কেএইচ শাওন, মৌলভীবাজার
আপডেট: ০০:৪৪, ৬ জুন ২০২১
কোদালিছড়ায় জলাবদ্ধতার শংকা
মেয়র ফজলুর রহমানের তদারকিতে কচুরিপানা পরিস্কার করছে মৌলভীবাজার পৌরভার শ্রমিকরা
মৌলভীবাজার শহরের আরামবাগ এলাকার বাসিন্দা আব্দুল হামিদ মাহবুব ফেসবুকে ছবি দিয়ে লিখেছেন, ‘কোদালিছড়ায় কি কোনো প্রতিবন্ধকতা আছে? রাতের বৃষ্টিতে তো আমার বাসার পিছনদিকে পানি জমে গেলো! গত দু'বছর কিন্তু এমন হয়নি...।’
তিন বছর পর আবারো মৌলভীবাজার শহরের পানি নিষ্কাশনের একমাত্র খাল কোদালিছড়ায় জলাবদ্ধতার শংকা দেখা দিয়েছে। বর্ষা মৌসুমে কোদালিছড়ার পানি উপচে শহর আক্রান্ত হতে পারে বলে আশংকা দেখা দিয়েছে। এদিকে এরইমধ্যে শহরের আরামবাগসহ কোদালিছড়া সংলগ্ন কয়েকটি বাসাবাড়িতে পানি ওঠার খবর পাওয়া গেছে।
শহরের পূর্ব সুলতানপুর এলাকার বাসিন্দা জহির আহমদ বলেন, দীর্ঘদিনের দুঃখ ছিলো কোদালিছড়া। কিন্তু ২০১৮ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত মানুষ প্রশান্তিতে ছিল। মনে হচ্ছে আবারও মানুষের বাসাবাড়িতে পানি উঠবে। জহির আহমদ বলেন, শহরের অংশে দেখছি কোদালিছড়া পরিস্কার আছে। সম্ভবত ভাটি অংশে পানি আটকে আছে।
এদিকে জগন্নাথপুর এলাকার কৃষক ছমির মিয়া বলেন, কোদালিছড়ার কচুরিপানার স্তুপ জমে আছে। যে কারণে ভাটিতে পানি যাচ্ছে না।
সরেজমিনে দেখা যায় কোদালিছড়ার পৌরসভা অংশে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকলেও ভাটি অংশে কচুরিপানার স্তুপ জমে আছে। শহরের বাইরে পশ্চিমাংশে জগন্নাথপুর থেকে গিয়াসনগর ইউনিয়নের অফিসবাজার পর্যন্ত কচুরিপানার স্তুপ জমেছে। সাথে যোগ হয়েছে খালের দুইপাশে বনজঙ্গল। যে কারণে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। উজান থেকে ভাটিতে পানি নামছে না।
কোদালিছড়ায় কচুরিপানা পরিস্কার করছে মৌলভীবাজার পৌরভার শ্রমিকরা
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে ও সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে গতরাত ও আজ সকালে বৃষ্টিপাত হওয়ায় কোদালিছড়ার শহরাংশে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। ভাটিতে কচুরিপানা ও বনজঙ্গলে পানি আটকে যাওয়ায় এ সমস্যা তৈরি হয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা।
এদিকে দেখা গেছে, কচুরিপানা অপসারণে মেয়র ফজলুর রহমানের তদারকিতে জগন্নাথপুর এলাকায় কচুরিপানা অপসারণ করছেন শ্রমিকরা। পৌরসভার কর্মচারীরাও সেখানে রয়েছেন।
ফজলুর রহমান বলেন, শহরাংশে মৌলভীবাজার পৌরসভার উদ্যোগে নিয়মিত কোদালিছড়া সংস্কার অব্যাহত আছে। যে কারণে বিগত সাড়ে তিন বছর ধরে মানুষ সুফল পাচ্ছে। দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ আর নেই। তবে শহরের পশ্চিমাংশে জগন্নাথপুর, অফিসবাজার, গিয়াসনগর ও নাজিরাবাদ এলাকায় নিয়মিত কোদালাছড়া পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা খুবই প্রয়োজন। না হলে কোদালিছড়া নাব্যতা ঠিক থাকবে না। এজন্য স্থায়ী পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
শহরের বিশিষ্ট নাগরিক ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ডা. এম এ আহাদ বলেন, মেয়র ফজলুর রহমানের অদম্য চেষ্টা ও উদ্যোগে শহরে আর জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয় না। ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে জেলা প্রশাসন ও পৌরসভার উদ্যোগে শহরের হাজারো নাগরিকদের অংশগ্রহণে স্বেচ্ছাশ্রমে কোদালিছড়া পরিষ্কার করা হয়। পরবর্তীতে মেয়র ফজলুর রহমানের উদ্যোগে নিয়মিত সংস্কারের ফলে দীর্ঘদিনের অভিশাপে পরিণত হওয়া কোদালিছড়া আশীর্বাদে রূপ নিয়েছে। আমরা আমাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের শপিং ব্যাগে কোদালিছড়াকে পরিচ্ছন্ন রাখতে সচেতনতমূলক স্লোগান লিখেও জনগণকে উদ্বুদ্ধ করছি। তবে পৌরসভার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ, জনপ্রতিনিধি এবং প্রশাসন থেকেও নিয়মিত তদারকি, সংস্কার ও উদ্যোগ থাকবে বলে আমরা প্রত্যাশা করি। তাহলেই কোদালিছড়ার পূর্ণাঙ্গ সুফল পাওয়া যাবে।
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান বলেন, ‘পৌরসভা অংশে কাজ করা হয়েছে। ইউনিয়নগুলোতেও সদর উপজেলা থেকে কাজ করবে, প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে মাননীয় সংসদ সদস্যকে জানানো হয়েছে। তিনিও এ ব্যাপারে কথা বলেছেন। এছাড়া সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে কথা বলেছি। আগামীকাল থেকে হয়তো কাজ শুরু হবে। শহরকে জলাবদ্ধতামুক্ত রাখতে ব্যবস্থা নেয়া হবে। মাননীয় সংসদ সদস্য, পৌর মেয়র, উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউএনও, এলজিইডি সকলের সমন্বয়ে একটি বৈঠকের ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
- দুলাভাইয়ের ধর্ষণের শিকার শ্যালিকা
- মৌলভীবাজারের রাজনগরে
আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেল বিধবা রুবির বিউটি পার্লার - `প্রধানমন্ত্রীর কথা বলে আমাদের ধোকা দেওয়া হচ্ছে`
- রাখাল নৃত্যের মধ্য দিয়ে কমলগঞ্জে রাস উৎসব শুরু
- কমলগঞ্জে মাদকবিরোধী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত
- মেয়ের বাড়িতে ইফতার: সিলেটি প্রথার বিলুপ্তি চায় নতুন প্রজন্ম
- দেশের চতুর্থ ধনী বিভাগ সিলেট
- অবশেষে ক্লাস করার অনুমতি পেল শ্রীমঙ্গলের শিশু শিক্ষার্থী নাঈম
- শ্রীমঙ্গল টু কাতারে গড়ে তুলেছেন শক্তিশালি নেটওয়ার্ক
মৌলভীবাজারে অনলাইন জুয়ায় রাতারাতি কোটিপতি সাগর - এসএসসির ফলাফলে বিভাগে ৩য় স্থানে মৌলভীবাজার

























