Bilas Moulvibazar, Bilas

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ১২ মার্চ ২০২৬,   ফাল্গুন ২৮ ১৪৩২

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৮:৪৯, ১২ মার্চ ২০২৬

শায়বাহ তেলক্ষেত্রগামী ড্রোন আটক, বৈরুতে ইসরায়েলি হা-মলা

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত দ্রুতই এক ভয়াবহ আঞ্চলিক সংকটে রূপ নিচ্ছে। যুদ্ধের দ্বিতীয় সপ্তাহে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি আরও জটিল ও অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে।

সৌদি আরব জানিয়েছে, তাদের গুরুত্বপূর্ণ শায়বাহ তেলক্ষেত্রের দিকে অগ্রসর হওয়া একটি ড্রোন আকাশেই আটক করা হয়েছে। একই সময়ে লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর অন্তত ১০টি লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত দ্রুত মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বিপজ্জনক সংকটে পরিণত হয়েছে।

সংঘাতের সূচনা ঘটে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সমন্বিতভাবে ইরানের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক বিমান হামলা চালায়। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়। এরপর থেকেই অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

এর জবাবে ইরান হরমুজ প্রণালী ঘিরে ইসরায়েলি অবস্থান এবং আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের রুট লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডোর হিসেবে পরিচিত এই প্রণালী দিয়ে বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়।

এই পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। তেলের দাম হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে এবং বিশ্বের বড় অর্থনীতির দেশগুলো তাদের কৌশলগত তেল মজুদ থেকে জরুরি ভিত্তিতে সরবরাহ ছাড়ার উদ্যোগ নিয়েছে।

ইরানি কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, চলমান সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে রূপ নিলে তা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। তেহরান দাবি করেছে, তারা এখনও হরমুজ প্রণালীর ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করার হুমকিও দিয়েছে।

এদিকে ইরানি বাহিনী উপসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজেও হামলার চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে, যা সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, “আমরা কাজ শেষ করব।” তাঁর দাবি, ইরানের বেশিরভাগ গুরুত্বপূর্ণ সামরিক লক্ষ্যবস্তু ইতোমধ্যে ধ্বংস করা হয়েছে, যার মধ্যে মাইন পাতা নৌযানসহ বিভিন্ন নৌসম্পদ রয়েছে।

তবে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাদের অভিযান এখনও শেষ হয়নি এবং ইরানের অভ্যন্তরে আঘাত হানার মতো আরও বিস্তৃত লক্ষ্যবস্তুর তালিকা রয়েছে।

সংঘাত শুধু ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। ইরান-সমর্থিত সংগঠন হিজবুল্লাহ লেবানন থেকে ইসরায়েলে হামলা শুরু করেছে। এর জবাবে বৈরুত ও পূর্ব লেবাননে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল।

চলমান সংঘাতে এখন পর্যন্ত শত শত মানুষ নিহত হয়েছে এবং লক্ষাধিক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সূত্র জানিয়েছে।

এদিকে পরিস্থিতি মোকাবিলায় জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে কূটনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে। পরিষদ ইরানকে উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে।

যুদ্ধ দ্বিতীয় সপ্তাহে প্রবেশ করায় আন্তর্জাতিক মহলে আশঙ্কা বাড়ছে—সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে তা বিশ্ব বাণিজ্য, জ্বালানি সরবরাহ এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে। সুত্র: টাইমস অফ ইন্ডিয়া

ইএন/এসএইচএ

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়