শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি
শ্রীমঙ্গলে বইপড়া উৎসবে শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধ করছে উপজেলা প্রশাসন
ছবি: আই নিউজ
পাঠ্যবইয়ের গণ্ডি পেরিয়ে শিক্ষার্থীদের গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, কাব্যসহ বিভিন্ন ধরনের বই পড়ায় আগ্রহী করে তুলতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রশাসন। ‘বই পড়ি, মন গড়ি’ স্লোগানকে সামনে রেখে গত ২১ জুলাই থেকে শুরু হয়েছে ‘শ্রীমঙ্গল বইপড়া উৎসব-২০২৬’। এ উৎসবের অংশ হিসেবে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে শিক্ষার্থীদের বই পড়ায় উদ্বুদ্ধ করছেন উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
তিন ধাপে আয়োজিত এই বইপড়া উৎসবের প্রথম ধাপ ‘মুকুল পর্ব’ উপলক্ষে সোমবার শ্রীমঙ্গলের পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উদ্বুদ্ধকরণ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এদিন শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা প্রশাসক মো. জিয়াউর রহমান সরেজমিনে ভৈরবগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়, সিরাজনগর জে.এস.এস.আর. মাদ্রাসা, শ্রীমঙ্গল আনোয়ারুল উলুম ফাজিল মাদ্রাসা, সেন্ট মার্থাস হাই স্কুল এবং ভূনবীর দশরথ স্কুল অ্যান্ড কলেজ পরিদর্শন করেন।
প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করে পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি সাহিত্য, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ ও কাব্যগ্রন্থ পড়ার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আনন্দের জন্য বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। বই মানুষকে নিজেকে জানার পাশাপাশি বিশ্বকে জানার সুযোগ করে দেয়। তাই আগামী প্রজন্মকে সমৃদ্ধ ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে বই পড়ার বিকল্প নেই।
উদ্বুদ্ধকরণ সমাবেশে শ্রীমঙ্গল বইপড়া উৎসবের সমন্বয়ক ও শ্রীমঙ্গল আবৃত্তি উৎসবের নির্বাহী পরিচালক দেবাশীষ দাশ এবং উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্লাবন পাল উপস্থিত ছিলেন।
ইউএনও মো. জিয়াউর রহমান বলেন, “উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা শ্রীমঙ্গলের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বই পড়ার অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করতে চাই। আমরা আশা করি, বই পড়ার মাধ্যমে আমাদের আগামী প্রজন্ম নিজেদের আরও সমৃদ্ধ করবে।”
আয়োজকদের মতে, স্মার্টফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমনির্ভর এই সময়ে শিক্ষার্থীদের বইমুখী করতে উপজেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগ ইতোমধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে বই পড়ার নতুন আগ্রহ ও উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২১ জুলাই শুরু হওয়া শ্রীমঙ্গল বইপড়া উৎসবের প্রথম ধাপ ‘মুকুল পর্বে’ উপজেলার মাধ্যমিক ও তদূর্ধ্ব ৩৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ২৫ হাজার শিক্ষার্থী শ্রেণিভিত্তিক নির্ধারিত ১৪টি বই পড়ছে। আগামী ১৭ আগস্ট এসব বইয়ের ওপর প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শ্রেণিভিত্তিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে প্রতিটি শ্রেণি থেকে সেরা ১০ জন শিক্ষার্থী দ্বিতীয় ধাপ ‘ফুল পর্বে’ অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে। সেখানে নতুন বই পড়ে আবারও পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে তারা। পরবর্তীতে প্রতিটি শ্রেণি থেকে সেরা ৩ জন শিক্ষার্থী উপজেলা পর্যায়ের চূড়ান্ত ‘ফল পর্বে’ অংশগ্রহণ করবে।
চূড়ান্ত পর্বে নতুন বইয়ের ওপর পরীক্ষার মাধ্যমে উপজেলা পর্যায়ে শ্রেণিভিত্তিক সেরা ১০ জন শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে। এভাবে চূড়ান্ত ধাপে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক শিক্ষার্থী তিনটি পৃথক ধাপে অন্তত তিনটি বই পড়ার সুযোগ পাবে।
এবারের উৎসবে নতুনভাবে যুক্ত হয়েছে উন্মুক্ত বিভাগ, যেখানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বাইরের যে কোনো বয়সী ব্যক্তি নিবন্ধন করে বইপড়া উৎসবে অংশ নিতে পারবেন।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ বইপড়া উৎসবে শ্রীমঙ্গল আবৃত্তি উৎসব সমন্বয় সহযোগী এবং উত্তরণ পাঠ সহযোগী হিসেবে যুক্ত রয়েছে।
ইএন/এসএ
- দুলাভাইয়ের ধর্ষণের শিকার শ্যালিকা
- মৌলভীবাজারের রাজনগরে
আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেল বিধবা রুবির বিউটি পার্লার - `প্রধানমন্ত্রীর কথা বলে আমাদের ধোকা দেওয়া হচ্ছে`
- রাখাল নৃত্যের মধ্য দিয়ে কমলগঞ্জে রাস উৎসব শুরু
- কমলগঞ্জে মাদকবিরোধী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত
- মেয়ের বাড়িতে ইফতার: সিলেটি প্রথার বিলুপ্তি চায় নতুন প্রজন্ম
- দেশের চতুর্থ ধনী বিভাগ সিলেট
- অবশেষে ক্লাস করার অনুমতি পেল শ্রীমঙ্গলের শিশু শিক্ষার্থী নাঈম
- শ্রীমঙ্গল টু কাতারে গড়ে তুলেছেন শক্তিশালি নেটওয়ার্ক
মৌলভীবাজারে অনলাইন জুয়ায় রাতারাতি কোটিপতি সাগর - এসএসসির ফলাফলে বিভাগে ৩য় স্থানে মৌলভীবাজার
























