ঢাকা, রোববার   ১৪ জুন ২০২৬,   জ্যৈষ্ঠ ৩১ ১৪৩৩

আব্দুর রব, মৌলভীবাজার

প্রকাশিত: ১৮:০৪, ২ এপ্রিল ২০২১
আপডেট: ১৮:০৪, ২ এপ্রিল ২০২১

দোল পূর্ণিমায় মনিপুরীদের লোকনৃত্য থাবাল চংবা

থাবাল চংবা

থাবাল চংবা

থাবাল চংবা মণিপুরীদের ঐতিহ্যবাহী একটি লোকনৃত্য যা ধর্মীয় আবহে অনুষ্ঠিত হয়। সাধারণত দোল পূর্ণিমা তিথিতে মণিপুরী পাড়ার বিভিন্ন গ্রামে এ নৃত্য অনুষ্ঠিত হয়।

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ মনিপুরী পাড়ায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে এ অনুষ্ঠান হচ্ছে। পাঁচ দিনের অনুষ্ঠানের শেষ দিন শুক্রবার (২ এপ্রিল)।

মূলত জোৎস্নালোকিত রাতে খোলামাঠে একদল যুবক যুবতীর অংশগ্রহণে ব্যান্ডের তালে তালে অনুষ্ঠিত বিশেষ লোকনৃত্য'ই থাবাল চংবা। থাবাল অর্থ জোৎস্না আর চংবা অর্থ লাফ দেয়া বা নাচ। এই নৃত্যের সাথেও জড়িয়ে আছে একটি মিথ। ভারতীয় ঐতিহ্য অনুসারে সাধারণ ভাবে যে কোনো নৃত্যেরই জন্ম হয় একটি ধর্মীয় আবহ থেকে। পরবর্তীতে ক্রমশ ধর্ম গৌণ হয়ে মানুষের অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে। এভাবেই এসব নৃত্য প্রকৃত লোকনৃত্য হয়ে উঠে।  থাবাল চংবা নৃত্যটি শুরু হয়েছিল এক ধর্মীয় কাহিনীকে কেন্দ্র করে।

ঐতিহ্যগতভাবে, রক্ষণশীল মণিপুরী পিতামাতারা তাদের মেয়েদের পিতামাতার সম্মতি ছাড়া বাইরে যেতে এবং যুবকদের সাথে দেখা করতে কোন সুযোগ দেয়নি।

তবে এই থাবাল চংবা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মেয়েদের সাথে ছেলেদের দেখা ও কথা বলার একমাত্র সুযোগ তৈরি হয়। মনিপুরীরা বিভিন্ন জায়গা থেকে এসে এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।

বিভিন্ন রঙের কাগজ কেটে বাঁশ ও দড়ি দিয়ে মাঠ সাজানো হয়। সন্ধ্যা নামার পরই মাঠে জড়ো হতে থাকেন মণিপুরি সম্প্রদায়ের তরুণ-তরুণীরা।

মাঠের সাজানো অংশের মধ্যে বসে তরুণরা আপন মনে বাদ্যযন্ত্রে বের করেন সুর ও তাল। সেই বাদ্যযন্ত্রের তালে তরুণ তরুণীরা হাতে হাত ধরে শুরু করেন বিশেষ নৃত্য। মাঝখানের বাদ্যযন্ত্র নিয়ে বসা তরুণদের চারপাশে নেচে নেচে ঘুরেন তাঁরা। এই নৃত্যকে মণিপুরিদের ভাষায় বলা হয় থাবাল চংবা।

নয়াপত্তন গ্রামের থোঙাম সঞ্জীব জানান-  এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আমাদের মনিপুরীদের ঐতিহ্য তুলে ধরা হয়। এবার যেহেতু করোনা ভাইরাসের প্রকোপ রয়েছে। তাই আমরা অনুষ্ঠানটি সংক্ষিপ্ত করেছি। আমাদের গ্রামের বাইরের লোকজনকে অনুষ্ঠানে নিমন্ত্রণ দেইনি। যারা আসছে তাদেরকে আমরা মাস্ক পরিধান ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার লাগিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করিয়েছি।

নয়াপত্তন গ্রামের অনুষ্ঠান আয়োজক থোঙাম চীংখৈ জানান- জাতির মধ্যে সাম্য, ভাতৃত্ব ও একতার উদ্দেশ্যে এই অনুষ্ঠান পালন করা হয়। এখানে অংশ নেয় যুবক-যুবতী, শিশু-যুবক, বৃদ্ধসহ সবাই। স্বাভাবিক ভাবে নৃত্যে অংশ নেন যুবক-যুবতী।

Green Tea
সিলেট বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়