মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
আপডেট: ১৬:৩৪, ২৭ মার্চ ২০২১
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে সমাজবান্ধব আব্দুর রাজ্জাককে সংবর্ধনা
মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে সমাজবান্ধব সাদা মনের মানুষ আব্দুর রাজ্জাককে সংবর্ধনা ও সম্মাননা স্মারক দিয়েছে মেধা-সংস্কৃতি বিকাশ সমাজকল্যাণ পরিষদ।
মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল তারাপাশা গ্রামে ১৯৫২ সালের ৪ জুলাই পিতা আব্দুল লতিফ ও মা আজিনা বিবির ঘর আলোকিত করে জন্মগ্রহণ করেছিলেন এই মহৎপ্রাণ মানুষটি। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পড়ালেখা শেষ করে ১৯৬২ সালে তারাপাশা জুনিয়র হাইস্কুলে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির পর নিজেকে ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতির সাথে যুক্ত করেছিলেন।
রাজনগর পোর্টিয়াস উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৬৮ সালে এসএসসি এবং মৌলভীবাজার সরকারি কলেজ ১৯৭০ সালে এইচএসসি পাশ করেন। ছাত্রাবস্থায় তিনি বাম ধারার রাজনৈতিক নেতাদের সংস্পর্শে থেকে ৬২ শিক্ষা আন্দোলনসহ বাংলাদেশ সৃষ্টির সকল লড়াই সংগ্রামে নিজেকে যুক্ত রেখেছেন। শারীরিক অসুস্থতার কারণে ভারতে গিয়ে মুক্তিযোদ্ধার ট্রেনিং নিতে না পারলেও ৭১ এর মুক্তি সংগ্রামকে তিনি এগিয়ে নিয়েছেন, রাজনগর এলাকায় মুক্তিযোদ্ধা ও গেরিলা যোদ্ধাদের সহযোগিতা করেছেন অকুতোভয় সৈনিক হিসেবে।

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর নিজ এলাকায় ১৯৭২ সালে গোবিন্দপুর তেঘরি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতার চাকুরি নেন। সেখানে বিনা বেতনে ৩ বছর চাকুরি করার পর ইস্তফা দেন এবং রাজনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে পরবর্তীতে ঢাকায় একটি আবাসিক হোটেলে ম্যানেজার পদে চাকুরি করতে বাধ্য হন।
১৯৭৮ সালে একই ইউনিয়নের মশাজান গ্রামের মৌলভী আব্দুল হাকিমের মেয়ে রওশনারা বেগমের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। ১৯৮০ সালে সুনামগঞ্জের দোয়ারা বাজার ঘিলাছড়া হাইস্কুলে শিক্ষক হিসেবে যোগদান এবং সেখানে তিন বছর চাকুরি করেন।
১৯৮৩ সালে শশুরালয়ের আর্থিক সহায়তায় সৌদি আরবে গমন করেন। ১০ বছর সৌদি আরবে বসবাসকালীন সময়ে মদিনা ভার্সিটির লাইব্রেরিতে গিয়ে কোরাআন-হাদিস সম্পর্কে স্বচ্ছ জ্ঞান অর্জন করেন। ১৯৯৩ সালে দেশে এসে আবারও শিক্ষা, রাজনীতি, সমাজসেবা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।

১৯৯৫ সালে তারাপাশা হাইস্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য নির্বাচিত হয়ে স্কুলের লেখাপড়ার মানোন্নয়নে সহযোগিতা করেন এবং নিজের এলাকায় শিক্ষাবিস্তারে মনোযোগী হন এবং উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর সাথে সম্পৃক্ত হন। ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যপদ গ্রহণ করেন এবং ২০০০ সালে সিপিবি'র রাজনগর উপজেলার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।
২০০২ সালে জাতীয় শিশু-কিশোর সংগঠন খেলাঘর আসর প্রতিষ্ঠা করেন নিজের এলাকায়। ২০০৫ নিজ উদ্যোগে আদর্শ শিক্ষা বিস্তারে তারাপাশায় ‘উষার আলো" নামের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেন। ২০১৬ সালে কমিউনিস্ট পার্টি থেকে সম্মাননাসহ অবসরপ্রাপ্ত সদস্য হিসেবে বিবেচিত হয়ে সম্মাননা পেয়েছেন। ২০১৮ সালে নিজের একখন্ড ভূমি ও নগদ অর্থায়নে তারাপাশায় আব্দুর রাজ্জাক একাডেমির প্রতিষ্ঠা করেন এবং একাডেমির সভাপতি হিসেবে সার্বিক দায় দায়িত্ব পালন করছেন এখনও।
মহৎপ্রাণ আব্দুর রাজ্জাকের এই বর্ণাঢ্য জীবনে মানুষের উপকার ছাড়া ভুলেও কেনোদিন কারো ক্ষতি করেন নি। নির্লোভ অন্তর্মুখী এই মানুষটি সত্যিকারের সমাজবান্ধব একজন সাদা মনের মানুষ। নীরবে নিভৃতে তাঁর জীবন উৎসর্গ করে রেখেছেন মানুষের তরে। এই মানুষটিকে সম্মান জানানো সমাজের কর্তব্য। এই সামাজিক দায়িত্ব পালন করছে মেধা-সংস্কৃতি পরিষদ।
সমাজবান্ধব আব্দুর রাজ্জাকের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অধ্যক্ষ মো. ইকবাল। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন কামারচাক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. নজমুল হক সেলিম, উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মুক্তি চক্রবর্তী, অধ্যাপক শাহানারা রুবি, ধীরাজ ভট্টাচার্য, অজয় কুমার দত্ত, কৃষক লীগের সভাপতি মাহমুদুর রহমান, আকলু মিয়া চৌধুরী, সাবেক ছাত্র নেতা সায়েদ আহমদ খাঁন, কবি জয়নাল আবেদিন শিবু, রাজনগর বার্তার সম্পাদক আকতার আহমদ সাগর প্রমূখ।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন স্বাস্থ্য প্রযুক্তিবিদ খছরু চৌধুরী। বক্তারা বলেন, এরকম দেশপ্রেমিক সমাজহিতৈষী মানুষগুলোকে তাঁদের কর্মের স্বীকৃতি সমাজ ও রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে দেয়া উচিত। আব্দুর রাজ্জাক এর মত মানুষেরা হলেন গুণী, সমাজের আইডল ও সমাজবন্ধু। মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে মেধা-সংস্কৃতি পরিষদের এই আয়োজন সমাজে গুণীজন জন্মাতে সহায়তা করবে। রাজনগরের সুধীজনের কাছে, সকলের কাছে অনুসরণীয় হয়ে থাকবে মেধা-সংস্কৃতির এই কর্মপন্থা। একজন গুণী মানুষের শুভকর্মের স্বীকৃতি সমাজ-জীবন সুন্দর ও আলোকিত করে। সুন্দর সমাজ-রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্য নিয়েই এদেশ স্বাধীন হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলে মুখে ফেনা তোলা আর দুষ্টের লালন শিষ্টের দমন করার মত ডাবল স্ট্যান্ডার্ড নীতি কখনো মুক্তির চেতনা হতে পারেনা। এই দ্বিচারিতার নীতি থেকে সমাজ ও রাষ্ট্রকে বের করে আনতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, সমাজের স্তরে স্তরে আব্দুর রাজ্জাকের মতো প্রকৃত দেশপ্রেমিক সমাজহিতৈষী মানবপ্রেমিক মানুষ তৈরি করতে হবে। রাষ্ট্র ও সরকার কাঠামোর সকল স্তরে ন্যায়-সুবিচারের নীতি গ্রহণ করতে হবে। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে এসে সকলের মনে রাখা উচিৎ, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে হলে - বাঙালী জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, ধর্ম নিরপেক্ষতা ও সমাজতন্ত্রের মূল নীতিকে গ্রহণ করেই রাষ্ট্র পরিচালনা করতে হবে।
আলোচনা সভা শেষে সমাজ বান্ধব আব্দুর রাজ্জাকের হাতে সম্মাননা স্মারক ও উপহার সামগ্রী তুলে দেন পরিষদের নেতৃবৃন্দ ও আলোচনায় অংশগ্রহণকারী অতিথিগণ।
- দুলাভাইয়ের ধর্ষণের শিকার শ্যালিকা
- মৌলভীবাজারের রাজনগরে
আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেল বিধবা রুবির বিউটি পার্লার - `প্রধানমন্ত্রীর কথা বলে আমাদের ধোকা দেওয়া হচ্ছে`
- রাখাল নৃত্যের মধ্য দিয়ে কমলগঞ্জে রাস উৎসব শুরু
- কমলগঞ্জে মাদকবিরোধী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত
- মেয়ের বাড়িতে ইফতার: সিলেটি প্রথার বিলুপ্তি চায় নতুন প্রজন্ম
- দেশের চতুর্থ ধনী বিভাগ সিলেট
- অবশেষে ক্লাস করার অনুমতি পেল শ্রীমঙ্গলের শিশু শিক্ষার্থী নাঈম
- শ্রীমঙ্গল টু কাতারে গড়ে তুলেছেন শক্তিশালি নেটওয়ার্ক
মৌলভীবাজারে অনলাইন জুয়ায় রাতারাতি কোটিপতি সাগর - এসএসসির ফলাফলে বিভাগে ৩য় স্থানে মৌলভীবাজার
























