ঢাকা, রোববার ০২ আগস্ট ২০২৬,   শ্রাবণ ১৭ ১৪৩৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৩:১১, ১ আগস্ট ২০২৬

এআই ভুয়া ভিডিও ছড়িয়ে চরিত্রহননের অভিযোগ, আইনি ব্যবস্থা শুরু

এমপি নাসের রহমান

এমপি নাসের রহমান

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির অপব্যবহার করে মৌলভীবাজার-৩ (সদর-রাজনগর) আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এম নাসের রহমানকে জড়িয়ে ভুয়া, বিকৃত ও অশ্লীল ভিডিও তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টিকে পরিকল্পিত রাজনৈতিক অপপ্রচার ও চরিত্রহননের অপচেষ্টা উল্লেখ করে তিনি এর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছেন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলেও জানিয়েছেন।

শনিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক জরুরি বার্তায় এম নাসের রহমান বলেন, সম্প্রতি তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার লক্ষ্যে তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির অপব্যবহার করে একটি ভুয়া, বিকৃত ও অশ্লীল ভিডিও তৈরি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করছে। ওই ভিডিওতে তার মুখমণ্ডলের ছবি অন্য একজনের শরীরে সংযুক্ত করে বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট তৈরি করা হয়েছে, যার উদ্দেশ্য তাকে ব্যক্তিগতভাবে এবং তার রাজনৈতিক দলকে জনসমক্ষে হেয়প্রতিপন্ন করা।

তিনি বলেন, এ ধরনের অপপ্রচার শুধু একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়, বরং রাজনীতিতে অসুস্থ সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার একটি গভীর ষড়যন্ত্র। প্রযুক্তির অপব্যবহার করে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

এম নাসের রহমান জানান, ঘটনার পরপরই প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ডিজিটাল আলামত সংরক্ষণ, প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ এবং অপরাধীদের শনাক্তে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।

তিনি আরও জানান, সরকারের একটি বিশেষায়িত সংস্থা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। ভুয়া ভিডিও তৈরি, প্রচার ও প্রচারণার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং তাদের গ্রেপ্তারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।

সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো ভুয়া বা বিভ্রান্তিকর এআই-নির্মিত ভিডিও, ছবি কিংবা তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার বা প্রচার করা থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে। কারণ, এ ধরনের কনটেন্ট ইচ্ছাকৃতভাবে প্রচার বা পুনঃপ্রচার করাও প্রচলিত তথ্যপ্রযুক্তি আইনের আওতায় দণ্ডনীয় অপরাধ হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো তথ্য বা ভিডিও দেখলেই সেটিকে সত্য বলে ধরে নেওয়া উচিত নয়। প্রযুক্তির উৎকর্ষের এই সময়ে এআই ব্যবহার করে অত্যন্ত বাস্তবসম্মত ভুয়া ছবি ও ভিডিও তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে। তাই সচেতনতা বৃদ্ধি এবং তথ্য যাচাইয়ের কোনো বিকল্প নেই।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির অপব্যবহার করে ভুয়া ছবি ও ভিডিও তৈরি এবং তা ছড়িয়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে বিতর্কিত করার প্রবণতা বিশ্বজুড়েই উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। বাংলাদেশেও এ ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত, প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ এবং কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ সময়ের দাবি বলে তারা মনে করছেন।

উল্লেখ্য, শনিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক জরুরি বার্তার মাধ্যমে এম নাসের রহমান বিষয়টি জনসমক্ষে তুলে ধরেন এবং গুজব ও ভুয়া এআই-নির্মিত কনটেন্ট সম্পর্কে সচেতন থাকার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।

ইএন/এসএ

Green Tea
সিলেট বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়