ঢাকা, শুক্রবার ৩১ জুলাই ২০২৬,   শ্রাবণ ১৬ ১৪৩৩

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১২:৫৪, ৩১ জুলাই ২০২৬

সন্তান হ`ত্যা`র হুমকি দিয়ে বিধবা নারীকে ধ`র্ষ`ণে`র অভিযোগ

এআই প্রযুক্তি দিয়ে তৈরি প্রতীকী ছবি।

এআই প্রযুক্তি দিয়ে তৈরি প্রতীকী ছবি।

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের নতুন পৈন্দা গ্রামে এক হিন্দু বিধবা নারীকে সন্তানদের হত্যার হুমকি দিয়ে ধর্ষণ এবং পরে জোরপূর্বক গর্ভপাত ঘটানোর অভিযোগ উঠেছে একই গ্রামের বাসিন্দা আতাউর রহমান (৪৫)-এর বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী ওই নারী তিন সন্তানের জননী। তাঁর বয়স আনুমানিক ২৭ বছর।

ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার পর বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে প্রায় দুই থেকে তিন মাস আগে গ্রাম পঞ্চায়েতের উদ্যোগে সালিস অনুষ্ঠিত হয়। ওই সালিসে ভুক্তভোগী নারীকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে এক লাখ টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। অভিযুক্ত ও তাঁর পরিবার প্রথমে রায় মেনে নিলেও পরে ক্ষতিপূরণের অর্থ না দিয়ে উল্টো ভুক্তভোগীকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দিতে শুরু করে।

পরে সালিসে উপস্থিত মোহনপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সফর আলীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের পরামর্শে ভুক্তভোগী নারী সুনামগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা (মোং নং-১৪৩/২০২৬) দায়ের করেন। আদালত মামলাটি এফআইআর হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দিলে অভিযুক্ত আতাউর রহমান আত্মগোপনে চলে যান বলে অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, মামলার পর থেকে অভিযুক্তের পরিবারের সদস্যরা তাঁদের প্রতিনিয়ত প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছেন। ফলে তাঁরা চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন এবং স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারছেন না।

ভুক্তভোগী নারী জানান, স্বামীর মৃত্যুর পর তিন সন্তানকে নিয়ে স্বামীর রেখে যাওয়া সামান্য জমিজমি চাষাবাদ করে কোনোমতে সংসার চালিয়ে আসছিলেন। এ সময় প্রতিবেশী আতাউর রহমান তাঁর সঙ্গে পরিচয় গড়ে তোলেন। একপর্যায়ে বিয়ে করার এবং সন্তানদের দায়িত্ব নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তাঁর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি করেন।

নারীর অভিযোগ, অভিযুক্ত প্রায়ই শারীরিক সম্পর্কের প্রস্তাব দিতেন। তিনি বিয়ের আগে এমন সম্পর্কে রাজি না হওয়ায় এক রাতে সবাই ঘুমিয়ে থাকার সুযোগে আতাউর রহমান ঘরে প্রবেশ করেন। এ সময় তিনি শারীরিক সম্পর্কের জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। রাজি না হলে ঘুমন্ত সন্তানদের গলা কেটে হত্যার হুমকি দেন। সন্তানদের নিরাপত্তার কথা ভেবে প্রতিরোধ করতে না পেরে তিনি ধর্ষণের শিকার হন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, পরবর্তীতে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে অভিযুক্ত একাধিকবার তাঁর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। এতে তিনি গর্ভবতী হয়ে পড়েন। বিষয়টি জানার পর আতাউর রহমান কৌশলে তাঁকে গর্ভপাতের ওষুধ খাওয়ান। এতে প্রায় তিন মাসের গর্ভপাত ঘটে এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হওয়ায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়। এরপরই ঘটনাটি এলাকায় প্রকাশ পায়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মোহনপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সফর আলী বলেন, “এটি আমাদের এলাকার জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক ঘটনা। বিষয়টি জানার পর জনপ্রতিনিধি হিসেবে সালিসের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করেছি। কিন্তু অভিযুক্ত ও তাঁর পরিবার সালিসের সিদ্ধান্ত মানেনি। পরে ভুক্তভোগীকে আইনের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। তিনি আদালতে মামলা করেছেন। আমরা দ্রুত অভিযুক্তের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”

এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন শেখ পিপিএম বলেন, “বিষয়টি আমার জানা নেই। ফেসবুকে দেখেছি, এর বেশি কিছু জানি না।”

স্থানীয়দের দাবি, এমন গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে সালিস বা জরিমানা কোনো সমাধান হতে পারে না। তাঁরা দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত আতাউর রহমানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো মন্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

ইএন/এসএ

Green Tea
সিলেট বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ