ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৬ জুন ২০২৬,   আষাঢ় ৩ ১৪৩৩

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৩:২৯, ১৫ জুন ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীর সফরে জেগেছে মৌলভীবাজারের তিন স্বপ্ন

এম নাসের রহমান

এম নাসের রহমান

আগামী ১৭ জুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মৌলভীবাজার সফরকে ঘিরে জেলায় বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পাইলটিং কর্মসূচির তৃতীয় পর্যায়ের উদ্বোধন উপলক্ষে তাঁর এ সফরকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক প্রস্তুতির পাশাপাশি নতুন করে আলোচনায় এসেছে জেলার দীর্ঘদিনের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি। এগুলো হলো মৌলভীবাজারে মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা, শমশেরনগর বিমানবন্দর চালু এবং মৌলভীবাজার সরকারি কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে উন্নীতকরণ।

সোমবার (১৫ জুন) বিকেলে মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানস্থলের নির্মাণাধীন মঞ্চ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন মৌলভীবাজার-৩ (সদর-রাজনগর) আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এম নাসের রহমান।

মেডিকেল কলেজ, শমশেরনগর বিমানবন্দর ও বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ বাস্তবায়নের আশ্বাস

তিনি বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মৌলভীবাজার সফর আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের বিষয়। বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র চার মাসের মাথায় প্রধানমন্ত্রীর এ সফর সত্যিই অভূতপূর্ব। আমরা তাঁকে স্বাগত জানাতে সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি।”

নাসের রহমান বলেন, নির্বাচনের আগে দেওয়া উন্নয়ন প্রতিশ্রুতিগুলোর বাস্তবায়ন আগামী অর্থবছর থেকেই শুরু হবে বলে তিনি আশাবাদী।

তিনি বলেন, “আগামী ১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া নতুন অর্থবছরে বিএনপি সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি।”

জেলার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “মৌলভীবাজারে মেডিকেল কলেজ স্থাপন, শমশেরনগর বিমানবন্দর চালু এবং মৌলভীবাজার সরকারি কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে রূপান্তরের বিষয়গুলো এখন বাস্তবায়নের পথে রয়েছে।”

শমশেরনগর বিমানবন্দর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমার দাবির প্রেক্ষিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীকে আগামী ২০ জুন বিমানবন্দরটি পরিদর্শনের নির্দেশ দিয়েছেন। তারা সরেজমিনে পরিদর্শন করবেন। এ বিষয়ে কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।”

মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার বিষয়ে তিনি জানান, এ সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ নকশা ও পরিকল্পনা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে উপস্থাপন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, “একটি টিম ইতোমধ্যে প্রাথমিক পরিদর্শন করেছে। আরও বিশেষজ্ঞ টিম আসবে। মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালকে কেন্দ্র করেই মেডিকেল কলেজ স্থাপন সম্ভব বলে আমরা মনে করছি।”

মৌলভীবাজার সরকারি কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে উন্নীত করার বিষয়ে তিনি বলেন, “অবকাঠামোগত উন্নয়ন, নতুন একাডেমিক ভবন, ছাত্রাবাস নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় সব পরিকল্পনা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীরও এ বিষয়ে ইতিবাচক দৃষ্টি রয়েছে। আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে এসব প্রকল্পে দৃশ্যমান অগ্রগতি হবে বলে আশা করছি।”

জেলার সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রসঙ্গেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। বলেন, “ধাপে ধাপে জেলার সব গুরুত্বপূর্ণ সড়কের উন্নয়ন করা হবে। পাশাপাশি জেলার স্বার্থসংশ্লিষ্ট আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ দাবি প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরা হবে।”

মঞ্চ পরিদর্শনকালে এমপি নাসের রহমানের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন রাজনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি নুরুল ইসলাম শেলুন, জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি মো. বদরুল আলম, জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আকিদুর রহমান সোহান, মৌলভীবাজার সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক জনি আহমেদসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

এদিকে মঞ্চ পরিদর্শন শেষে সোমবার সন্ধ্যায় মৌলভীবাজার পৌরসভা কনফারেন্স রুমে প্রধানমন্ত্রীর সফর সফল করতে জেলা বিএনপি, সদর উপজেলা বিএনপি, রাজনগর উপজেলা বিএনপি, মৌলভীবাজার পৌর বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে এক যৌথ প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়।

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফয়জুল করিম ময়ূনের সভাপতিত্বে সভাটি পরিচালনা করেন সদস্য সচিব আব্দুর রহিম রিপন।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এম নাসের রহমান বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। এটি শুধু একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং মৌলভীবাজারের উন্নয়ন সম্ভাবনা এবং জেলার দীর্ঘদিনের দাবিগুলো জাতীয় পর্যায়ে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।”

তিনি নেতাকর্মীদের শৃঙ্খলা বজায় রাখা, আগত অতিথিদের যথাযথ অভ্যর্থনা নিশ্চিত করা এবং কর্মসূচি সফল করতে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেন। সভায় জেলা, উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশ নেন। এ সময় জনসমাগম, শৃঙ্খলা, অভ্যর্থনা, পরিবহন ব্যবস্থা, মাঠ ব্যবস্থাপনা এবং সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ফ্যামিলি কার্ড পাইলটিং কর্মসূচির আওতায় শ্রীমঙ্গল উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ১৫৫ জন এবং রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ১৫২ জন উপকারভোগীর মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হবে। উপকারভোগীদের তালিকা চূড়ান্ত করতে একাধিক ধাপে যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে ইতোমধ্যে জেলার সরকারি দপ্তরগুলোতে প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে। জেলা শহরের সড়ক, সরকারি স্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও সজ্জিত করার কাজ চলছে। পাশাপাশি মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ এবং শ্রীমঙ্গল ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে মঞ্চ নির্মাণসহ অনুষ্ঠানস্থলের প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

জেলা বিএনপির নেতারা জানান, প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মীর অংশগ্রহণে এটি সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক সমাবেশে রূপ নিতে পারে।

এখন পুরো মৌলভীবাজারের দৃষ্টি ১৭ জুনের দিকে। জেলার মানুষের প্রত্যাশা, প্রধানমন্ত্রীর এ সফর শুধু একটি কর্মসূচির উদ্বোধনেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং মেডিকেল কলেজ, শমশেরনগর বিমানবন্দর এবং বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ প্রতিষ্ঠাসহ দীর্ঘদিনের উন্নয়ন স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথকে আরও সুগম করবে।

ইএন/এসএ

Green Tea
সিলেট বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়