ঢাকা, রোববার   ১৪ জুন ২০২৬,   জ্যৈষ্ঠ ৩০ ১৪৩৩

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৪:৫২, ৭ এপ্রিল ২০২১
আপডেট: ১৫:০২, ৭ এপ্রিল ২০২১

‘কাজই যাদের জীবন করোনা তাদের কাছে হাস্যকর’

মৌলভীবাজারের চৌমোহনা পয়েন্টে প্রতিদিন সকালেই দেখা যায় তাদের

মৌলভীবাজারের চৌমোহনা পয়েন্টে প্রতিদিন সকালেই দেখা যায় তাদের

যারা দিনের রোজগার দিনেই খরচ করেন সেই দিনমজুরদের কাছে করোনা রীতিমতো হাস্যকর। মাস্ক পকেটে রাখেন কারণ যেখানে কাজে যান তারা যদি মাস্ক পরে কাজ করতে বলে এজন্য।

প্রতিদিন সকালে মৌলভীবাজারের চৌমোহনা পয়েন্টে আসেন শখানেক নিম্নবিত্ত মানুষ। তাদের গন্তব্য কাজে যাওয়া, কাজ পাওয়া। একটা নির্দিষ্ট জায়গায় দাড়িয়ে বিভিন্ন ধরনের কাজ খুঁজে বের করে কাজে যাওয়াই তাদের প্রতিদিনকার রুটিন। বিভিন্ন মানুষ জন এসে তাদের নিয়ে যান ওদের বাসা বাড়িসহ অন্যান্য কাজের জন্য। এভাবে কাজ করে এক একজন বছরের পর বছর পার করে দিচ্ছেন।

তাদের সাথে যখন কথা হয় তখন তাদের খুব হাস্যজ্জল দেখাচ্ছিল। ছোট ছোট জটলা বেঁধে তারা গল্প করছিলেন, হাসছিলেন। কিন্তু কারো মুখে মাস্ক নেই, এগুলো নিয়ে তাদের কোনো খেয়ালও নেই। কথা বলার ধরন দেখে বোঝার উপায়  নেই একটু পরেই সবাই আলাদা আলাদা গন্তব্যে কাজের জন্য চলে যাবেন।

কথা হয় তুলা মিয়ার সাথে, তিনি শহরের চাঁদনীঘাট এলাকায় বসবাস করেন। তিনি জানান করোনা আমাদের জন্য না, ওগুলো বড়লোকদের ধরে, আমরা পেটভুক্কা মানুষ আমাদের হবে না। কাজ করতে তো হবে।  কাজ না করলে সংসার বাচ্চা-কাচ্চা চলবে কি করে।

পাশে দাড়ানো আলাল মিয়া যুক্ত হলেন কথায়, তিনি হেসে হেসে বললেন ইতা বহুত দেখছি করোনা টরোনা নাই, আমরা জিতা কাম করি করোনা গালা বায়দি আইতো নায়।( এগুলো অনেক দেখেছি করোনা নেই, আমরা যা কাজ করি তার ধারে কাছেও করোনা আসবে না)

তিনি জানান, তাদের মাস্কের প্রয়োজন নাই, তবে মাস্ক পকেটে রাখেন। কারণ যার বাড়িতে কাজে যাবেন, সে যদি মাস্ক ছাড়া কাজ করতে না দেয় এজন্য।

তাদের মধ্যে বয়সে তরুণ হুমায়ুন কবির। তিনি রাজমিস্ত্রীর কাজ করেন প্রায় সময়,তবে এখন বিল্ডিং এর কাজ কম তাই যখন যা পান তাই করেন। তিনি জানালেন, পরিবারে বাবা মা রয়েছেন, তার উপার্জনেই সংসার চলে। কাজ না করলে খাওয়া বন্ধ হয়ে যাবে,তবে মাঝে মাঝে কাজ পান না বলেও জানান তিনি।

এভাবে প্রতিদিন অজানা কাজ, অজানা গন্তব্যে বের হন শত শত নিম্নবিত্ত মানুষ, যাদের পরিচয় দিনমজুর। সারাদিনের কাজের শেষে উপার্জনের সব টাকা দিয়ে, চাল-ডাল লবণ-মরিচ নিয়ে সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরেন পরিবারের কাছে। আনন্দ নেমে আসে পরিবারে। এভাবেই প্রতিদিন কেটে যায়, আবার ভোর হয় আবার নতুন কাজের সন্ধানে বেরিয়ে পড়তে হয়।

আইনিউজ/এ.আর/এসডিপি

Green Tea
সিলেট বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়