সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
আত্তীকৃত শিক্ষককে অধ্যক্ষ পদে পদায়ন, সুনামগঞ্জে সমালোচনার ঝড়
ছবি: আই নিউজ
সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজে আত্তীকৃত শিক্ষক অধ্যাপক মো. শাহাদত হোসেনকে অধ্যক্ষ হিসেবে পদায়ন করাকে কেন্দ্র করে শিক্ষক, প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থী এবং শিক্ষা ক্যাডারের একটি অংশের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে চলছে নানা প্রতিক্রিয়া।
জানা গেছে, মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে মো. শাহাদত হোসেনকে সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে পদায়ন করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, শাহাদত হোসেন প্রথমে সুনামগঞ্জ মহিলা কলেজে বেসরকারি শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরে ১৯৯৯ সালে তৎকালীন সরকারের সময়ে ১৯৮১ বিধির আওতায় জাতীয়করণ হওয়া ১৮টি মহিলা কলেজের একটি হিসেবে সুনামগঞ্জ মহিলা কলেজ সরকারি হলে তিনিও আত্তীকৃত শিক্ষক হিসেবে সরকারি চাকরিতে অন্তর্ভুক্ত হন।
সমালোচকদের দাবি, ওই ১৮টি কলেজের শিক্ষকদের ক্যাডার মর্যাদা নিয়ে প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল ও উচ্চ আদালতে মামলা হয়েছিল। আদালতের রায়ে তারা নন-ক্যাডার হিসেবে বিবেচিত হন। পরে এ বিষয়ে আপিল করা হলেও এখনো তার নিষ্পত্তি হয়নি। এর মধ্যেই শাহাদত হোসেনকে অধ্যাপক পদে পদোন্নতি দিয়ে অধ্যক্ষ হিসেবে পদায়ন করায় প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজে ১৬, ১৮ ও ২০ ব্যাচের একাধিক জ্যেষ্ঠ বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের অধ্যাপক কর্মরত রয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কলেজের এক শিক্ষক বলেন, "প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল ও উচ্চ আদালতের রায়ে নন-ক্যাডার হিসেবে ঘোষিত হওয়ার পরও কীভাবে বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের মাঠপর্যায়ের সর্বোচ্চ প্রাতিষ্ঠানিক প্রধানের পদে তাকে পদায়ন করা হলো, তা আমাদের কাছে বিস্ময়কর। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।"
অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মহিবুল ইসলাম বলেন, "বিষয়টি কীভাবে বিবেচনায় এলো, সেটাই বুঝতে পারছি না। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের এ বিষয়ে প্রতিবাদ জানানো উচিত।"
আরেকজন অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বলেন,
"এত জ্যেষ্ঠ বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও এমন পদায়ন শিক্ষা ক্যাডারের অনেক কর্মকর্তার মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে।"
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আবুল কাশেম আজাদ বলেন, "আদালতের মামলার প্রেক্ষাপটে ২০০০ বিধি অনুসারে তারা বিসিএস ক্যাডারের অন্তর্ভুক্ত হলেও ১৯৮১ বিধি অনুসারে নন-ক্যাডার হিসেবে বিষয়টি বিচারাধীন রয়েছে। এ বিষয়ে আত্তীকৃত শিক্ষকদের করা আপিলের রায় এখনো হয়নি। সরকার যে সিদ্ধান্ত নেবে, আমরা সে অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করব।"
এদিকে সরকারি ব্রজমোহন কলেজের এক অধ্যাপক নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে দাবি করেন, ১৯৮১ বিধিতে আত্তীকৃত কিছু শিক্ষক নিজেদের পরিচয় গোপন রেখে বর্তমান পদবি ব্যবহার করে বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন এবং বিভিন্ন ক্যাডার পদে পদায়নের চেষ্টা করছেন।
তিনি আরও দাবি করেন, প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনালের রায় অনুযায়ী তারা জ্যেষ্ঠতা ও সিলেকশন গ্রেডের সুবিধা পেলেও বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের সদস্য নন। এ বিষয়ে তিনি শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ইব্রাহিম মিয়া বলেন,
"বিতর্কিত একজন ব্যক্তি কীভাবে অধ্যক্ষ হলেন, তা নিয়ে আমি হতবাক। কলেজের বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের শিক্ষকদের বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ জানানো উচিত।"
শাহাদত হোসেনের অধ্যক্ষ হিসেবে পদায়নের ঘোষণার পর থেকেই ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। তবে এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা নবনিযুক্ত অধ্যক্ষ মো. শাহাদত হোসেনের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ইএন/এসএ
- দুলাভাইয়ের ধর্ষণের শিকার শ্যালিকা
- মৌলভীবাজারের রাজনগরে
আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেল বিধবা রুবির বিউটি পার্লার - `প্রধানমন্ত্রীর কথা বলে আমাদের ধোকা দেওয়া হচ্ছে`
- রাখাল নৃত্যের মধ্য দিয়ে কমলগঞ্জে রাস উৎসব শুরু
- কমলগঞ্জে মাদকবিরোধী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত
- মেয়ের বাড়িতে ইফতার: সিলেটি প্রথার বিলুপ্তি চায় নতুন প্রজন্ম
- দেশের চতুর্থ ধনী বিভাগ সিলেট
- অবশেষে ক্লাস করার অনুমতি পেল শ্রীমঙ্গলের শিশু শিক্ষার্থী নাঈম
- শ্রীমঙ্গল টু কাতারে গড়ে তুলেছেন শক্তিশালি নেটওয়ার্ক
মৌলভীবাজারে অনলাইন জুয়ায় রাতারাতি কোটিপতি সাগর - এসএসসির ফলাফলে বিভাগে ৩য় স্থানে মৌলভীবাজার





















