ঢাকা, রোববার   ১৪ জুন ২০২৬,   জ্যৈষ্ঠ ৩০ ১৪৩৩

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২২:৪৬, ১৩ জুন ২০২৬

সিলেট বিভাগের শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক পূর্ণা রায় ভৌমিক

শিক্ষক পূর্ণা রায় ভৌমিক

শিক্ষক পূর্ণা রায় ভৌমিক

জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬ এর আওতায় সিলেট বিভাগের শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন মৌলভীবাজারের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ পূর্ণা রায় ভৌমিক। বর্তমানে তিনি জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক নির্বাচনের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করছেন।

পূর্ণা রায় ভৌমিক মৌলভীবাজার সদর উপজেলার বাহারমর্দান ক্লাস্টারের আলী আমজদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়ন, শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এবং উদ্ভাবনী শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে তিনি শিক্ষক সমাজে বিশেষ পরিচিতি অর্জন করেছেন।

শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষাক্ষেত্রে অসামান্য অবদান, বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা, উদ্ভাবনী উদ্যোগ এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে সিলেট বিভাগের শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে।

পূর্ণা রায় ভৌমিক ২২ ডিসেম্বর ১৯৯৩ সালে শিক্ষকতা পেশায় যোগদান করেন। তাঁর প্রথম কর্মস্থল ছিল ত্রৈলোক্যবিজয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। পরবর্তীতে তিনি নওয়াগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালন করেন। ৩১ জানুয়ারি ২০০২ সালে প্রধান শিক্ষক পদে যোগদান করে টানা ১৬ বছর টিলাবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৮ সালের ১৮ এপ্রিল থেকে তিনি আলী আমজদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত রয়েছেন।

এমএসএস, সি-ইন-এড এবং বি.এড ডিগ্রিধারী পূর্ণা রায় ভৌমিকের শিক্ষকতা জীবনের অভিজ্ঞতা প্রায় ৩৩ বছরের। তিনি প্রায় ২৫ বছর ধরে ইংরেজি বিষয়ের প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করছেন। এছাড়া ‘ইংলিশ ইন অ্যাকশন’ কর্মসূচির এইচটিএফ (HTF) হিসেবে ছয় বছর দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২২ সালে তিনি ট্রেনিং অব মাস্টার ট্রেইনার ইন ইংলিশ (TMTE) সম্পন্ন করেন।

পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের লক্ষ্যে তিনি দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ওরেগনের অধীনে ‘Fostering Students’ Motivation and Engagement’ শীর্ষক ৬৪ ঘণ্টার অনলাইন প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন করেন। এছাড়া ওপেন (OPEN) কমিউনিটি অব প্র্যাকটিস প্ল্যাটফর্মে নেতৃত্বমূলক কার্যক্রম পরিচালনার স্বীকৃতিও অর্জন করেছেন।

শিক্ষাক্ষেত্রে তাঁর উদ্ভাবনী উদ্যোগগুলোর মধ্যে ‘উচ্চারণ (বাংলা অডিও)’ এবং ‘গেটপাস’ প্রকল্প প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের স্বীকৃতি লাভ করেছে। পাশাপাশি বিদ্যালয়ে তিনি ‘স্মাইলি’, ‘স্টার’, ‘মুক্তিযুদ্ধ কর্নার’, ‘ঝুলন্ত বিন’, ‘বোতল দিয়ে জুতা রাখার র‌্যাক’, ‘পোর্টফোলিও’, ‘ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব’, ‘মজার দোকান’, ‘প্রয়োজন ব্যাংক’, ‘সেরা শিক্ষার্থী বোর্ড’, ‘স্বপ্নবৃক্ষ’, ‘সাফল্যবৃক্ষ’ ও ‘পজিটিভ বোর্ড’-সহ প্রায় ২৪টি উদ্ভাবনী কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছেন।

এর আগে ২০১৯ সালেও তিনি সিলেট বিভাগের শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছিলেন।

শিক্ষকতার পাশাপাশি সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চার সঙ্গেও নিবিড়ভাবে যুক্ত রয়েছেন পূর্ণা রায় ভৌমিক। তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ ‘প্রৈতি’ ২০১৬ সালের একুশে বইমেলায় প্রকাশিত হয়। তিনি কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ ও রম্যরচনা লেখেন এবং সম্পাদনার কাজও করেন। এছাড়া গান, অভিনয়, চিত্রাঙ্কন ও কারুকলার প্রতিও তাঁর আগ্রহ রয়েছে।

ব্যক্তিগত জীবনে তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ের জননী। তাঁর স্বামী রানু কুমার তালুকদার একজন কলেজ শিক্ষক। পূর্ণা রায় ভৌমিকের ভাষ্য, স্বামীর সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণাই তাঁর দীর্ঘ পথচলার অন্যতম শক্তি।

প্রতিক্রিয়ায় পূর্ণা রায় ভৌমিক বলেন, “শিশুদের নিয়ে কাজ করাই আমার সবচেয়ে বড় আনন্দ। যতদিন বেঁচে থাকব, শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করে যেতে চাই। এই সম্মাননা আমাকে আরও দায়িত্বশীলভাবে কাজ করার অনুপ্রেরণা দেবে।”

শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে পূর্ণা রায় ভৌমিকের দীর্ঘদিনের নিষ্ঠা, সৃজনশীলতা ও নেতৃত্বের স্বীকৃতি হিসেবেই এই অর্জন এসেছে। তাঁর এ সাফল্যে মৌলভীবাজারসহ সিলেট বিভাগের শিক্ষা অঙ্গনে আনন্দের আবহ সৃষ্টি হয়েছে।

ইএন/এসএ

Green Tea
সিলেট বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়