মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
রাতের ঈদ বাজারে জমে উঠেছে কেনাকাটা, হাসিতে ভরছে শিশুদের মুখ
ছবি: আই নিউজ
‘রাতেই এসেছি জামা কিনতে। বাবা আজ বেতন পেয়েছেন, আজই আমাদের জামা কিনে দিয়েছেন। আমরা দুই বোন দুইটা জামা কিনেছি। এখন চুড়ি আর ঘড়ি কিনব।’
কথাগুলো বলছিল মৌলভীবাজার জেলা শহরের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী তানিয়া জাহান। সোমবার (১৬ মার্চ) রাত ৯টার দিকে শহরের সেন্ট্রাল রোডের একটি মার্কেটে বাবার সঙ্গে ঘুরে ঘুরে দোকান দেখছিল সে। হাতে নতুন কাপড়ের প্যাকেট, মুখে ঈদের আনন্দের উচ্ছ্বাস।
ঈদকে সামনে রেখে মৌলভীবাজার শহরের মার্কেটগুলোতে জমে উঠেছে শেষ মুহূর্তের কেনাকাটা। দিনভর কাজের পর অনেকেই রাতেই পরিবার-পরিজন নিয়ে ছুটছেন ঈদের বাজারে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের অনেকেই বেতন পেয়েই সন্তানদের নিয়ে বের হচ্ছেন কেনাকাটায়।
তানিয়ার বাবা পেশায় একজন নৈশপ্রহরী। সীমিত আয়ের মধ্যেও সন্তানদের ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত করতে চান না। তিনি বলেন, ‘আজ বেতন পেয়েছি। মেয়েরা কয়েকদিন ধরেই নতুন কাপড় আর ঘড়ির জন্য বায়না করছিল। তাই ভাবলাম আজই বাজারে নিয়ে আসি। ওরা খুশি থাকলেই আমার ভালো লাগে।’
একই মার্কেটে দেখা মেলে রিকশাচালক কাদের মিয়ার। দিনভর রিকশা চালানোর কারণে সময় পান না বলেই রাতে সন্তানদের নিয়ে বাজারে এসেছেন তিনি।
কাদের মিয়া বলেন, ‘দিনে রিকশা চালাই, তাই সময় পাই না। আজ একটু আগে কাজ শেষ করেছি, তাই বাচ্চাদের নিয়ে বাজারে এসেছি।’
শহরের পশ্চিমবাজার এলাকায় কথা হয় গৃহিণী রুবিনা আক্তারের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘দিনে সংসারের কাজে ব্যস্ত থাকি। তাই রাতে বাজার করতে সুবিধা হয়। বাচ্চাদের নিয়ে এসেছি, তারা নিজের পছন্দমতো জামা দেখছে।’
ব্যবসায়ীরাও বলছেন, সন্ধ্যার পর থেকেই ক্রেতাদের ভিড় বাড়ছে। অনেক মার্কেটে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে কেনাবেচা।
কোর্ট রোড এলাকার জুতাবাজারের ব্যবসায়ী নান্টু দেব বলেন, ‘সন্ধ্যার পর থেকেই ক্রেতাদের ভিড় বাড়তে থাকে। অনেক সময় রাত দুইটা পর্যন্ত বেচাকেনা হয়।’
সেন্ট্রাল রোডের কাপড় ব্যবসায়ী রাজন আহমেদ বলেন, ‘কয়েক দিন ধরে রাতে ক্রেতা বেশি হচ্ছে। বিশেষ করে যারা চাকরি করেন বা দিনমজুরি করেন, তারা বেতন পাওয়ার পর পরিবার নিয়ে রাতেই বাজারে আসেন।’
পশ্চিমবাজার এলাকার ব্যবসায়ী সাওদাত হোসেন বলেন, ‘রাত আটটার পর থেকেই ছোট-বড় সব মার্কেটে ভিড় বাড়ে। অনেক বাবা-মা বাচ্চাদের নিয়ে আসেন। বাচ্চারা নিজেরা পছন্দ করে কেনাকাটা করে। তখন পুরো মার্কেটেই একটি আনন্দমুখর পরিবেশ তৈরি হয়।’
ব্যবসায়ীরা জানান, সীমিত সামর্থ্য, দিনভর পরিশ্রম আর ব্যস্ততার মাঝেও সন্তানদের মুখে হাসি ফোটাতে অনেক বাবা-মা ছুটছেন রাতের বাজারে। নতুন জামা, জুতা, চুড়ি কিংবা প্রসাধনী—এসব কেনাকাটাতেই ফুটে উঠছে ঈদের আনন্দ। শেষ মুহূর্তে বেচাকেনাও ভালো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তারা।
ইএন/এসএ
- দুলাভাইয়ের ধর্ষণের শিকার শ্যালিকা
- মৌলভীবাজারের রাজনগরে
আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেল বিধবা রুবির বিউটি পার্লার - `প্রধানমন্ত্রীর কথা বলে আমাদের ধোকা দেওয়া হচ্ছে`
- রাখাল নৃত্যের মধ্য দিয়ে কমলগঞ্জে রাস উৎসব শুরু
- কমলগঞ্জে মাদকবিরোধী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত
- মেয়ের বাড়িতে ইফতার: সিলেটি প্রথার বিলুপ্তি চায় নতুন প্রজন্ম
- দেশের চতুর্থ ধনী বিভাগ সিলেট
- অবশেষে ক্লাস করার অনুমতি পেল শ্রীমঙ্গলের শিশু শিক্ষার্থী নাঈম
- শ্রীমঙ্গল টু কাতারে গড়ে তুলেছেন শক্তিশালি নেটওয়ার্ক
মৌলভীবাজারে অনলাইন জুয়ায় রাতারাতি কোটিপতি সাগর - এসএসসির ফলাফলে বিভাগে ৩য় স্থানে মৌলভীবাজার

























