ঢাকা, সোমবার ২৪ আগস্ট ২০২৬,   ভাদ্র ৯ ১৪৩৩

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৯:৫০, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২০
আপডেট: ১৯:৫২, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২০

মৌলভীবাজারে ছুটিতে আসা প্রবাসীদের দুর্ভোগ, অনিশ্চয়তা

মৌলভীবাজারের ছুটিতে আসা ৩০ হাজারেরও বেশি প্রবাসীরা দুর্ভোগ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। তাদের কারো ভিসার মেয়াদ, কারো টিকেটের মেয়াদ, আবার কারো ইকামার (ওয়ার্কপারমিট) মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে পড়ায় সংকটে পড়েছেন। অনেকে ঋণগ্রস্তও হয়ে পড়েছেন।

বিশেষ মানবিক ও সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে সরকারি সহায়তা পেতে ইতোমধ্যে ৬ হাজারের বেশি প্রবাসী মৌলভীবাজার কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসে আবেদন করেছেন। কর্মস্থলে ফেরা নিয়েও চরম সংকটে রয়েছেন তারা।

জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিস জানায়, বিশেষ মানবিক ও সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সরকারি সহায়তার আবেদন পরবর্তী নির্দেশনা না পাওয়ার আগ পর্যন্ত নেয়া হবে। প্রতিদিনই মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের প্রবাসীরা আবেদন করছেন। এ পর্যন্ত ৬ হাজারেরও বেশি আবেদন জমা পড়েছে।

প্রবাসীদের অভিযোগ, দু’দফা টিকেট করার পর তা বাতিল হয়ে যাওয়ায় আর্থিকভাবে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তারা। প্রবাসের কর্মস্থলে ফিরে যেতে সরকারের সহায়তা দাবি করে ইতিপূর্বে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী বরাবরে আবেদনসহ স্থানীয়ভাবে সংবাদ সম্মেলনও করেছেন।

বাহরাইন প্রবাসী মৌলভীবাজার সদরের বাসিন্দা জাকির হোসেন বলেন, ‘গত ২৯ জানুয়ারি ৪ মাসের ছুটিতে বাহরাইন থেকে দেশে আসি। এখন ৮ মাস হয়ে গেছে। ভিসার মেয়াদ আরো ২ মাস আছে। আসার সময় আমি রিটার্ন টিকেট করে আসি। যার জন্য এয়ারলাইন্স আমাকে ১৫ আগস্ট টিকিট দেয়। কিন্তু যাওয়ার তিনদিন আগে করোনা টেস্ট করলে পজিটিভ আসে। যেখানে আমার কোন উপসর্গ ছিলনা। সেই তারিখে আমি যেতে পারিনি। ১৪ দিনের হোম কোরাইটাইন ছিলাম। একমাস পর দ্বিতীয় দফায় ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে ১০ হাজার টাকায় রিটার্ন টিকেট করে দেয়। ২০ অক্টোবর আবার তারিখ পড়েছে।’

আহমেদ আলী বলেন, ‘দেশে আসার পর থেকে টাকা পয়সা সব শেষ হয়ে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছি। তারপর বারবার অর্থ খরচ করেও প্রবাসের কর্মস্থলে যেতে পারছি না। ৩ হাজার ৫শ’ টাকার করোনা রিপোর্ট সংগ্রহ করতে তিনদিনে সিলেটে আসা যাওয়া সবমিলিয়ে খরচ হয়েছে ১০ হাজার টাকা। তাছাড়া দুই দফা অনলাইনেও আবেদন করেছি। কোন কাজ হচ্ছে না। এখন নিঃস্ব হয়ে পড়ার উপক্রম হয়েছে।’  

ওমান প্রবাসী সালেহ আহমদ বলেন, ‘চিকিৎসার জন্য গত ৩১ মার্চ একমাসের ছুটি নিয়ে দেশে আসি। এরপর করোনার কারণে আটকা পড়ি। পুণরায় ওমানের কর্মস্থলে যাওয়ার চেষ্টা করেও যেতে পারছি না। অথচ ৩ সেপ্টেম্বর ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। পরিবার পরিজন নিয়ে কিভাবে চলবো তা ভেবে পাচ্ছি না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা প্রবাসে ফেরত যেতে কিংবা সরকারি প্রণোদনা পেতে জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসসহ বিভিন্ন স্থানে ধর্ণা দিয়েও কোন ধরণের সুরাহা পাচ্ছি না।’

এদিকে গত ৭ সেপ্টম্বর মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসন কার্যলয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানে মন্ত্রণালয় এবং জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলার প্রবাসীদের সমস্যা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন- জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান, পৌর মেয়র ফজলুর রহমান, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল হোসেনসহ জেলার গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও সাংবাদিকেরা।

জেলা কর্মসংস্থান অফিস, মৌলভীবাজার এর সহকারী পরিচালক মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘বর্তমান সরকারের ২০১৮ সালের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী প্রতি উপজেলা থেকে বছরে এক হাজার মানুষকে দক্ষ করে গড়ে তুলে সঠিকভাবে বৈদেশিক কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিকরণ বিষয়ে কাজ করে যাচ্ছে প্রবাসী ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।’ 

তিনি বলেন- ‘প্রবাসীরা লিখিত আবেদন করলে আর্থিক প্রণোদনা দেয়া হবে। এছাড়া সহজশর্তে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক থেকে প্রবাসীদের জন্য ব্যাংক ঋণের সুবিধা আছে। প্রবাসীদের একটি ফরম পুরণ করে উর্ধতন অফিসে প্রেরণ করা হচ্ছে।

আইনিউজ/কেএইচএস/এইচকে

Green Tea
সিলেট বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়