নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট: ২০:৩৫, ১৬ নভেম্বর ২০২০
মৌলভীবাজারে নবান্ন উৎসব
মৌলভীবাজারে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে কৃষকের ঘরে উঠল নবান্নের পাকা ধান।
সোমবার (১৬ নভেম্বর) সকালে জেলা প্রশাসন, মৌলভীবাজার ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে জেলা প্রশাসক, মৌলভীবাজার জনাব মীর নাহিদ আহসানের নেতৃত্বে আমন ধান কর্তন ও নবান্ন উৎসব আয়োজিত হয়েছে।
এবারে আমন চাষের ভর মৌসুমে এ অঞ্চলে বৃষ্টিপাত তুলনামূলকভাবে অনেকটা কম হয়েছে। এতে মৌলভীবাজার জেলায় বন্যা ও হাওরাঞ্চলে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়নি। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে জেলার সাতটি উপজেলার কৃষকরা শুরু থেকেই ব্যাপকভাবে রোপা আমন চাষাবাদ করেন। অতিবৃষ্টি, বন্যার কারণে বিগত দশ বছরে যেসব জমিতে কোন আমন ফসল লাগানো যায়নি এবছর এসব জমিতেও আমন চাষাবাদ হয়েছে।
মৌলভীবাজারে এবছর নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ১ হাজার ২৮০ হেক্টর জমিতে অধিক চাষাবাদ হয়েছে। উৎপাদন ধরা হয়েছে, দুই লাখ ৯০ হাজার মেট্রিকটন চাল। আর প্রতি হেক্টরে উৎপাদন ধরা হয়েছে চার দশমিক ছয় মেট্রিক টন।
ধান কাটায় অংশগ্রহণ করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক ও আইসিটি) জনাব মোঃ মামুনুর রশীদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব ও শিক্ষা) জনাব মল্লিকা দে জেলা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, মৌলভীবাজার সদর জনাব শরিফুল ইসলাম, জেলা প্রশাসনের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটগণ, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাগণ, কৃষি উদ্যোক্তা এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা।
নবান্ন উৎসবের ইতিকথা
বাংলাদেশে প্রচলিত উৎসবের মধ্যে নবান্ন উৎসব অন্যতম। ইংরেজীতে যাকে বলে ('New Rice Festival')। নতুন ফসল ঘরে তোলা উপলক্ষে কৃষকরা এই উৎসব পালন করে থাকে। সাধারণত নবান্ন হয়ে থাকে অগ্রহায়ন মাসে। সে সময় আমন ধান কাটা হয়। এই নতুন ধানের চাল দিয়ে রান্না উপলক্ষে নবান্ন উৎসব হয়ে থাকে।
কোন কোন অঞ্চলে ফসল কাটার আগে বিজোড় সংখ্যক ধানের ছড়া কেটে নিয়ে ঘরের চালে বেঁধে রাখে এবং বাকি অংশ চাল করে নতুন চালের পায়েশ করে নবান্ন করে থাকে। নবান্ন উৎসব উপলক্ষে হিন্দু ধর্মাবলম্বী শিশুরা ধানখেত থেকে ধান কেটে বাড়ি এলে তাদের বরণ করে নেওয়া হয়।
গবেষকদের মতে কৃষি প্রথা চালু হবার পর থেকে নবান্ন উৎসব পালন হয়ে থাকে। তবে ৪৭ এর দেশভাগের পর এই উৎসব ধীরে ধীরে কদর হারাতে থাকে।
নবান্ন উৎসব এর অন্যতম প্রথা হচ্ছে কাকবলি। একটি কলার ডোগায় নতুন চাল, কলা, নারকেল নাড়ু কাককে খাওয়াতে হয়। প্রচলিত বিশ্বাস হচ্ছে কাকের মাধ্যমে ওই খাদ্য মৃতের আত্মার কাছে পৌঁছে যায়।
নবান্ন উৎসবে কাকবলি, লক্ষ্মীপূজা, পিতৃশ্রাদ্ধ হয়ে গেলে সবাই একসাথে খাওয়া দাওয়া করত। এর আগে কেউ কিছু খেত না। সবাই একসাথে খেত এবং উলুদ্ধনি করত। এখানেই নবান্ন উৎসব শেষ হত না, সাধ্যানুসারে এই উৎসব উপলক্ষে প্রায় কুড়ি থেকে চল্লিশ পদের রান্না হত। বিভিন্ন রকমের শাক রান্না করা হত। দুপুরের নবান্ন অন্যের বাড়িতে করলেও রাতের নবান্ন সবাই নিজ বাড়িতে করত। নবান্নের পরের দিনও নবান্নের রেশ থাকত সেটাকে বলা হত 'বাসি নবান্ন বা বাস নবান্ন।'
আইনিউজ/এইচএ
- দুলাভাইয়ের ধর্ষণের শিকার শ্যালিকা
- মৌলভীবাজারের রাজনগরে
আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেল বিধবা রুবির বিউটি পার্লার - `প্রধানমন্ত্রীর কথা বলে আমাদের ধোকা দেওয়া হচ্ছে`
- রাখাল নৃত্যের মধ্য দিয়ে কমলগঞ্জে রাস উৎসব শুরু
- কমলগঞ্জে মাদকবিরোধী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত
- মেয়ের বাড়িতে ইফতার: সিলেটি প্রথার বিলুপ্তি চায় নতুন প্রজন্ম
- দেশের চতুর্থ ধনী বিভাগ সিলেট
- অবশেষে ক্লাস করার অনুমতি পেল শ্রীমঙ্গলের শিশু শিক্ষার্থী নাঈম
- শ্রীমঙ্গল টু কাতারে গড়ে তুলেছেন শক্তিশালি নেটওয়ার্ক
মৌলভীবাজারে অনলাইন জুয়ায় রাতারাতি কোটিপতি সাগর - এসএসসির ফলাফলে বিভাগে ৩য় স্থানে মৌলভীবাজার



















