ঢাকা, বৃহস্পতিবার ০৬ আগস্ট ২০২৬,   শ্রাবণ ২২ ১৪৩৩

নেত্রকোনা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৭:০০, ৬ আগস্ট ২০২৬

নেত্রকোনায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা

কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়া

কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়া

নেত্রকোনার জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে ১৫ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবা বাদী হয়ে নেত্রকোনা মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত রিপন মিয়া আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

অভিযুক্ত রিপন মিয়া নেত্রকোনা সদর উপজেলার দক্ষিণ বিশিউড়া গ্রামের মঞ্জিল মিয়ার ছেলে। কয়েক বছর আগে তিনি পৈতৃক বাড়ি ছেড়ে পার্শ্ববর্তী নন্দুরা গ্রামে বসবাস শুরু করেন। ভুক্তভোগী স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত শনিবার রাত প্রায় ৮টার দিকে রিপন মিয়া ভুক্তভোগীর বাড়িতে যান। সে সময় কিশোরীর বাবা স্থানীয় বাজারে চায়ের দোকানে এবং মা বাইরে কাজে ছিলেন। বাড়ির উঠানে রান্নারত অবস্থায় থাকা কিশোরীকে জোর করে পাশের একটি জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে তার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্ত পালিয়ে যান।

ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি, কিশোরীকে নিয়ে কনটেন্ট তৈরি করে জনপ্রিয় করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে রিপন মিয়া দীর্ঘদিন ধরে তাকে উত্যক্ত করতেন। লোকলজ্জার ভয়ে পরিবারটি প্রথমে বিষয়টি গোপন রাখলেও পরে এলাকায় জানাজানি হলে সোমবার রাতে স্থানীয় একটি বাজারে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে একটি সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

সালিশে উপস্থিত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ফজলুর রহমানের নেতৃত্বে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে রিপন মিয়া অভিযোগ স্বীকার করে ক্ষমা চান বলে দাবি করা হয়। পরে তাকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এক সপ্তাহের মধ্যে অর্থ পরিশোধ করতে না পারলে তার বাড়ি ভুক্তভোগীর নামে লিখে দেওয়ার প্রস্তাবও আসে। পাশাপাশি তাকে এলাকা ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

মঙ্গলবার সকালে সালিশের কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। একটি ভিডিওতে রিপন মিয়াকে উপস্থিত সবার কাছে ক্ষমা চাইতে দেখা যায়। এরপর থেকেই তিনি আত্মগোপনে চলে যান বলে স্থানীয়রা জানান।

ঘটনা জানার পর নেত্রকোনা মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ভুক্তভোগীর পরিবার, সালিশে উপস্থিত ব্যক্তিদের এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে। পরে রাতে ভুক্তভোগীর বাবা থানায় ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন।

ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ফজলুর রহমান বলেন, ভুক্তভোগীর পরিবার দরিদ্র হওয়ায় তারা প্রথমে স্থানীয়ভাবে বিচার চেয়েছিল। পরে সালিশে বসা হলেও পরিবারের সদস্যদের আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। সালিশে ক্ষতিপূরণ হিসেবে পাঁচ লাখ টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল।

স্থানীয় মাতব্বর মুখলেছুর রহমান দৌলত বলেন, রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে অনৈতিক কাজের অভিযোগে সালিশ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেখানে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন বলে দাবি করেন তিনি। ভুক্তভোগীর ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করেই ক্ষতিপূরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

অন্যদিকে রিপন মিয়ার স্ত্রী চম্পা আক্তার বলেন, তিনি ঘটনাটি বিস্তারিত জানেন না। তার স্বামী নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন এবং তার বিরুদ্ধে অন্যায়ভাবে অভিযোগ আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, ওই ছাত্রীর পরিবারের সঙ্গে তাদের আগে থেকেই পারিবারিক যোগাযোগ ছিল।

নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের বলেন, ভুক্তভোগীর বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে ধর্ষণ মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। ঘটনার পর অভিযুক্ত আত্মগোপনে চলে গেছেন। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

উল্লেখ্য, পেশায় কাঠমিস্ত্রি রিপন মিয়া ২০১৬ সাল থেকে ফেসবুকে ভিডিও তৈরি করে পরিচিতি লাভ করেন। ‘হাই আই এম রিপন ভিডিও’ এবং ‘আই লাভ ইউ, এটাই বাস্তব’ সংলাপভিত্তিক ভিডিওর মাধ্যমে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। ২০১৯ সালে খোলা তার ‘রিপন মিয়া’ নামের ফেসবুক পেজে বর্তমানে প্রায় ১৯ লাখ অনুসারী রয়েছে।

ইএন/এসএ

Green Tea
সারাবাংলা বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়