ঢাকা, বুধবার   ১০ জুন ২০২৬,   জ্যৈষ্ঠ ২৭ ১৪৩৩

কামরুল হাসান শাওন

প্রকাশিত: ১৩:৩২, ৬ জুন ২০২১
আপডেট: ২০:১২, ৬ জুন ২০২১

রাতের আঁধারে কোঁচা দিয়ে শিং, মাগুর ও কই মাছ শিকার

অন্ধকার রাত। হঠাৎ দূর থেকে দেখা গেল অনেকগুলো আলো জ্বলছে। গ্রামের খোলা মাঠে মানুষ কী যেন খুঁজছেন। প্রথম দর্শনে এমনটাই মনে হতে পারে। কাছে গিয়ে দেখা গেলো চারিদিকে ক্ষেত-মাঠ। আছে খাল-নালাও। বৃষ্টির পানিতে গ্রামের খাল-বিল ভরে গেছে পানিতে। আছে পানির ঝিরি-ঝিরি স্রোতও। আবার কোথাও চুপচুপে পানি। এতেই যেন শিকারিদের মাছ ধরার উপলক্ষ তৈরি হয়েছে। উৎসবে মেতেছে শৌখিন ও পেশাদার শিকারিদের দল। হাতে কোঁচা নিয়ে মাছ শিকার করছেন তারা। 

গতরাতে ও এর আগের রাতে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার নাজিরাবাদ, আমতৈল ও দীঘিরপার এলাকার বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে এ চিত্র দেখা যায়। আগের রাতে বৃষ্টি হওয়ায় খাল-বিল, পুকুর পানিতে ভরে গেছে। আবার বিভিন্ন পুকুর ও খাল-বিলের পানি উপচে মাছ ছড়িয়ে পড়েছে খোলা জলাশয়ে; ধানের জমি, ছোট ছোট খালে যেন মাছের সমারোহ। 

এই ছোট-বড় মাছ শিকার করতে রাতের আঁধারে টর্চ লাইট আর কোঁচা নিয়ে ঘুরছেন শিকারিরা। মিলছে নানা জাতের মাছও। পাওয়া যাচ্ছে কই, শিং, মাগুর, শোল ইত্যাদি। 

সদর উপজেলার দীঘিরপার গ্রামের সুজন মিয়া বলেন, বৃষ্টির পানিতে গ্রামের খাল বিল ভরে যায়। তখন অনেক মাছের বিচরণ বেড়ে যায়। আর কোঁচা দিয়ে শিকারিরা মাছ ধরতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। দুই থেকে তিন ঘণ্টা কোঁচা দিয়ে মাছ শিকার করে পাওয়া যায় এক থেকে দুই কেজি মাছ। কোঁচা দিয়ে মাছ শিকারিদের অধিকাংশই শৌখিন মাছ শিকারি। কেউ কেউ এ মাছ বিক্রি করে সংসারও চালান।

একই এলাকার রায়হান বলেন, এলাকার অনেক গ্রামের পুকুর থেকে মাছ বের হয়ে গেছে। তবে শিকারে দেশি কই মাছ পাওয়া যায় বেশি। দিনের বেলায় জমির আইল বেঁধে পানি সেঁচ দিয়ে ছোট মাছও পাওয়া। 

সদর উপজেলার সিতাশ্রী গ্রামের রিয়াজ আহমদ বলেন, একটি কোঁচা তৈরি করতে খরচ পড়ে দুইশ থেকে তিনশ টাকা। একবার কোঁচা তৈরি হলে সেটি তিন থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত ব্যবহার করা যায়। কোঁচা দিয়ে মাছ ধরা একটি আনন্দের বিষয়। খালে বিলে কোঁচা হাতে যখন অনেক মানুষ রাতের বেলা বিচরণ করে তখন একটি মনোরম পরিবেশ বিরাজ করে।’

শৌখিন মাছ শিকারি মোশারফ আহমেদ বলেন, এক হাতে টর্চ লাইট, অন্য হাতে কোঁচা, তারা মাছের সন্ধানে খালে-বিলে ও ক্ষেতে ঘুরে বেড়ান। এ পদ্ধতিতে শুধু রাতের বেলায় মাছ শিকার করা হয়।

তিনি বলেন, এ পদ্ধতিতে মাছ শিকারে ব্যবহৃত কোঁচা বানাতে হয় কামারের কাছ থেকে। দুই বা ততোধিক মানুষ একত্রিত হয়ে কোঁচা দিয়ে মাছ ধরেন থাকেন। সাধারণত দেশি প্রজাতির মাছ বেশি পাওয়া যায়।

তবে কোঁচা দিয়ে মাছ শিকারে সাপের আতঙ্কও থাকে জানিয়েছে শিকারীরা।

কোঁচা দিয়ে মাছ শিকার মৌলভীবাজার তথা সিলেট অঞ্চলে একটি প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতি। এক সময় এই প্রচলন আরও বেশি ছিল। গ্রামের মানুষ দল বেঁধে কোঁচা দিয়ে মাছ শিকার করতো। তবে আস্তে আস্তে মাছ ধরার এই সনাতন পদ্ধতি হারিয়ে যাচ্ছে।

আইনিউজ/এসডি

Green Tea
সিলেট বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়