প্রণীত রঞ্জন দেবনাথ
আপডেট: ২১:১২, ১৫ জানুয়ারি ২০২২
বিলুপ্তির পথে ঐতিহ্যবাহী চুঙ্গাপুড়া পিঠার ঢলুবাঁশ
ঢলুবাঁশ
বাঁশের বহুবিধ ব্যবহারের কথা মানুষ জানে। কিন্তু বাঁশ দিয়ে পিঠা তৈরি করা যায় বৃহত্তর সিলেটের মানুষ ছাড়া এ খবর কয়জনই বা জানে। হ্যাঁ বাঁশ দিয়ে পিঠাও তৈরি হয়, যাকে সিলেটের আঞ্চলিক ভাষায় চুঙ্গাপুড়া পিঠা বা চুঙ্গাপিঠা বলে।
সিলেট ও মৌলভীবাজারের প্রাচীন ঐতিহ্য পিঠাপুলির অন্যতম চুঙ্গাপুড়া পিঠা বা চুঙ্গাপিঠা। চুঙ্গা হলো বাঁশের ছোট ছোট টুকরা। মূলত এ পিঠা সিলেট অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী একটি খাবার। একসময় এ পিঠা সিলেট ও মৌলভীবাজারের গ্রামীণ জনপদে বেশ জনপ্রিয় ছিলো।
চুঙ্গাপিঠা বৃহত্তর সিলেটের ঐতিহ্য হলেও একসময় মৌলভীবাজার ও সিলেট জেলায় এ পিঠার প্রচলন দেখা যেত বেশি। এ পিঠার অন্যতম উপকরণ হলো পাহাড়ি ঢলুবাঁশ, যা দিয়েই মূলত এ পিঠা তৈরি করা যায়। প্রাচীন ঐতিহ্যের চুঙ্গাপুড়া পিঠা এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে। আগের মতো এখন আর গ্রামীণ এলাকার বাড়িতে বাড়িতে চুঙ্গাপুড়ার আয়োজন চোখে পড়ে না। শীতের রাতে খড়কুটো জ্বালিয়ে সারারাত চুঙ্গাপুড়ার দৃশ্যও তাই দেখা যায় না। একটা সময় ছিলো শীতের মৌসুমে গ্রামীণ জনপদে প্রায়ই বাজারে মাছের মেলা বসত, বিশেষ করে সনাতনী হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম উৎসব পৌষ সংক্রান্তির সময় এ বাঁশগুলো কমলগঞ্জ উপজেলার ভানুগাছ, মুন্সীবাজারসহ বিভিন্ন হাটবাজারে দেখা গেছে।
পৌষ সংক্রান্তি উপলক্ষ্যে জেলার বিভিন্ন হাট বাজারে মাছের মেলা বসেছিল। সেই মেলা থেকে মাছ কিনে কিংবা হাওর-নদীর হতে বড় বড় রুই, কাতলা, চিতল, বোয়াল, পাবদা, কই, মাগুর মাছ ধরে নিয়ে এসে হালকা মসলা দিয়ে ভেজে (আঞ্চলিক ভাষায় মাছ বিরান) দিয়ে চুঙ্গাপুড়া পিঠা খাওয়া ছিলো মৌলভীবাজার ও সিলেটের একটি অন্যতম ঐতিহ্য।
আরও পড়ুন- রাজনগর থানার ওসির বিরুদ্ধে পতাকা অবমাননার অভিযোগ
বাড়িতে মেহমান বা নতুন জামাইকে শেষ পাতে চুঙ্গাপুড়া পিঠা মাছ ভাজা আর নারিকেলের পিঠা পরিবেশন না করলে যেনো লজ্জায় মাথা কাটা যেতো। বর্তমানে সেই দিন আর নেই। চুঙ্গাপিঠা তৈরির প্রধান উপকরণ ঢলু বাঁশ ও বিরইন ধানের চাল (বিন্নি ধানের চাল) সরবরাহ এখন অনেক কমে গেছে। এগুলো এখন আর আগের মতো চাষাবাদ ও হয় না। বলতে গেলে কালের বিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসেছে চুঙ্গাপিঠা তৈরির প্রধান উপকরণ ঢলুবাঁশ।
কমলগঞ্জের পাহাড়ী এলাকায় প্রচুর ঢলুবাঁশ পাওয়া যেতো। তন্মধ্যে চুঙ্গাবাড়িও এক সময় প্রসিদ্ধ ছিলো ঢলুবাঁশের জন্যে। অনেক আগেই বনদস্যু ও ভুমিদস্যু এবং পাহাড়খেকোদের কারনে বনা ল উজাড় হয়ে যাওয়ায় হারিয়ে গেছে ঢলুবাঁশ । তবে জেলার কিছু কিছু টিলায় এখনও ঢলুবাঁশ পাওয়া যায়।
পাহাড়ে বাঁশ নাই বলে বাজারে এই ঢলুবাঁশের দামও এখন তাই বেশ চড়া। ব্যবসায়ীরা দূরবর্তী এলাকা থেকে এই ঢলুবাঁশ ক্রয় করে নিয়ে যান নিজ নিজ উপজেলার বাজার সমূহে বিক্রির আশায়। এই বাঁশটি ও সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেয়া জরুরি। ঢলুবাঁশ ছাড়া চুঙ্গাপিঠা তৈরি করা যায় না, কারণ ঢলুবাঁশে এক ধরনের তৈলাক্ত রাসায়নিক পদার্থ আছে, যা আগুনে বাঁশের চুঙ্গাকে না পোড়াতে সাহায্য করে। ঢলুবাঁশে অত্যাধিক রস থাকায় আগুনে না পুড়ে ভিতরের পিঠা আগুনের তাপে সিদ্ধ হয়।
ঢলুবাঁশের চুঙ্গা দিয়ে ভিন্ন স্বাদের পিঠা তৈরি করা হয়ে থাকে। কোনো কোনো জায়গায় চুঙ্গার ভেতরে বিন্নি চাল, দুধ, চিনি, নারিকেল ও চালের গুড়া দিয়ে পিঠা তৈরি করা হয়। পিঠা তৈরি হয়ে গেলে মোমবাতির মতো চুঙ্গা থেকে পিঠা আলাদা হয়ে যায়। চুঙ্গাপিঠা পোড়াতে আবার প্রচুর পরিমানে খড় (নেরা) দরকার পড়ে। এই খড়ও এখন সময়ের প্রয়োজনে দাম একটু বেশি।
আরও পড়ুন- প্রতিপক্ষ প্রার্থীর সমর্থক হওয়ায় জন্মনিবন্ধনে স্বাক্ষর করছেন না মেম্বার
পিঠা তৈরী করার জন্য মুন্সীবাজারে ডলুবাশঁ নিতে আসা নান্টু রায়, পরিমল দেবনাথ ও আব্দুল বাছিত খান বলেন, ‘আসলে সব সময় তো এই জিনিসগুলো পাওয়া যায় না। পৌষ সংক্রন্তি উপলক্ষে এগুলো খুব কম পরিমান বাজারে উঠেছে। আজ থেকে ১০-১৫ বছর আগে প্রচুর দেখা যেতো। এখন কালের পরিবর্তনে হারিয়ে বসেছে। বাজার আসার সময় পরিবারের সদস্যরা বললো পিঠা তৈরি করার জন্য এই ঢলুবাঁশ পেলে নিয়ে যেতে, তাই কয়েকটা বাজারগুলো ঘুরে দেখলাম পাইনি এখন এই উপজেলার মুন্সীবাজারে স্বল্প পরিমান নিয়ে এসেছে এখন বিক্রেতা আমি সেখান থেকে নিয়ে যাচ্ছি বাসায়।’
কমলগঞ্জ উপজেলার লেখক-গবেষক আহমদ সিরাজ, সংবাদকর্মী সজিব দেবরায় ও পরিবেশকর্মী আহাদ মিয়া জানান, ‘আগে কম-বেশি সবার বাড়িতে ঢলু বাঁশ ছিল। এখন সেই বাঁশ আগের মতো নেই। এই বাঁশ প্রায় বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। একসময় এই ঢলুবাঁশ দিয়ে চুঙ্গাপুড়ার ধুম লেগেই থাকতো।’
আইনিউজ/প্রণীত রঞ্জন দেবনাথ/এসডিপি
আইনিউজ ভিডিও
ওমিক্রন ঠেকাতে মাস্ক বিতরণে মাঠে ডিসি ও মেয়র
ঘোড়দৌড় : সিলেট বিভাগের সব তেজি ঘোড়া এসেছিল এই মাঠে
গ্রিসের বস্তিতে বাংলাদেশীদের মানবেতর জীবন, অধিকাংশই সিলেটি
- দুলাভাইয়ের ধর্ষণের শিকার শ্যালিকা
- মৌলভীবাজারের রাজনগরে
আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেল বিধবা রুবির বিউটি পার্লার - `প্রধানমন্ত্রীর কথা বলে আমাদের ধোকা দেওয়া হচ্ছে`
- রাখাল নৃত্যের মধ্য দিয়ে কমলগঞ্জে রাস উৎসব শুরু
- কমলগঞ্জে মাদকবিরোধী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত
- মেয়ের বাড়িতে ইফতার: সিলেটি প্রথার বিলুপ্তি চায় নতুন প্রজন্ম
- দেশের চতুর্থ ধনী বিভাগ সিলেট
- অবশেষে ক্লাস করার অনুমতি পেল শ্রীমঙ্গলের শিশু শিক্ষার্থী নাঈম
- শ্রীমঙ্গল টু কাতারে গড়ে তুলেছেন শক্তিশালি নেটওয়ার্ক
মৌলভীবাজারে অনলাইন জুয়ায় রাতারাতি কোটিপতি সাগর - এসএসসির ফলাফলে বিভাগে ৩য় স্থানে মৌলভীবাজার
























