ঢাকা, বুধবার   ১৭ জুন ২০২৬,   আষাঢ় ৩ ১৪৩৩

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৭:২২, ১৫ নভেম্বর ২০২০
আপডেট: ১৭:২৩, ১৫ নভেম্বর ২০২০

কমলগঞ্জে ঐতিহ্যবাহী ‘পলো বাওয়া’ উৎসব উদযাপিত

‘পলো বাওয়া’ উৎসব

‘পলো বাওয়া’ উৎসব

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে ধলাই নদে শত বছরেরও বেশি সময় ধরে পালিত হয়ে আসছে গ্রামবাংলার হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী মাছ ধরা উৎসব ‘পলো বাওয়া’। পুরোদমে শুষ্ক মৌসুম শুরু না হলেও কমলগঞ্জ উপজেলার বুক দিয়ে প্রবাহিত ধলাই নদসহ বিভিন্ন এলাকার ছোট ছোট ছড়া-বিলসহ বিভিন্ন জলাশয়ে শুরু হয়েছে পলো বাওয়া উৎসব।

রোববার (১৫ নভেম্বর) বেলা ১২টায় কমলগঞ্জের ধলাই নদে সৌখিন মাছ শিকারীদের অংশগ্রহণে ঐতিহ্যবাহী পলো দিয়ে মাছ ধরার উৎসব উদযাপিত হয়।

পলো বাওয়া উৎসব হলো দল বেঁধে উৎসব মুখর পরিবেশে মাছ ধরা। এতে কমলগঞ্জ পৌর এলাকার দক্ষিণ কুমড়াকাপন, আলেপুর, চন্ডিপুর, কুমড়াকাপন গ্রামসহ উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রায় দুই শতাধিক মানুষ অংশ নিয়ে অল্প পানিতে মাছ শিকারের উৎসবে মেতে উঠেন।

ধলাই নদে বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে দল বেঁধে মাছ ধরার দৃশ্য যেন দেখার মতো। পলো, উড়াল জাল, প্লেইন জাল এসব দিয়েই শিকার করা হয় ছোট-বড়মাছ। দলবদ্ধভাবে মাছ শিকারের এ দৃশ্য দেখতে নদীর দুই তীরে ভিড় জমান উৎসুক মানুষজন। উৎসবে অংশ নেয়া মানুষদের উৎসাহ দিতে হাততালি ও জোরে জোরে চিৎকার করে উৎসাহ প্রদান করেন নদের তীরে অবস্থানরত শিশু,নারী-পুরুষসহ লোকজন।

ধলাই নদে বড়দের পাশাপাশি ছোট ছেলেমেয়েরাও যে যার মতো করে মাছ ধরতে সহযোগিতা করে। মাথা ও কোমরে গামছা বেঁধে অনেকটা আনন্দ নিয়েই মাছ ধরতে দেখা যায় সৌখিন মৎস্য শিকারিদের। সকাল থেকে শুরু হওয়া মাছ ধরার এ উৎসব চলে  বিকাল পর্যন্ত।

ধলাই নদে ৩০-৪০ জনের একটি দল একদিকে জাল নিয়ে সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন। আর অপর প্রান্ত থেকে ৪০-৫০ জনের সারিবদ্ধ দল পলো চাপিয়ে মাছ ধরতে সামনের দিকে এগিয়ে আসেন।

প্রবীণ মাছ শিকারি মাহমুদ মিয়া বলেন, ‘বছরের এই দিনটার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করি। সবাই মিলে একসঙ্গে মাছ ধরার আনন্দটাই আলাদা। লতার কারণে নদী-নালা, খাল-বিল, হাওরের তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে পানি হ্রাস এবং অধিকাংশ জলাশয় ইজারা দেওয়ায় পলো বাওয়া উৎসবে এখন অনেকটাই ভাটা পড়েছে। তারপরও বছরের এই একটা দিনে সবাই মিলিত হয়েই অতীতের ন্যায় মাছ ধরার উৎসব পালন করছি। প্রাচীন এই উৎসবকে টিকিয়ে রাখতে সর্বমহলের উদ্যোগ নেয়ার দাবি জানাই।

’কমলগঞ্জের লেখক, গবেষক ও সমাজচিন্তক আহমেদ সিরাজ বলেন, আধুনিকতার ছোঁয়ায় গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য পলো বাওয়া উৎসব হারিয়ে বসতে চলেছে। এখনও যে এটিকে ধরে রেখেছেন সৌখিন মাছ শিকারীরা সেজন্য তাদের ধন্যবাদ জানাতে হয়।

তিনি আরও বলেন, পলো বাওয়া একটি আনন্দ উৎসব। তার সাথে এ উৎসবের মাধ্যমে নদ-নদী থেকে তাজা দেশী মাছ পাওয়া যায়।

আইনিউজ/এম.আর/এসডিপি

Green Tea
সিলেট বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ