রুপম আচার্য্য
একটা ফ্যামিলি কার্ড হইলে বহুত উপকার হইবো, আমরা অসহায় গরীব মানুষ
ফ্যামিলি কার্ডের আওতাভুক্ত জয়ফুল বিবি
আগামী ১৭ জুন সরকারের ফ্যামিলি কার্ড পেতে যাচ্ছেন প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ১৫৫ জন অসহায় নারী। তাদের মধ্যে একজন জয়ফুল বিবি। নদীভাঙনের শিকার এই নারী দীর্ঘদিন ধরে ভাঙাচোরা টিনের ঘরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। দারিদ্র্য ও অভাবের সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়াই করে চলা জয়ফুল বিবির কাছে ফ্যামিলি কার্ড এখন নতুন আশার প্রতীক।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জরাজীর্ণ একটি টিনের ঘরই তাঁর পরিবারের একমাত্র আশ্রয়স্থল। অনেক সময় একবেলা খাবার জুটলেও আরেকবেলা অনাহারে কাটাতে হয়। মানুষের বাসাবাড়িতে কাজ করে কোনোমতে সংসার চালান তিনি। স্বামী দিনমজুরের কাজ করেন। চার মেয়েকে নিয়ে অভাব-অনটনের মধ্যেই কাটছে তাদের জীবন।
এমন পরিস্থিতিতে সরকারের ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার খবর জয়ফুল বিবির পরিবারে স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে। তিনি মনে করেন, কার্ডের মাধ্যমে স্বল্পমূল্যে খাদ্যপণ্য পাওয়ার সুযোগ তাদের জীবনসংগ্রামে কিছুটা হলেও সহায়তা করবে।
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের সুইলপুর গ্রামের বাসিন্দা জয়ফুল বিবি বলেন, “নদীর পাড়ে ভাঙা ঘরে চারটা মেয়েসহ অসহায় আমি, মানুষের বাসায় কাজকাম করে চলি। আমরার ঘরবাড়ি নাই, জামাই মাঠির কাজ করে। অনেক কষ্টে পরিবার নিয়ে চলি। সরকার ও তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানাইলাম। সরকার আমরারে ফ্যামিলি কার্ড দিবেন। একটা ফ্যামিলি কার্ড হইলে ভৌত উপকার হইবো আমরার লাগি, আমরা অসহায় গরীব মানুষ।”
জানা গেছে, শ্রীমঙ্গলের মির্জাপুর ইউনিয়নের ১৫৫টি পরিবারের জীবনে নতুন আশার বার্তা নিয়ে এসেছে সরকারের ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে দীর্ঘদিন ধরে অর্থনৈতিক সংকটে থাকা পরিবারগুলো এই কার্ডের মাধ্যমে স্বল্পমূল্যে খাদ্যপণ্য পাওয়ার সুযোগ পাবে।
এলাকাজুড়ে এখন ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। কার্ডপ্রাপ্তদের তালিকায় নাম ওঠায় অনেক পরিবার স্বস্তি প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি এবং সীমিত আয়ের কারণে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছিল। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে মাসিক ব্যয়ের চাপ কিছুটা কমবে এবং পরিবারগুলো আর্থিকভাবে উপকৃত হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সুবিধাভোগী নির্বাচনের ক্ষেত্রে নিম্নআয়ের, অসহায় ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে ইউনিয়নের ১৫৫টি পরিবারকে প্রাথমিকভাবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রকৃত দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারগুলোকে সহায়তার আওতায় আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। তারা আশা করছেন, এই উদ্যোগ গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামী ১৭ জুন মৌলভীবাজার জেলা সফর করবেন। সফরকালে তিনি শ্রীমঙ্গল ও মৌলভীবাজার সদরে তৃতীয় ধাপে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন। এছাড়া তিনি দুসাই রিসোর্টে আয়োজিত একটি রাজনৈতিক সভায় অংশ নেবেন।
ইএন/এসএ
- দুলাভাইয়ের ধর্ষণের শিকার শ্যালিকা
- মৌলভীবাজারের রাজনগরে
আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেল বিধবা রুবির বিউটি পার্লার - `প্রধানমন্ত্রীর কথা বলে আমাদের ধোকা দেওয়া হচ্ছে`
- রাখাল নৃত্যের মধ্য দিয়ে কমলগঞ্জে রাস উৎসব শুরু
- কমলগঞ্জে মাদকবিরোধী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত
- মেয়ের বাড়িতে ইফতার: সিলেটি প্রথার বিলুপ্তি চায় নতুন প্রজন্ম
- দেশের চতুর্থ ধনী বিভাগ সিলেট
- অবশেষে ক্লাস করার অনুমতি পেল শ্রীমঙ্গলের শিশু শিক্ষার্থী নাঈম
- শ্রীমঙ্গল টু কাতারে গড়ে তুলেছেন শক্তিশালি নেটওয়ার্ক
মৌলভীবাজারে অনলাইন জুয়ায় রাতারাতি কোটিপতি সাগর - এসএসসির ফলাফলে বিভাগে ৩য় স্থানে মৌলভীবাজার
























