চিত নয়।

জাতীয় বিতর্ককে—বিশেষত অভিবাসন, জাতীয় পরিচয়,এবং রাষ্ট্রের সক্ষমতার প্রশ্নে—তারা রাজনীতিকে ইতোমধ্যে ডানদিকে সরিয়ে নিতে পেরেছে। ২০২৯ সালে তারা আরও ভালো করবে, তবে সেটা নির্ভর করবে লেবার ও কনজারভেটিভরা দুর্বল থাকে কিনা, গ্রিন পার্টির জনপ্রিয়তা কমে কিনা এবং লিবারেল ডেমোক্র্যাটরা তাদের ১০ থেকে ১৫ শতাংশ সমর্থন ধরে রাখতে পারে কিনা—এর কোনোটিই নিশ্চিত নয়।

বাস্তবতা হলো, ব্রিটেনের নির্বাচনী কাঠামো, প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতা, কৌশলগত ভোটিং,  রিফর্মকে ঠেকাতে— যে প্রার্থী জয়ী হতে পারেন, এরকম একক  প্রার্থী দেওয়ার সমঝোতা লেবার, লিব-ডেম এবং গ্রীন পার্টির মধ্যে হতে পারে এবং ফারাজের রাজনৈতিক অবস্থানের অন্তর্নিহিত দুবর্লতা বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। অন্যদিকে, সব মিলিয়ে একটি সত্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে: ফারাজ নিজেকে প্রতিষ্ঠানবিরোধী দেখালেও, তাঁর  রাজনীতি শেষ পর্যন্ত সেই প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর ভেতরেই চলে। 

নাম আর দলের রঙ বদলালে তথ্য বদলায় না। রিফর্ম আগামী নির্বাচনে হাউস অব কমন্সে অন্যতম বড় দল হবে—এটা বলা যায়। কিন্তু এককভাবে স্থিতিশীল সরকার গঠন এবং নাইজেল ফারাজের ডাউনিং স্ট্রিটে পৌঁছানো এখনো অত্যন্ত কঠিন দূরের পথ।

নূরুর রহিম নোমান, সমাজ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক (যুক্তরাজ্য)

ইএন/এসএ​​

আরো পড়ুন:

 

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়