মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
আপডেট: ১৯:৫৪, ২০ নভেম্বর ২০২০
জনগণকে সাথে নিয়ে ডাকাতি প্রতিরোধে মাঠে পুলিশ সুপার
পুলিশ- জনতার যৌথ পাহারা কার্যক্রম
মৌলভীবাজার জেলায় পুলিশের সদস্য সংখ্যা ১১৮২ জন। বিভিন্ন বিশেষ দায়িত্বে এর একটি অংশ ব্যস্ত থাকায় মাত্র ৮০০ জনকে সরাসরি অভিযানে পায় মৌলভীবাজার পুলিশ। কিন্তু জেলায় জনসংখ্যা প্রায় ২০ লাখ। জাতিসংঘের মতে, যেখানে ৪০০ জন মানুষের বিপরীতে একজন পুলিশ থাকার কথা সেখানে মৌলভীবাজারে ২০ লাখ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হয় ৮০০ পুলিশকে।
তবে এই সংখ্যা নিয়ে সারাবছর কাজ করলেও পুলিশকে চ্যালেঞ্জে পরতে হয় শীত মৌসুমে। এই সময়ে ডাকাতি বেড়ে যায়, মূলত শীতটাই ডাকাতির মৌসুম। তবে এ বছর একটি বিকল্প উপায় বের করেছেন মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার।
পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদের পরিকল্পনায় "পুলিশ- জনতার যৌথ পাহারা কার্যক্রম" নামে ডাকাতি প্রতিরোধে একটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ তথ্য জানিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জিয়াউর রহমান বলেন- আমাদের জনবল কম, কিন্তু এই অজুহাতে ডাকাতি মেনে নেওয়া যাবেনা। তাই ডাকাতি প্রতিরোধে পুলিশ সুপার স্যার সাধারণ জনগণকে পুলিশের সাথে সম্পৃক্ত করে একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। যেনো কোনোভাবেই মৌলভীবাজারে ডাকাতি না হয়। সেটি হচ্ছে "পুলিশ-জনতা যৌথ পাহারা"।

বৃহস্পতিবার (১৯ নভেম্বর) দিবাগত রাতে মৌলভীবাজারের বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ স্থানীয় সাংবাদিকদের নিয়ে এই কার্যক্রম রাতভর ঘুরে দেখেন। পাহারায় থাকা পুলিশ সদস্য ও সাধারণ জনগনকে পুলিশ সুপার উৎসাহ দেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন- জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আরিফুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) হাসান মোহাম্মদ নাসের রিকাবদার, সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জিয়াউর রহমান, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইয়াছিনুল হক, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) পরিমল দেব, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (অপারেশন) বদিউজ্জামান। স্ব স্ব এলাকার স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং এলাকার যুবক-প্রবীণরা।
সরেজমিনে মধ্যরাতে সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার মোড়ে মোড়ে ডাকাতি প্রতিরোধে পুলিশ-জনতা মিলে পাহারা দিচ্ছেন। এই উদ্যোগে নিজেদের নিরাপদ মনে করছেন সাধারণ মানুষ।
চাঁঁদনীঘাট ইউনিয়নের ছড়াপার এলাকার লিটন মিয়া পাহারারত অবস্থায় জানান, তারা নিয়ম করে পুলিশের সাথে পাহারা দেন। তবে পুলিশ ছাড়াও তারা পাহারা দেন। সমস্যা হলে মোবাইল ফোনে পুলিশের সাথে যোগাযোগ করেন। তারা এলাকায় অপরিচিত কাউকে দেখলে তার তথ্য জানতে চান। সন্দেহ হলে টহল পুলিশকে খবর দিলে তারা সাথে সাথে আসেন।
একাটুনা ইউনিয়নের ইসমাইল মিয়া বলেন, এই উদ্যোগের কারণে ডাকাতরা ডাকাতি করতে পারবেনা। যার ফলে আমরা নিরাপদ আছি বলে মনে করছি।

এ ব্যাপারে পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ বলেন, যে কোন সংগঠন পরিচালনা এবং জনগণকে কাঙ্ক্ষিত সেবা প্রদান করতে হলে সংগঠনটির বেশ কিছু সক্ষমতা বা ক্যাপাসিটি থাকতে হয়। গবেষকরা এসকল ক্যাপাসিটি বা সক্ষমতার স্বরূপ নির্ধারণ করেছেন। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো জনবল, লজিস্টিক, আর্থিক সক্ষমতা ইত্যাদি। অন্য যে কোন পেশার চেয়ে পুলিশের চাকরির ধরণ একেবারেই ভিন্ন ধরনের। অধিকাংশ পুলিশি সেবা দপ্তরের বাইরে মাঠ পর্যায়ে সশরীরে উপস্থিত হয়ে প্রদান করতে হয়। ফলে পুলিশ সংগঠনের সক্ষমতার বিষয়টি অনেক বেশি জরুরি। জাতিসংঘের হিসাব মতে প্রতি ৪০০ জন জনগণের জন্য শান্তিকালীন সময়ে একজন পুলিশ সদস্য থাকা প্রয়োজন।
পৃথিবীর বহু দেশে এমনকি উন্নত দেশে দুই থেকে আড়াইশ জনগণের জন্য একজন পুলিশ সদস্যের নজির রয়েছে। বর্তমান সরকার যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণের কারণে বাংলাদেশ এখন প্রতি ৮০০ জনগণের জন্য একজন পুলিশ সদস্য রয়েছে। সহজেই প্রতীয়মান হয় এখনো পুলিশ জনগণের অনুপাত অনেক কম। অপরদিকে জনগণের প্রয়োজনে দ্রুত সাড়া প্রদানের জন্য যানবাহনের কোন বিকল্প নেই। সরকার অনেক যানবাহন প্রদানের পরও এখনো বিরাট ঘাটতি রয়ে গেছে। গবেষণায় দেখা গেছে পুলিশের সকল জনবলকে মোতায়েনের জন্য যে পরিমাণ যানবাহন রয়েছে তা প্রয়োজনের ৩০ ভাগ মাত্র। এদুটি সক্ষমতাকে বিবেচনায় নিলে অপরাধ দমন ও প্রতিরোধে জনগণের সহযোগিতার কোন বিকল্প নেই। এ প্রেক্ষাপটে মৌলভীবাজারে অপরাধ দমনে পুলিশ জনতার যৌথ প্রয়াস গ্রহণ করা হচ্ছে।
আইনিউজ/রিপন/এসডিপি
- দুলাভাইয়ের ধর্ষণের শিকার শ্যালিকা
- মৌলভীবাজারের রাজনগরে
আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেল বিধবা রুবির বিউটি পার্লার - `প্রধানমন্ত্রীর কথা বলে আমাদের ধোকা দেওয়া হচ্ছে`
- রাখাল নৃত্যের মধ্য দিয়ে কমলগঞ্জে রাস উৎসব শুরু
- কমলগঞ্জে মাদকবিরোধী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত
- মেয়ের বাড়িতে ইফতার: সিলেটি প্রথার বিলুপ্তি চায় নতুন প্রজন্ম
- দেশের চতুর্থ ধনী বিভাগ সিলেট
- অবশেষে ক্লাস করার অনুমতি পেল শ্রীমঙ্গলের শিশু শিক্ষার্থী নাঈম
- শ্রীমঙ্গল টু কাতারে গড়ে তুলেছেন শক্তিশালি নেটওয়ার্ক
মৌলভীবাজারে অনলাইন জুয়ায় রাতারাতি কোটিপতি সাগর - এসএসসির ফলাফলে বিভাগে ৩য় স্থানে মৌলভীবাজার
























