Bilas Moulvibazar, Bilas

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২৬ মার্চ ২০২৬,   চৈত্র ১২ ১৪৩২

ইমরান আল মামুন

প্রকাশিত: ১২:২০, ২৬ মার্চ ২০২৬

১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশে নতুন আপডেট

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক হতে আগ্রহীদের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন নিয়ে নতুন আপডেট সামনে এসেছে। অনেকেই আশা করছিলেন খুব দ্রুতই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হবে, তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ তথ্য বলছে—এ মুহূর্তে সে সুখবর দেওয়া যাচ্ছে না।

বিজ্ঞপ্তি প্রকাশে কেন দেরি হচ্ছে?

বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) জানিয়েছে, শূন্য পদের তথ্য সংগ্রহের জন্য যে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম প্রয়োজন, সেটি এখনও পুরোপুরি প্রস্তুত হয়নি। ফলে ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের প্রক্রিয়া কিছুটা পিছিয়ে যাচ্ছে।

বিশেষ করে, টেলিটকের কারিগরি প্রস্তুতি সম্পন্ন না হওয়ায় ই-রিকুইজিশন কার্যক্রম শুরু করা যাচ্ছে না। এই ই-রিকুইজিশনের মাধ্যমেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো তাদের শূন্য পদের তথ্য জমা দেয়, যা নিবন্ধন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

টেলিটকের ব্যস্ততা বড় কারণ

সূত্র বলছে, আগামী ২৮ মার্চ থেকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রধান ও সহকারী প্রধান নিয়োগের আবেদন কার্যক্রম শুরু হবে। এই পুরো প্রক্রিয়াটি পরিচালনা করবে টেলিটক। ফলে তারা বর্তমানে এই নিয়োগ কার্যক্রম নিয়েই ব্যস্ত থাকবে।

এ কারণে ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন-এর জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহে বিলম্ব হওয়া স্বাভাবিক। তবে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদী—যদি দ্রুত প্ল্যাটফর্ম প্রস্তুত করা যায়, তাহলে অল্প সময়ের মধ্যেই ই-রিকুইজিশন শুরু করা সম্ভব হবে।

পরীক্ষার পদ্ধতি নিয়ে বিভ্রান্তি দূর

সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল যে, ১৯তম নিবন্ধনে লিখিত পরীক্ষা যুক্ত হতে পারে। তবে এ বিষয়ে পরিষ্কারভাবে জানানো হয়েছে—এমন কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা আগের মতোই এমসিকিউ পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হবে। মোট ২০০ নম্বরের এই পরীক্ষায় কোনো লিখিত অংশ থাকছে না। ফলে প্রার্থীদের বিভ্রান্ত না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

নতুন নিয়োগ পদ্ধতিতে কী পরিবর্তন আসছে?

এবারের নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের প্রস্তাবনা এসেছে, যা ভবিষ্যতে বাস্তবায়িত হতে পারে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—

স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি—তিন বিভাগেই একই নম্বর প্যাটার্ন চালু করার চিন্তা করা হচ্ছে
পূর্বে ভিন্ন ভিন্ন নম্বর বিভাজনের প্রস্তাব থাকলেও তা বৈষম্য তৈরি করতে পারে বলে মনে করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়
তাই সব বিভাগের জন্য সমান মানদণ্ডে ২০০ নম্বরের পরীক্ষা রাখার পরিকল্পনা চলছে
ভাইভা নম্বর যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা

এবারের বড় পরিবর্তনের মধ্যে অন্যতম হলো—ভাইভা নম্বর যুক্ত করা। এর আগে এনটিআরসিএ নিবন্ধন পরীক্ষায় ভাইভা নম্বর অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

কিন্তু নতুন বিধিমালায় প্রথমবারের মতো ভাইভা নম্বর যুক্ত করার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে। এতে করে প্রার্থীদের মূল্যায়ন আরও বিস্তৃত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বয়স গণনায় নতুন নিয়ম

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হচ্ছে বয়স গণনার ক্ষেত্রে। আগে যেখানে নির্দিষ্ট একটি তারিখ ধরে বয়স নির্ধারণ করা হতো, এবার পরিকল্পনা রয়েছে—১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের দিন থেকেই বয়স গণনা শুরু হবে।

এটি নতুন প্রার্থীদের জন্য একটি ইতিবাচক পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ই-রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম ইতোমধ্যে শেষ

উল্লেখ্য, ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন-এর প্রস্তুতির অংশ হিসেবে গত ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ই-রেজিস্ট্রেশন শুরু হয়। প্রথমে ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় দেওয়া হলেও পরে তা বাড়িয়ে ১ মার্চ পর্যন্ত করা হয়।

সব মিলিয়ে বলা যায়, ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন নিয়ে আগ্রহ ও অপেক্ষা এখনও তুঙ্গে। যদিও বিজ্ঞপ্তি প্রকাশে কিছুটা দেরি হচ্ছে, তবে প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। প্ল্যাটফর্ম প্রস্তুত হলেই দ্রুত সময়ের মধ্যে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হতে পারে।

যারা শিক্ষকতা পেশায় আসতে চান, তাদের এখনই প্রস্তুতি জোরদার করা উচিত—কারণ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হলেই প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যাবে।

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়