ঢাকা, শুক্রবার   ২৪ এপ্রিল ২০২৬,   বৈশাখ ১১ ১৪৩৩

কামরুল হাসান, মৌলভীবাজার

প্রকাশিত: ১৪:০৬, ১৭ নভেম্বর ২০২১

চায়ের দোকান দিয়ে ৮০ বছর বয়সেও পরিবারকে চালাচ্ছেন বৃদ্ধা নূরজাহান

নিজের চায়ের দোকানে বৃদ্ধা নূরজাহান।

নিজের চায়ের দোকানে বৃদ্ধা নূরজাহান।

শেষ বয়সে নিজের বাড়িতে বিশ্রাম নেয়ার কথা ছিল। সেই বয়সে চায়ের দোকান দিয়ে পরিবার চালাতে হচ্ছে। শীতের সকালে বিছানায় আরাম না করে পেটের দায়ে এসে খোলেছেন দোকান। বৃদ্ধ বয়সে রোগ আক্রান্ত শরীর নিয়েও প্রতিদিন কাক ডাকা ভোরে দোকান খোলেন। স্বামী হারিয়েছন ১৯ বছর আগে। পেশায় বাবুর্চি একমাত্র ছেলেও অসুস্থ, কিছুদিন আগে অপারেশন হয়েছে। নিজের পরিবারটি মানবেতর জীবনযাপন করছে। এ অবস্থায় বৃদ্ধা নূরজাহান বেগম ৮০ বছর বয়সে জীবনের শেষ বয়সে হাল ধরেছেন।

তিনি দীর্ঘ আট বছর ধরে মৌলভীবাজার শহরে  চায়ের দোকান চালিয়ে আসছেন। দেড় বছর ধরে শাহ মোস্তফা রোডের পাশে বেরি লেকের দক্ষিণ পাড়ে ছোট একটি দোকানে চা বিক্রি করছেন। মৌলভীবাজারের শমশেরনগরে স্থায়ী বাড়ি। বর্তমানে তিনি মৌলভীবাজার পৌরসভার কাজিরগাঁওয়ের বাসিন্দা। এখানেই পরিবার নিয়ে বাসা ভাড়া দিয়ে বসবাস করছেন। এখন মেয়ে ও ছেলেসহ নাতি-নাতনি নিয়ে ৯ সদস্যে পরিবার । 

নূরজাহান জানান, একমাত্র ছেলে অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারে অস্বচ্ছলতা নেমে আসে। তাই পেটের দায়ে একটি চায়ের দোকন দেন। প্রায় ৬ বছর ধরে মাসিক ২ হাজার টাকা ভাড়া দিয়ে চায়ের দোকানে চালিয়ে আসছিলেন। একটা সময় চা বিক্রি করে আর দোকন ভাড়া দেয়া যাচ্ছিলনা। তখন স্থায়ী দোকান ছেড়ে দিতে হয়। পরে ছোট্ট এই ভ্রাম্যমাণ দোকানে চা বিক্রি শুরু করনে।

বৃদ্ধা নূরজাহান বেগম আইনিউজ প্রতিবেদকে কাছে এমনি কষ্টের কথা বলছিলেন। তিনি বলেন, আমার জীবনে অনেক কষ্ট করেছি। ১৯ বছর আগে স্বামী হারিয়েছি। তারপর অসুস্থ ছেলে আর একমাত্র মেয়েকে নিয়ে পরিবারের ঘানি একাই টানতে হচ্ছে। বাসা ভাড়া, বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানির বিল সবকিছু আমার অসুস্থ ছেলে একা পারছিলনা। তাই পরিবার চালাতে ছেলেকে কিছু সাহায্য করতেই এই চায়ের দোকন খোলেছি। ছেলে পেশায় বাবুর্চি কিন্ত অসুস্থ থাকায় কাজ করতে পারে না। কিছুদিন আগে তার অপারেশন হয়েছে।

নূরজাহান বলেন, সকালে ফজর নামাজ পরে এসেই দোকান খুলি আর সন্ধা ৮ টায় দোকান বন্ধ করি। প্রতিদিন ২০০ থেকে ২৫০ টাকা বিক্রয় হয়। এরমাঝে চা পাতা, চিনি, দুধ আনতে হয়। বেকারি আইটেমগুলো সকালে মাল রেখে সারাদিন বিক্রয় করে সন্ধায় টাকা দেই।

নূরজাহান বলেন, পৌরসভাকে আমার কোন টাকা দিতে হয়না, তারা আসে আমাকে কিছু বলেনা। মেয়র আমাকে সবসময় দেখেন। তিনি এখনও উঠে যাও বা চলে যাও এমন কিছু বলেননি।

বৃদ্ধার ছেলে জহির মিয়া বলেন, আম্মা অনেক আগে থেকে দোকান চালান, আমি মাঝে মাঝে সাহায্য করি। আমার বাবুর্চি কাজ সবসময় থাকে না, তাই পরিবার চালাতে কষ্ট হয়। কিছুদিন আগে আমার অপারেশন হয়েছে। যার জন্য ভালো কোন কাজও করতে পারি না। জহির মিয়া আফসোস দোকান দিয়ে কি হবে, পেট চলে না, ভাড়া দিবো কিভাবে। 

নূরজাহানের সাথে কথা বলা বলার সময় পাশে বসে শুনছিলেন রফিক মিয়া। চায়ের দোকানে নিয়মিত চা পান করেন তিনি। রফিক মিয়া বলেন, বৃদ্ধা যে এই বয়সে উপার্জন করতে পারছেন আমাদের কাছে এটা আনন্দ লাগছে। পরিবারের হাল ধরে আছেন এটা প্রশান্তির।

নূরজাহান বেগমকে নিয়ে আইনিউজের তৈরি ভিডিও প্রতিবেদন-

আইনিউজ/কামরুল হাসান শাওন/এসডি

আইনিউজের অন্যান্য ভিডিও প্রতিবেদন

মৌলভীবাজারে আছিয়া বেগমের হাতে ১০০০ নিরাপদ শিশুর জন্ম

মৌলভীবাজারের সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী ভারত সরকারের পদ্মভূষণ পদকে ভূষিত

প্রকৃতির সন্তান খাসি - খাসিয়া জনগোষ্ঠী

মৌলভীবাজারে ট্যুরিস্ট বাস চালু

হাইল হাওরের বাইক্কাবিলে পর্যটক আর পদ্মটুনার ভিডিও ভাইরাল

বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ মহসিন আলী: মৌলভীবাজারের এক বিশাল হৃদয়ের রাজনীতিবিদ

ছেলের খোঁজে পায়ে হেঁটে নেপালে যান মা, ফিরেন ২৩ বছর পর

Green Tea
সিলেট বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়