রিপন দে
আপডেট: ২২:২৮, ১ সেপ্টেম্বর ২০২০
করোনায় আটকে আছে শতকোটি টাকার বিনিয়োগ
পর্যটন জেলা মৌলভীবাজারে নেই তেমন শিল্প কারখানা। পর্যটন খ্যাতই এই জেলার বড় শিল্প। পর্যটন সমৃদ্ধ এই এলাকায় একটি মানসম্মত শিল্প কারখানা গড়ার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন থেকে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার ইছবপুরে ৮০ কোটি টাকা ব্যাংক লোন নিয়ে শত কোটি টাকার উপরে বিনিয়োগ করে সুবিশাল ফুড ফ্যাক্টরি ‘হেলদি চয়েস’ গড়ে তুলেন শ্রীমঙ্গল পৌরসভার মেয়র মো. মহসীন মিয়া মধু।
২০১৮ সালের প্রথম থেকে অবকাঠামোর কাজ শুরু করে তা শেষ করেন ২০১৯ এর শেষের দিকে। পরিকল্পনা ছিল ২০২০ সালের শুরু থেকেই পুরোদমে উৎপাদন এবং একসাথে সারা দেশের মার্কেটে বিপণন শুরু করার। কিন্তু করোনা আসায় সেই পরিকল্পনা ভেস্তে গেছে । চীন থেকে আমদানি করা মেশিনগুলো ডিসেম্বরের শেষ দিকে সে দেশের ইঞ্জিনিয়াররা এসে ইনষ্টল করে দেওয়ার কথা থাকলেও করোনার কারনে তারা আসতে পারেননি। ফলে কোটি কোটি টাকার মেশিনগুলো চালু করা যাচ্ছে না । কর্মসংস্থান পিছিয়ে গেছে প্রায় ৪ হাজার মানুষের। বর্তমানে সীমিত আকারে উৎপাদন শুরু হলেও তা লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ১০ শতাংশ।
প্রতিষ্ঠানটির মানব সম্পদ বিভাগের সূত্রে জানা যায়, কারখানায় কমপক্ষে ২ হাজার মানুষ এবং সারা দেশে মার্কেটিং বিভাগে আরো ২০০০ মানুষ নিয়োগ দেওয়ার লক্ষ্যে তাদের হাতে ৫ হাজার সিভি রয়েছে। আরো দেড় /দুই হাজার সিভি জমা দেওয়ার জন্য বিভিন্ন ভাবে অপেক্ষায় আছেন । কিন্তু করোনার কারণে তাদের যেমন নিয়োগ দেওয়া হয়নি তেমনি কার্যক্রম থেমে গেছে । কিছু কিছু কাজ হচ্ছে তা সনাতন পদ্ধতিতে মাত্র ১২০ জন কর্মচারী নিয়ে। যা শুধু নামেই চালু আছে কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। প্রধান সমস্যা চীন থেকে যে ইঞ্জিনিয়াররা আসার কথা ছিল তারা করোনার কারনে আসতে পারছেন না।
সেলস এবং মার্কেটিং বিভাগের ম্যানেজার কাজী আব্দুল্লাহ জানান, মানুষের যেমন কর্মসংস্থান হয়নি তেমনি প্রয়োজনীয় জনবলের নিয়োগ শেষ করতে পারিনি। জনবল নিয়োগ শেষ করতে পারলেও কিছুটা কাজ এগিয়ে যেত কিন্তু করোনার কারণে তাও থেমে আছে । স্থানীয় ভাবে দক্ষ মানুষ নেই তাই ঢাকা ও আশপাশের শিল্পাঞ্চল থেকে কিছু মানুষ নিয়োগ দিতে হবে কিন্তু করোনার কারণে কেউ ঢাকা বা চট্রগ্রাম থেকে এসে নিয়োগের যাচাই বাচাইয়ে অংশ নিতে চাচ্ছেনা । দক্ষ যারা কর্মকর্তা তাদেরকে এখানে নিয়ে আসাটা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মো. মহসীন মিয়া জানান, ২০১৮ সাল থেকে আমার স্বপ্নের এই প্রজেক্ট শুরু হয় । ২০১৯ এর শেষের দিকে কাজ শেষ হয়। এখানে আমার বিনিয়োগে ৮০ কোটি টাকা ব্যংক লোন রয়েছে যা প্রতি মুহুর্তে বাড়ছে , একেতো কাজ শুরু হচ্ছেনা সেই সাথে বড় বিপদ ব্যাংক লোন। দীর্ঘদিনের পরিকল্পনার পর আপনি যখন সময় মত এত বড় বিনিয়োগের কাজ শুরু করতে পারবেন তা কত বড় হোঁচট তা সেই বুঝবে যার সাথে তা হচ্ছে। একই প্রতিষ্ঠানে একটি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন না করতে পেরে আবারও পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
কবে পুরোদমে চালু করতে পারবেন তা শুধু করোনার উপর নির্ভর করছেনা জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ জনবল নিয়োগ । মফস্বল এলাকা তাই ঢাকার অভিজ্ঞরা এখানে আসতে চায়না। সেই সাথে স্থানীয় এলাকায় দক্ষ মানুষের অভাব এই অবস্থায় জনবল নিয়োগ করতে বেশ কিছু সময় চলে যাবে করোনা গেলেও। তাই আমাদের যাত্রাটা আসলেই অনিশ্চিত। প্রতিষ্ঠানের মানবসম্পদ বিভাগে সিভির স্তুপ কিন্তু বাস্তবে আমরা কিছুই করতে পারছিনা। করোনার কারনে হয়তো আমরা সীমিত আকারে স্থানীয় ভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করতে পারতাম কিন্তু আমাদের জনবল নিতে হবে সারা দেশ থেকে। একটি শিল্প কারখানায় কাজ করার মতো যোগ্যতা ও দক্ষতা সম্পন্ন লোকই সেরকমভাবে স্থানীয় ভাবে পাওয়া যাচ্ছে না। মেশিন চালানোর মতো দক্ষ বা প্রশিক্ষিত অপারেটর নাই, এধরনের শিল্প কারখানার জন্য দক্ষ জনবল তৈরী করার মতো প্রশিক্ষণ ফ্যাসিলিটিস এর ও অভাব এ অঞ্চলে।
তবে নিজ এলাকার বেকারদের জন্যই তিনি আগ্রহী এবং এই কারখানা নিয়ে স্থানীয় বেকার তরুণ তরুণীরা স্বপ্ন দেখছে জানিয়ে তিনি বলেন। স্থানীয় ১ হাজার কর্মচারী নিয়োগ দিতে পারলেও তাদের ১ হাজার বেকার যেমন কাজ পেতো সেই সাথে পরিবার অর্থনৈতিক ভাবে লাভবান হত। এখানে কোটি কোটি টাকার অর্থনৈতিক সচল থাকত। কিন্তু ৮ মাসেও তা হতে দেয়নি করোনা । সবকিছু অনিশ্চিত জানিয়ে তিনি বলেন, স্বপ্নের প্রতিষ্ঠানে ছন্দপতন অনেক ভাবেই আঘাত দিয়েছে কিন্তু করোনার কাছে আমরা অসহায় কিছু করার নেই। কবে নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হবে তা বলা কঠিন তবে আমি আশাবাদী তাই করোনা কালেও সীমিত আকারে ১২০ জন কর্মচারী দিয়ে পরিক্ষামূলক চালু রেখেছি।
নতুন পরিকল্পনা হিসেবে তিনি বলেন, পরিস্থতি স্বাভাবিক হলেই চীন থেকে ইঞ্জিনিয়াররা আসবেন, মেশিন ইনষ্টল করে দেবেন। সেই সাথে আমরা দ্রুত জনবল নিয়োগ দেব। স্বপ্নের প্রজেক্টের আমদানি করা অত্যাধুনিক মেশিনগুলো পড়ে আছে যেভাবে আছে ঠিক সেভাবেই তা যত দ্রুত চালু করা যাবে সেই সাথে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে ২ হাজার বিপণন কর্মী নিয়োগ দিতে পারছি না এবং বিপণন করা যাবেনা যা প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই পরিস্থিতি ঠিক না হলে হয়তো আবারও পরিকল্পনা পরিবর্তন হবে ।
প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি বলেন, আমাদের জেলা পর্যটন জেলা হিসেবে পরিচিত তাই এলাকার বেকারদের কথা চিন্তা করে সামাজিক দায়িত্ববোধ থেকে আমি আমার স্বপ্নের প্রজেক্ট তৈরি করেছি । আমি এলাকার মানুষের কথা চিন্তা করে আমি এ প্রতিষ্ঠান করেছি। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হলেও এই বয়সে এসে ব্যবসা করে জীবন গড়ার মতো অবশিষ্ট আমার আর কিছু নেই।
এই এলাকার হাজারও বেকারের কর্মসংস্থান হবে সেটাই প্রত্যাশা। এই কারখানায় শতভাগ হালাল চিপস, চানাচুর, মটরভাজা, কেক, ওয়েফারসহ নানান রকম দ্রব্য উৎপাদন করা শুরু হয়েছে। কারখানার প্রতিটি পণ্যের ব্র্যান্ড নেম হলো ‘মজার। সিলেটি ভাষায় ‘মজার’ শব্দের অর্থ হলো স্বাদ। এই কারখানার ফ্যাক্টরি ম্যানেজার সোহেল আহমদ বলেন, শুরুর পর্যায়ে আমরা মান নিয়ন্ত্রনের উপর জোর দিচ্ছি।
- দুলাভাইয়ের ধর্ষণের শিকার শ্যালিকা
- মৌলভীবাজারের রাজনগরে
আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেল বিধবা রুবির বিউটি পার্লার - `প্রধানমন্ত্রীর কথা বলে আমাদের ধোকা দেওয়া হচ্ছে`
- রাখাল নৃত্যের মধ্য দিয়ে কমলগঞ্জে রাস উৎসব শুরু
- কমলগঞ্জে মাদকবিরোধী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত
- মেয়ের বাড়িতে ইফতার: সিলেটি প্রথার বিলুপ্তি চায় নতুন প্রজন্ম
- দেশের চতুর্থ ধনী বিভাগ সিলেট
- অবশেষে ক্লাস করার অনুমতি পেল শ্রীমঙ্গলের শিশু শিক্ষার্থী নাঈম
- শ্রীমঙ্গল টু কাতারে গড়ে তুলেছেন শক্তিশালি নেটওয়ার্ক
মৌলভীবাজারে অনলাইন জুয়ায় রাতারাতি কোটিপতি সাগর - এসএসসির ফলাফলে বিভাগে ৩য় স্থানে মৌলভীবাজার





















