ঢাকা, রোববার   ১৪ জুন ২০২৬,   জ্যৈষ্ঠ ৩০ ১৪৩৩

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৩:৫৮, ৮ এপ্রিল ২০২১
আপডেট: ০০:৩৫, ৯ এপ্রিল ২০২১

মৌলভীবাজারে ২৭ দিনে ১৬৩ জনের করোনা শনাক্ত

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

চলতি বছরের শুরুর দিকে মৌলভীবাজারে করোনা সংক্রমণের হার অনেকটাই কমে গিয়েছিল। কিন্তু মার্চ মাসে হঠাৎ বাড়তে শুরু করে আক্রান্তের সংখ্যা। এমনকি প্রায় সাড়ে চার মাস পর ভাইরাসটির দ্বারা মৃত্যুও দেখেছে এই জেলা। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে গত ২৬ দিনে এই জেলায় ১৬৩ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত করা হয়েছে।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে, ১১ মার্চ থেকে ৮ এপ্রিল পর্যন্ত ৭৫৯ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৬৩ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। অর্থাৎ নমুনা পরীক্ষায় শনাক্তের হার ২১ দশমিক ৪৮ শতাংশ।

 মৌলভীবাজারে গত ২৭ দিনের করোনা শনাক্তের পরিসংখ্যান

তারিখ

নমুনা পরীক্ষা

শনাক্ত

শনাক্তের হার

১১ মার্চ

১০

১০ শতাংশ

১২ মার্চ

১৩ মার্চ

১৪ মার্চ

২৮

১৫ মার্চ

২৫

৮ শতাংশ

১৬ মার্চ

১৬

১৮.৭৫ শতাংশ

১৭ মার্চ

২৫

৮ শতাংশ

১৯ মার্চ

২৮

১৪.২৯ শতাংশ

২১ মার্চ

২৫

২৮ শতাংশ

২২ মার্চ

৩২

২৩ মার্চ

২৬

১৮

৬৯.২৩ শতাংশ

২৪ মার্চ

২২

০ শতাংশ

২৫ মার্চ

২১

২৮.৫৭ শতাংশ

২৬ মার্চ

৩৫

১১.৪৩ শতাংশ

২৭ মার্চ-২৯ মার্চ

৭৩

৩৪

৪৬.৫৮ শতাংশ

৩০ মার্চ

৪০

১১

২৭.৫ শতাংশ

৩১ মার্চ

১ এপ্রিল

৮১

১৬

২০ শতাংশ

২ এপ্রিল

১৭

১১.৭৬ শতাংশ

৩ এপ্রিল

৪ এপ্রিল

৬২

১৯

৩১ শতাংশ

৫ এপ্রিল

৬ এপ্রিল

৪৭

১৩

২৮ শতাংশ

৭ এপ্রিল

১৩৮

২১

১৫.২২ শতাংশ

৮ এপ্রিল

সর্বমোট

৭৫৯

১৬৩

২১.৪৮ শতাংশ

 

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে জেলায় এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ২৪ জন। বুধবার (৭ এপ্রিল) মৌলভীবাজারের দুইজন বাসিন্দা করোনায় মারা গেলেও তাদের সিলেটের তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। কেননা সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, যে যেখানে নমুনা পরীক্ষায় করবেন তাকে সেখানকার বাসিন্দা হিসবে গণ্য করা হবে।

মৌলভীবাজারে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন মোট আক্রান্তের ১ হাজার ৯২৬ জন। বর্তমানে জেলায় সক্রিয় করোনা রোগী রয়েছেন ১৬০ জন। যাদের মধ্যে ৩ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহানে প্রথম করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ে। আর বাংলাদেশে শনাক্ত হয় ৮ মার্চ। এর প্রায় এক মাস অর্থাৎ ৪ এপ্রিল মৌলভীবাজারে করোনা রোগী পাওয়া যায়। সেই থেকে শনাক্ত বেড়ে ২ হাজার ১১০ জনে দাঁড়িয়েছে।

হঠাৎ করে সংক্রমণ বাড়ছে কেনো?

শুধু মৌলভীবাজার নয়, সারাদেশেই করোনা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। কিন্তু হঠাৎ করে সংক্রমণ বাড়ছে কেনো?

এমন প্রশ্নের জবাবে বিশেষজ্ঞরা আইনিউজকে বলেন, সাম্প্রতিককালে অনেকেই মাস্ক পরছে না। বেড়েছে মানুষের সামাজিক অনুষ্ঠানে যাবার প্রবণতা। তাছাড়া বছরের শুরুতেই পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে ভিড় ছিল দেখার মতো।

মৌলভীবাজারকে প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকা বলা হয়। শীত এলেই এই অঞ্চলে বাড়ে প্রবাসীদের আগমন। যার ব্যতিক্রম নয় এবারও। অনেক প্রবাসীরাই দেশে এসেছেন। তবে নিয়ম অনুযায়ী মানছেন না কোয়ারেন্টাইন। ফলে আশেপাশে সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়েই চলেছে।

করোনার বিভিন্ন ধরন বাড়াচ্ছে সংক্রমণ! 

ইউরোপের ১২ টি দেশ থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হলেও যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি অনেক প্রবাসী রয়েছেন যাদের আসা বন্ধ করা হয়নি। স্বাস্থ্য অধিদফতরের দেয়া তথ্যমতে, সম্প্রতি যে সংক্রমণ বাড়ছে তার মধ্যে ঢাকা, চট্টগ্রাম এবং সিলেট এলাকায় সংক্রমণের মাত্রা বেশি। 

চলতি বছরের ৬ জানুয়ারি বাংলাদেশ প্রথম ইউকে (যুক্তরাজ্য) ধরন শনাক্ত হয় এবং মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত এই ধরনটি বাংলাদেশে বৃদ্ধি পায়।

এছাড়া দেশের মোট আক্রান্তের ৮১ শতাংশ দক্ষিণ আফ্রিকার ‘ভ্যারিয়ান্ট’। বাংলাদেশে অন্য যে সব ধরন পাওয়া গিয়েছে, তার মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকার ধরনটি সবচেয়ে শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। ফলে সংক্রমণ দ্রুত ছড়াচ্ছে।

কি বলছেন সংশ্লিষ্টরা?

মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান আইনিউজকে বলেন, আমরা নিয়মিত মাস্ক বিতরণসহ স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছি। এমনকি নিয়মিত জরিমানা করা হচ্ছে। স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। তবে আমরা যতই জরিমানা করি বা মাস্ক বিতরণ করি না কেনো, করোনা প্রতিরোধে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। মানতে হবে স্বাস্থ্যবিধি। তবেই করোনাকে রোধ করা সম্ভব।

সিভিল সার্জন ডা. চৌধুরী জালাল উদ্দিন মোর্শেদ রুমি এ বিষয়ে আইনিউজকে বলেন, করোনার সংক্রমণ রোধে সবাইকে টিকা নিতে হবে। একই সাথে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। নিয়মিত মাস্ক পরতে হবে, বার বার সাবান দিয়ে ২০ মিনিট ধরে হাত ধুতে হবে। তাহলেই করোনাভাইরাসকে প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে। 

আইনিউজ/এসডিপি

Green Tea
সিলেট বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়