ঢাকা, শুক্রবার ২১ আগস্ট ২০২৬,   ভাদ্র ৬ ১৪৩৩

সাভার প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২১:২৯, ২১ আগস্ট ২০২৬

টেন্ডার ছাড়াই গাছ কর্তন, সীমানাপ্রাচীরে অনিয়মের অভিযোগ

ছবি: আই নিউজ

ছবি: আই নিউজ

ঢাকার সাভারের দোসাইদ এ কে স্কুল অ্যান্ড কলেজে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণকে কেন্দ্র করে দুটি কাঁঠালগাছ কাটার পাশাপাশি নির্মাণকাজের প্রক্রিয়া নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। গাছ কাটার ক্ষেত্রে উপজেলা প্রশাসনের অনুমোদন নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। এ ঘটনায় কলেজ কর্তৃপক্ষকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে গাছ বিক্রির অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কলেজ সূত্রে জানা গেছে, সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের জন্য প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় থেকে চার লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ওই বরাদ্দের অর্থে ইতোমধ্যে নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। তবে পুরো সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ এবং নিচু জায়গায় বালু ভরাটসহ কাজ শেষ করতে প্রায় ২০ লাখ টাকা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন কলেজের অধ্যক্ষ মো. নাসির উদ্দিন। তাঁর দাবি, বাকি অর্থ স্থানীয় সংসদ সদস্য দেওয়ার কথা বলেছেন।

তবে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের জন্য এখনো কোনো টেন্ডার দেওয়া হয়নি বলে স্বীকার করেছেন অধ্যক্ষ নাসির উদ্দিন। তিনি বলেন, পিআইও কার্যালয়ের চার লাখ টাকার বরাদ্দের কাজ শেষ হওয়ার পর বাকি কাজের জন্য টেন্ডার দেওয়া হবে। নির্মাণকাজের অংশ হিসেবে কলেজের গেট স্থানীয় কাবেল মেম্বার বিনা পারিশ্রমিকে নির্মাণের জন্য নিয়ে নিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

এদিকে স্থানীয় বাসিন্দা মো. আমজাদ হোসেন অভিযোগ করেছেন, টেন্ডার বা কোটেশন ছাড়াই স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের কাজ দেওয়া হয়েছে। এ অভিযোগে তিনি কলেজের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. শওকত হোসেন, সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ কমিটির আহ্বায়কসহ সংশ্লিষ্ট সদস্যদের আইনি নোটিশ দিয়েছেন। নোটিশে সাত কর্মদিবসের মধ্যে অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

কলেজের দুটি কাঁঠালগাছ কাটার বিষয়েও স্থানীয়ভাবে অভিযোগ ওঠে। এ বিষয়ে অধ্যক্ষ নাসির উদ্দিন বলেন, গাছ দুটি মরা ছিল এবং গাছ কাটার জন্য ম্যানেজিং কমিটির অনুমতি নেওয়া হয়েছিল। তবে উপজেলা প্রশাসনের অনুমোদন নেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাঁর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন বলেও জানান তিনি।

সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘বিনা অনুমতিতে গাছ কাটায় কলেজ কর্তৃপক্ষকে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গাছ বিক্রির টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিতে বলা হয়েছে।’ টেন্ডার ছাড়া কোনো নির্মাণকাজ হয়ে থাকলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

অন্যদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন অভিভাবক অভিযোগ করেন, কলেজের জমি থেকে প্রতিবছর প্রায় দেড় কোটি টাকা ভাড়া আসে। ওই অর্থ কোথায় এবং কীভাবে ব্যয় করা হয়, সে বিষয়ে তাঁদের কাছে স্বচ্ছ কোনো হিসাব নেই। কলেজের পুরোনো ও স্মৃতিবিজড়িত গাছ কাটার বিষয়েও তাঁদের অবহিত করা হয়নি বলে দাবি করেন তাঁরা।

আইনি নোটিশের বিষয়ে অধ্যক্ষ নাসির উদ্দিন বলেন, ‘আমজাদ নামে কাউকে আমি চিনি না। তবে উকিল নোটিশ এলে আমি তার জবাব দেব।’

সরকারি বরাদ্দে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের পাশাপাশি অনুমোদন ছাড়া গাছ কাটার ঘটনায় উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ এবং টেন্ডার ছাড়া নির্মাণকাজের অভিযোগ ঘিরে এলাকায় আলোচনা তৈরি হয়েছে। অভিযোগগুলোর বিষয়ে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা ও নির্মাণকাজের প্রক্রিয়া স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

ইএন/এসএ

Green Tea
সারাবাংলা বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়