Bilas Moulvibazar, Bilas

ঢাকা, রোববার   ২৯ মার্চ ২০২৬,   চৈত্র ১৫ ১৪৩২

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১০:৩০, ৮ ডিসেম্বর ২০২২
আপডেট: ১৬:৫৬, ৮ ডিসেম্বর ২০২২

মৌলভীবাজার হানাদার মুক্ত দিবস আজ

৮ ডিসেম্বর মৌলভীবাজার মুক্ত দিবস

৮ ডিসেম্বর মৌলভীবাজার মুক্ত দিবস

আজ (৮ ডিসেম্বর) মৌলভীবাজার পাক হানাদার মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের ৮ ডিসেম্বর বীর মুক্তিযোদ্ধারা বীর দর্পে যুদ্ধ করে পাকিস্তানি হানাদারদের কবল থেকে মৌলভীবাজারকে মুক্ত করে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন। দিবসটিকে ঘিরে আজ মৌলভীবাজার মুক্তিযোদ্ধা সংসদসহ জেলা প্রশাসন যৌথভাবে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।

১৯৭১ সালের ৮ ডিসেম্বরের আগ পর্যন্ত পাক হানাদারদের কবলে ছিল মৌলভীবাজার অঞ্চল। তবে যুদ্ধ শুরুর ৯ মাসের মাথায় ডিসেম্বর মাসেই এ অঞ্চলের মুক্তিসেনারা হানাদার বাহিনীকে অনেকটাই কোণঠাসা করে ফেলে। ৮ ডিসেম্বর চূড়ান্তভাবে পাকসেনাদের হারিয়ে মৌলভীবাজারে লাল সবুজের পতাকা উত্তোলন করেন এবং এতদ অঞ্চলকে হানাদার মুক্ত ঘোষণা করেন।

মুক্তিযুদ্ধের ৫১ বছর পরও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজরিত ব্যাংকার, বধ্যভূমি, প্রথম স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলনের জায়গা মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিই যেন মনে করিয়ে দেয় এই জেলার মুক্তিযোদ্ধাদের। যদিও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সাক্ষী এসব জায়গা অনেকটাই অরক্ষিত এবং অবহেলার শিকার। তবে সাম্প্রতিক সময়ে জেলা ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে মৌলভীবাজার পৌরসভা বেশকিছু উদ্যোগ নিয়েছে।

মুক্তিযোদ্ধাদের মুখ থেকে জানা যায়, ডিসেম্বর মাসের শুরু থেকেই মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর যৌথ আক্রমণের মুখে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী পিছু হটতে শুরু করলে প্রতিদিনই বিজয়ের সম্ভাবনা উজ্জ্বল হতে থাকে এতদ অঞ্চলে।

২ ডিসেম্বর রাতে শমসেরনগর বিমানবন্দর ও চাতলাপুর বিওপিতে হানাদার বাহিনীর ওপর মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর সম্মিলিত আক্রমণে পাক সেনারা টিকতে না পেরে মৌলভীবাজার শহরে ফিরে আসে।

৪ ডিসেম্বর মৌলভীবাজার শহরের নিকটবর্তী বড়টিলা নামক স্থানে হানাদার বাহিনীর সঙ্গে মিত্রবাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর সম্মুখ যুদ্ধ হয়। এ যুদ্ধে মিত্রবাহিনীর ১২৭ সেনা শহীদ হন। পাঞ্জাব রেজিমেন্ট ৪নং হেড কোয়াটার এর ব্রিগেডিয়ার ইফতেখার রানার নেতৃত্বে মৌলভীবাজারের পিটিআই (প্রাইমারী টিচার্স ট্রেনিং) সেন্টারে গড়ে উঠে ব্রিগেড হেড কোয়ার্টার।

এখানে নির্মিত বাংকার বিভিন্ন এলাকা থেকে মুক্তিযোদ্ধা, নিরীহ মানুষ ও মহিলাদের ধরে এনে হত্যা, অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়। যা আজও কালের স্বাক্ষী হয়ে আছে।

৪নং সেক্টরের অধীনে সেক্টর কমান্ডার পাকিস্তান সেনাবাহিনীর চৌকস মেজর সি আর দত্ত’র নেতৃতে মৌলভীবাজারে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধারা।

৭ ডিসেম্বর হানাদার বাহিনী শেরপুরে অবস্থান নিলে মুক্তিবাহিনীও শেরপুরের দিকে অগ্রসর হলে পাক বাহিনী সেখান থেকেও পলায়নে বাধ্য করে সিলেটে চলে যায়। ফলে ৮ ডিসেম্বর মৌলভীবাজার পুরোপুরি মুক্ত হয় এবং আকাশে ওড়ে স্বাধীন বাংলার পতাকা।

আইনিউজ/এইচএ

মৌলভীবাজারে হার্ট অ্যাটাকের চিকিৎসায় লাইফ লাইন হাসপাতাল | ICU | CCU | Dialysis | Emergency Call

Green Tea
সিলেট বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়