Bilas Moulvibazar, Bilas

ঢাকা, রোববার   ২৯ মার্চ ২০২৬,   চৈত্র ১৪ ১৪৩২

লন্ডন থেকে আজিজুল আম্বিয়া

প্রকাশিত: ২৩:৩৬, ২৮ মার্চ ২০২৬

লন্ডনে মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপন, মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা

ছবি: আই নিউজ

ছবি: আই নিউজ

গভীর শ্রদ্ধা ও আবেগঘন পরিবেশে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা দিবস-এর ৫৬তম বার্ষিকী উদযাপন করেছেন লন্ডনে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা। এ উপলক্ষে স্বাধীনতা মঞ্চের উদ্যোগে পূর্ব লন্ডনের রয়েল রিজেন্সী হল-এ আয়োজন করা হয় “গানে গানে স্বাধীনতা দিবস” শীর্ষক এক ব্যতিক্রমী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ ২০২৬) সন্ধ্যায় শুরু হওয়া অনুষ্ঠানের সূচনায় একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়। চলচ্চিত্রকার মকবুল চৌধুরী নির্মিত এই প্রামাণ্যচিত্রে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের পাশাপাশি যুক্তরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের আন্তর্জাতিক জনমত গঠনে ভূমিকার গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানে একাত্তরের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। যুক্তরাজ্যে বসবাসরত মুক্তিযোদ্ধাদের মঞ্চে আমন্ত্রণ জানিয়ে ফুল দিয়ে সম্মাননা প্রদান করা হয়। এ সময় উপস্থিত সবাই দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন করে তাঁদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। আবেগঘন এই মুহূর্তে একাত্তরের স্মৃতি যেন নতুন করে জীবন্ত হয়ে ওঠে।

অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিল শিশু অয়নের কণ্ঠে ৭ই মার্চের ভাষণ পরিবেশন। এছাড়া কবিতা আবৃত্তি করেন মুনিরা পারভিন, স্মৃতি আজাদ ও সালাউদ্দিন শাহীন।

পরবর্তীতে শুরু হয় সংগীত পরিবেশনা। শিল্পীরা পরিবেশন করেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের গান, মুক্তিযুদ্ধের রণসংগীত এবং দেশাত্মবোধক সংগীত। গৌরি চৌধুরী, বাউল শহীদ, লাবনী বড়ুয়া, শাহনাজ সুমি, মোহনা, রুবি সরকার, মিষ্টি তালুকদার, তারেক হাসান, বন্যা তালুকদার, অমিত দে, সিগ্ধা রায়, অবলা, শ্রেয়সী, মৃদুল, জয়, শুভাঙ্গী ও সাদমান খানসহ আরও অনেকে অংশ নেন। তাঁদের পরিবেশনায় পুরো হলজুড়ে সৃষ্টি হয় এক আবেগময় পরিবেশ।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ঊর্মি মাজহার। তাঁর সাবলীল উপস্থাপনা আয়োজনটিকে প্রাণবন্ত করে তোলে। শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন স্বাধীনতা মঞ্চের অন্যতম সংগঠক, সিনিয়র সাংবাদিক ও সাপ্তাহিক সত্যবাণীর সম্পাদক সৈয়দ আনাস পাশা।

তিনি বলেন, স্বাধীনতা কেবল একটি দিবস নয়, এটি আমাদের আত্মপরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ। অগণিত শহীদের আত্মত্যাগ, মা-বোনের ত্যাগ এবং শেখ মুজিবুর রহমান-এর নেতৃত্বে অর্জিত এই স্বাধীনতার ইতিহাস কখনো মুছে ফেলা সম্ভব নয়। প্রবাসে থেকেও নতুন প্রজন্মের কাছে এই ইতিহাস পৌঁছে দেওয়া আমাদের সবার দায়িত্ব।

অনুষ্ঠানে রাজনীতিক, সাংবাদিক, সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বসহ প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। সবার অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি পরিণত হয় এক মিলনমেলায়।

গান, স্মৃতিচারণ ও শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে লন্ডনের এই আয়োজন আবারও স্মরণ করিয়ে দেয়—বাংলাদেশ শুধু একটি ভূখণ্ড নয়; এটি ত্যাগ, সংগ্রাম ও আত্মমর্যাদার এক গৌরবময় ইতিহাস। আর সেই ইতিহাস প্রবাসেও বয়ে নিয়ে চলছেন বাংলাদেশিরা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে।

ইএন/এসএ

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়