ইমরান আল মামুন
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন নিয়ে বড় আপডেট আসছে অবশেষে
দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান কি এবার সত্যিই হতে যাচ্ছে? দেশের লাখো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন ও প্রত্যাশার কেন্দ্রবিন্দু জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন নিয়ে অবশেষে বড় ধরনের ইতিবাচক খবর মিলেছে। প্রতিষ্ঠার ৩৩ বছর পর মাত্র দ্বিতীয়বারের মতো এই গুরুত্বপূর্ণ আয়োজনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে নতুন আশার আলো, সঙ্গে রয়েছে কৌতূহল—কবে হচ্ছে এই বহুল প্রতীক্ষিত অনুষ্ঠান?
শিক্ষাজীবনের সবচেয়ে গর্বের মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন নিয়ে দীর্ঘদিনের হতাশা এবার কাটতে পারে বলেই ইঙ্গিত দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
দীর্ঘ ৩৩ বছরে মাত্র একবার আয়োজন
১৯৯২ সালে যাত্রা শুরু করা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় দেশের বৃহত্তম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একটি। অথচ বিস্ময়কর হলেও সত্য, এই দীর্ঘ সময়ে মাত্র একবার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
২০১৭ সালের ১৭ জানুয়ারি রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ১৯৯৮ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত উত্তীর্ণ প্রায় পাঁচ হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেন। কৃতিত্বের স্বীকৃতি হিসেবে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে স্বর্ণপদকও দেওয়া হয়।
কিন্তু এরপর কেটে গেছে প্রায় আট বছর। একাধিকবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও নানা কারণে আর কোনো জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন আয়োজন বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। ফলে হাজার হাজার গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থী এ গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
নতুন উপাচার্যের উদ্যোগে গতি
ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর নতুন নেতৃত্বে আসে পরিবর্তনের হাওয়া। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই প্রশাসনিক ও একাডেমিক সংস্কারে জোর দেন।
তার উদ্যোগেই আবারও আলোচনায় আসে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন আয়োজনের বিষয়টি। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল নিয়মিত সমাবর্তন আয়োজন করা। নতুন প্রশাসন সেই দাবিকে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
উপাচার্যের ভাষ্য অনুযায়ী, সমাবর্তনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যেই সম্পন্ন। এখন শুধু উচ্চ পর্যায়ের অনুমোদনের অপেক্ষা।
সম্ভাব্য সময় ডিসেম্বর
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসকে সামনে রেখে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন আয়োজনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
উপাচার্য জানিয়েছেন, এর আগে আয়োজন করতে চাইলেও সময়সংক্রান্ত জটিলতায় তা সম্ভব হয়নি। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে সময় চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলেই নির্ধারিত তারিখ ঘোষণা করা হবে।
এই ঘোষণা শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন করে আগ্রহ তৈরি করেছে। অনেকেই ইতোমধ্যে সমাবর্তনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন।
শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবি
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলো থেকে প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। কিন্তু নিয়মিত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন না হওয়ায় তারা আনুষ্ঠানিকভাবে ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ পান না।
এ নিয়ে অতীতে শিক্ষার্থীরা একাধিকবার আন্দোলনও করেছেন। তাদের দাবি ছিল, নিয়মিত সমাবর্তন আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষাজীবনের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি নিশ্চিত করা।
শিক্ষার্থীদের মতে, সমাবর্তন শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়—এটি তাদের দীর্ঘ পরিশ্রমের স্বীকৃতি এবং ভবিষ্যৎ জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়।
সনদ পেতে ভোগান্তি
শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন না হওয়ার কারণে বাস্তব জীবনে নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন গ্র্যাজুয়েটরা।
বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, সমাবর্তন ছাড়া মূল সনদ সংগ্রহ করা যায় না। ফলে শিক্ষার্থীরা সাময়িক সনদ দিয়ে কাজ চালাতে বাধ্য হন। কিন্তু বিদেশে উচ্চশিক্ষা বা চাকরির ক্ষেত্রে এই সাময়িক সনদ অনেক সময় গ্রহণযোগ্য হয় না।
অনেক বিশ্ববিদ্যালয় শর্ত দিয়ে থাকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মূল সনদ জমা দিতে হবে। এতে শিক্ষার্থীরা চরম অনিশ্চয়তায় পড়েন।
গাজীপুরে গিয়ে সনদ তুলতে বাধ্য
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাস গাজীপুরে অবস্থিত। মূল সনদ সংগ্রহের জন্য দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শিক্ষার্থীদের সেখানে যেতে হয়।
এই প্রক্রিয়াটি সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল। অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় এবং প্রশাসনিক জটিলতার কারণে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়।
নিয়মিত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন আয়োজন করা হলে এই সমস্যা অনেকাংশে কমে যাবে। তখন শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ কলেজ থেকেই সনদ সংগ্রহ করতে পারবেন বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
শিক্ষার্থীর অভিজ্ঞতা
নোয়াখালী সরকারি কলেজ থেকে গ্র্যাজুয়েট হওয়া এক শিক্ষার্থী জানান, বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য আবেদন করতে গিয়ে তিনি সমস্যায় পড়েছেন।
তার ভাষায়, মূল সনদ ছাড়া অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন সম্পূর্ণ করা যায় না। অথচ সনদ তুলতে তাকে গাজীপুরে যেতে হবে, যা সময় ও খরচ দুটোই বাড়িয়ে দেয়।
তিনি মনে করেন, নিয়মিত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন হলে এই ভোগান্তি অনেকটাই কমে যেত।
বিশ্লেষণ ও গুরুত্ব
শিক্ষাব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো সমাবর্তন। এটি শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং শিক্ষার্থীদের মানসিক ও পেশাগত উন্নয়নের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত।
নিয়মিত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন আয়োজন করা হলে—
- শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বাড়বে
- আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা সহজ হবে
- প্রশাসনিক জটিলতা কমবে
- সনদ বিতরণ প্রক্রিয়া সহজ হবে
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দেশের বৃহত্তম এই বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নিয়মিত সমাবর্তন চালু করা এখন সময়ের দাবি।
সামনে কী অপেক্ষা করছে
সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি বছরের শেষ দিকে অনুষ্ঠিত হতে পারে বহুল প্রতীক্ষিত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন।
প্রস্তুতি সম্পন্ন থাকায় এখন মূল অপেক্ষা আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের। অনুমতি মিললেই তারিখ ঘোষণা করে পূর্ণোদ্যমে আয়োজন শুরু করবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ
দীর্ঘদিনের অপেক্ষা, আন্দোলন এবং হতাশার পর অবশেষে আশার আলো দেখছে শিক্ষার্থীরা। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন আয়োজন বাস্তবায়িত হলে তা শুধু একটি অনুষ্ঠান হবে না—এটি হবে লাখো শিক্ষার্থীর স্বপ্নপূরণ।
এখন সবার দৃষ্টি ডিসেম্বরের দিকে। সত্যিই কি এবার ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়? সময়ই দেবে সেই উত্তর, তবে প্রস্তুতি এবং সংকল্প—দুটিই যে ইতোমধ্যে তৈরি, তা বলাই যায়।
- শাবির ৭২ টি সিসি ক্যামেরার মধ্যে ৫৩ টিই বিকল
- শাবি শিক্ষক সমিতির নির্বাচন, চলছে ভোটগ্রহণ
- ৪৯ তম বেফাক পরীক্ষার রেজাল্ট ২০২৬ দেখার সহজ উপায়
- বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ ২০২৬ রেজাল্ট প্রকাশ
- এসএসসি বোর্ড চ্যালেঞ্জ এর রেজাল্ট ২০২৩
- মাস্টার্স পরীক্ষার ফলাফল ২০২৫
- এসএসসি পরীক্ষার রেজাল্ট ২০২৩ | এসএসসি ফলাফল
- অনার্স ১ম বর্ষ পরীক্ষা রুটিন ২০২৩
- বেফাক পরীক্ষার ফলাফল ২০২৬ প্রকাশের আপডেট
- এসএসসি পরীক্ষার রেজাল্ট ২০২৩ কবে হবে

























