মুজাহিদ আহমদ
প্রকাশিত: ২৩:৩৮, ১১ মার্চ ২০২১
আপডেট: ২৩:৪০, ১১ মার্চ ২০২১
আপডেট: ২৩:৪০, ১১ মার্চ ২০২১
চোখের অসুখ সারাতে এসেছেন তারা
সকাল থেকেই মানুষের ভিড়। যত সময় গড়াচ্ছে মানুষের ভিড় বাড়ছে। চারদিক থেকে দলে দলে নানা বয়েসী মানুষের যেনো ঢল নামছে। উঠতি রোদের সকালে দলে দলে এতো মানুষ কোথায় যাচ্ছেন? আশ-পাশের চার-আট গ্রাম ছাড়াও জেলার বাইরে থেকেও লোকজন জড়ো হয়েছেন। -তারা সকলেই একটু আলো নিতে, একটু আলো ফিরে পেতে ক্যাম্প, ক্যাম্প সংলগ্ন মাঠে, মাদরাসার ভবনে জড়ো হচ্ছেন।তারা হন্তদন্ত হয়ে ছুটে এসেছেন চোখের অসুখ সারাতে।
শহরের পশ্চিম কোণ ভেঙে আঁকাবাঁকা যে সড়কটি অভিজাত গ্রামগুলোর দিকে গেছে সে সড়ক ধরে কিছু দূর এগুলোই সেই বাড়িটি। গ্রামের অনেকটা মাঝখানেই বাড়ি, বাড়ির ঠিক উল্টো দিকে হিফযুল কোরআন মাদরাসা। ঐ বাড়ি কিংবা মাদরাসার সাথে চারদিক থেকেই অন্য বাড়ি বা গ্রামের সুন্দর সংযোগ, পথ রয়েছে। পথগুলো ধরে চারদিক থেকেই মানুষের দীর্ঘ সারি।
শহরের পশ্চিম প্রান্তঘেষা গ্রাম হিলালপুর।আগের দিদের মানুষের কাছে এ গ্রামের কৃতিত্বের গল্প শোনা যেতো। এই গ্রামটিকে ঘিরে অনেক স্বার্থক গল্প রয়েছে। মৌলভীবাজার শহরের একদম লাগুয়া গ্রাম হিলালপুর। শহরের পশ্চিম কোণ ভেঙে আঁকাবাঁকা যে সড়কটি অভিজাত গ্রামগুলোর দিকে গেছে সে সড়ক ধরে কিছু দূর এগুলোই সেই বাড়িটি। গ্রামের অনেকটা মাঝখানেই বাড়ি, বাড়ির ঠিক উল্টো দিকে হিফযুল কোরআন মাদরাসা। ঐ বাড়ি কিংবা মাদরাসার সাথে চারদিক থেকেই অন্য বাড়ি বা গ্রামের সুন্দর সংযোগ, পথ রয়েছে। পথগুলো ধরে চারদিক থেকেই মানুষের দীর্ঘ সারি। নানা বয়েসের নারী-পুরুষ চোখের অসুখ নিয়ে জমায়েত হচ্ছেন- মাদরাসা মাঠের ফ্রি চক্ষু শিবির ও ছানি অপারেশন ক্যাম্পে। ক্যাম্পে পৌঁছেই যেনো স্বস্তির নিঃশ্বাস, তারা এখন চিকিৎসা নিয়ে ফিরবেন, চোখের আলো নিয়ে ফিরবেন। জড়ো হওয়া এসব লোকজনের মধ্য থেকে যাচাই-বাছাই, পরীক্ষা-নীরিক্ষা শেষে কাউকে ছানী অপারেশন আবার কাউকে প্রাথমিক চিকিৎসাসহ নানাবিধ পরামর্শ, ঔষধপত্র বুঝিয়ে দিচ্ছেন নিয়োজিত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা।
মানুষের হয়ে কাজ করা অথবা মানুষের জন্যে কাজ করার ক্ষমতা সকলের থাকেনা।হয়ে উঠেনা। আর থাকলেও অনেক খাঁদ থাকে প্রায় বেশির ভাগ কাজে।অনেক উদ্দেশ্য থাকে কাজের। এক কাজের অনেক উদ্দেশ্য থাকলে কাজের ফল মিষ্টি হয়না। তেঁতো কিংবা পানসে হয়ে উঠে। অসহায়ের হাতে একটি কলা অথবা এক টুকরো পাউরুটি কমপক্ষে দশ-পনেরোজন লোক তুলে দেওয়ার ছবিও ভাইরাল হতে দেখা গেছে। ভালো কাজের সংজ্ঞা একেজনের কাছে একেক রকম। লোক দেখানো, বাহবা কুড়ানোর জন্যও অনেক ভালো কাজ আমাদের সমাজে হয়ে থাকে। আমরা লোক দেখানোর জন্য করে থাকি। তবে, আক্ষরিক অর্থে ভালো কাজ, মনুষের কল্যাণে কাজ- নিস্বার্থভাবে করা একটি চ্যালেঞ্জ। এটি একটি চরম কঠিনতর কর্ম-সাধনা, যা পরাম্পরায় অল্প অল্প হয়ে খুব ধীরে আসে। যে কেউ চাইলেই তা পারেননা, সে সময় বা সুযোগ তৈরি হয়ে উঠেনা।
কেউ জীবনভর মানুষের জন্যে কাজ করেন, মানুষের হাসি-কান্নায় মানুষের পাশে থাকেন, মানুষকে নিয়ে ভাবেন। একটা সময় তাঁর জীবন ফুরিয়ে যায়, তিনি জগৎ-সংসার থেকে বিদায় নেন। সমাজ-সংস্কৃতি-ধর্ম-প্রকৃতি-সভ্যতা-স্বজন তাঁকে অশ্রুসিক্ত নয়নে বিদায় দেন। কিন্তু এই বিদায়ের মধ্যদিয়েই তিনি সমাজকর্ম থেকে বিদায় নেন না, মুছে যান না। তিনি বেঁচে থাকেন তাঁর রেখে যাওয়া ভালো কাজে-কর্মে।মানুষের মাঝে, মানুষের হৃদয়ে।তার এই বেঁচে থাকা, মানুষের মাঝে মিশে থাকাকে অব্যাহত রাখেন তাঁর যোগ্য উত্তরসুরীরা। ধরে রাখেন তার ভালো কাজগুলোর ধারবাহিকতা।তাতে উপকারভোগী মানুষেরা উপকৃত হতে থাকেন- নানাভাবে, নানা সময়ে। উত্তরসুরীরা মানুষকে নিয়ে ভাবেন, বুঝেন। সে কাজ চলমান থাকে যুগের পর যুগ। সিঁড়ির পর সিঁড়ি ধরে।
হিলালপুর গ্রামের সৈয়দ আবু শাহজাহান। তিনি জীবদ্দশায় কাজ করেছেন মানুষের জন্যে। ছুটেছেন মানুষের কষ্টে-সুখে। যতদূর জেনেছি দল-মত, ধর্ম-বর্ণ তাঁর কাছে কোনো ভেদাভেদ ছিলোনা। মানুষ হিসেবে মানুষকে ভালোবেসে মানুষের পাশেই ছিলেন আমৃত্যু। মৌলভীবাজার শহর কিংবা শহরতলীর আশপাশের যে কারো ডাকে সায় দিয়েছিলেন রাত যতই গভীর হোক কিংবা বর্ষা-বাদলের দিনে। এই অঞ্চলের মানুষের জন্য তাঁর মুরব্বিয়ানার ছবি জীবন্ত থাকবে অনেক কাল।জীবনের শেষ প্রান্তে এসেও তাঁকে দৌড়ঝাঁপের মধ্যে থাকতে দেখা গেছে। তাঁর দীর্ঘ জীবনের সমাজসেবাগুলো বেঁচে আছে, টিকে আছে এটিই বড়ো কথা- নানাভাবে, ভিন্ন ভিন্ন ক্ষেত্রে অব্যাহত রেখেছেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা।
"সৈয়দ আবু শাহজাহান স্মৃতি পরিষদ" এটি সৈয়দ আবু শাহজাহান-এর অসমাপ্ত উন্নয়নমূলক কাজগুলো চালিয়ে নেওয়ার একটি প্রাতিষ্ঠানিক প্লাটফর্ম। স্মৃতি পরিষদটি কাজ করে যাচ্ছে মানুষের নানা অসঙ্গতিকে সঙ্গতির দিকে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে। দুঃখ, দুর্দশাগ্রস্থ মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে একটু সাহস, একটু শক্তি, একটু মনোবল নিয়ে। তাদের এই মিশন ছড়িয়ে পড়ুক কষ্টগ্রস্থ মানুষের মাঝে।
৯ মার্চ, মঙ্গলবার। সৈয়দ আবু শাহজাহান-এর মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষ্যে অল্প আয়, দিনমুজুর, দরিদ্র, অসহায়, সম্ভলহীন মানুষের চক্ষু চিকিৎসার জন্য ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়। সহস্রাধিক মানুষ এই ক্যাম্প থেকে বিনা মূল্যে চিকিৎসা, ঔষধ গ্রহণ করেছেন।প্রত্যাশা থাকবে সেবাগুলো মানুষের জন্য টিকে থাকবে।-ক্যাম্পটি পরিচালনায় সার্বিক সহায়তা দিয়েছে মৌলভীবাজার অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান- বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতাল। চক্ষু শিবির পরিচালনায় প্রায় তেরোজনের সুদক্ষ একটি চিকিৎসক দল নিরলস পরিশ্রম করেছেন। বিশাল এই কর্মযজ্ঞটি তত্বাবধান করেছেন, মৌলভীবাজার বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালের অবৈতনিক সাধারণ সম্পাদক কবি সৈয়দ মোসাহিদ আহমদ চুন্নু, যুগ্ম সম্পাদক ছড়াকার, সাংবাদিক আবদুল হামিদ মাহবুব, ব্যবস্থাপক প্রশাসন, মোহাম্মদ এহসানুল মান্নান, সৈয়দ আবু শাহজাহান স্মৃতি পরিষদের উপদেষ্টা সৈয়দ মুজাম্মিল আলী শরীফ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। কঠোর পরিশ্রমি একদল স্বেচ্ছাসেবী পুরো ক্যাম্পটি আগলে ধরে সুন্দরের দিকে নিয়ে যান। আর যারা চিকিৎসা নিতে এসেছিলেন তারাও ঘরে ফিরেন চোখভর্তি শান্তি নিয়ে, মনে সুখ নিয়ে।
আরও পড়ুন
সিলেট বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
- দুলাভাইয়ের ধর্ষণের শিকার শ্যালিকা
- মৌলভীবাজারের রাজনগরে
আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেল বিধবা রুবির বিউটি পার্লার - `প্রধানমন্ত্রীর কথা বলে আমাদের ধোকা দেওয়া হচ্ছে`
- রাখাল নৃত্যের মধ্য দিয়ে কমলগঞ্জে রাস উৎসব শুরু
- কমলগঞ্জে মাদকবিরোধী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত
- মেয়ের বাড়িতে ইফতার: সিলেটি প্রথার বিলুপ্তি চায় নতুন প্রজন্ম
- দেশের চতুর্থ ধনী বিভাগ সিলেট
- অবশেষে ক্লাস করার অনুমতি পেল শ্রীমঙ্গলের শিশু শিক্ষার্থী নাঈম
- শ্রীমঙ্গল টু কাতারে গড়ে তুলেছেন শক্তিশালি নেটওয়ার্ক
মৌলভীবাজারে অনলাইন জুয়ায় রাতারাতি কোটিপতি সাগর - এসএসসির ফলাফলে বিভাগে ৩য় স্থানে মৌলভীবাজার
সর্বশেষ
জনপ্রিয়
























