Bilas Moulvibazar, Bilas

ঢাকা, রোববার   ২৯ মার্চ ২০২৬,   চৈত্র ১৫ ১৪৩২

শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৪:২০, ২৯ মার্চ ২০২৬
আপডেট: ১৫:৪২, ২৯ মার্চ ২০২৬

স্বাধীনতা উৎসব ২০২৬

সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বিশেষ অবদানে দেলোয়ার হোসেনকে সম্মাননা

সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বিশেষ অবদানে দেলোয়ার হোসেনকে সম্মাননা প্রদান। ছবি: আই নিউজ

সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বিশেষ অবদানে দেলোয়ার হোসেনকে সম্মাননা প্রদান। ছবি: আই নিউজ

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে আয়োজিত ‘স্বাধীনতা উৎসব ২০২৬’-এ সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বিশেষ অবদানের জন্য দেলোয়ার হোসেন মামুনকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়েছে।

শনিবার রাতে পৌর শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে স্বাধীনতা দিবস উদযাপন পরিষদের আয়োজনে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়। উৎসবে উপস্থিত সংস্কৃতিকর্মী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা তার দীর্ঘদিনের অবদানকে স্মরণ করেন।

জানা যায়, দেলোয়ার হোসেন ১৯৭৯ সালে শ্রীমঙ্গল উপজেলার সিরাজনগর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মো. আব্দুল হকিম এবং মাতা হালিমা বেগম। তিনি ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি ও বিএ পাস করেন। পরবর্তীতে সিলেটের মুরারিচাঁদ কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অধ্যয়ন করেন।

ছাত্রজীবন থেকেই তিনি নাট্যচর্চার সঙ্গে যুক্ত হন। লোকজ সংস্কৃতি লালন ও গণমানুষের কথা তুলে ধরার লক্ষ্যে ১৯৯৪ সালে নিজ গ্রাম সিরাজনগরে প্রতিষ্ঠা করেন ‘বিজয়ী থিয়েটার’। বর্তমানে তিনি সংগঠনটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

একই বছর ‘তখন আমি যুবক’ নাটকের মাধ্যমে অভিনয় জীবনের সূচনা করেন তিনি। ১৯৯৭ সালে ‘মহাজনের খেলা’ নাটকের মাধ্যমে রচনা ও নির্দেশনায় যাত্রা শুরু হয় তার। ২০০১ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত সম্মিলিত নাট্য পরিষদ, শ্রীমঙ্গলের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া জেলা নাট্য পরিষদের সহ-সভাপতি হিসেবেও কাজ করেছেন।

তিনি বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটারের মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ অঞ্চলের সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার ফেডারেশনের বিভিন্ন সাংগঠনিক কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। পাশাপাশি ‘গ্রীণ কালাপুর’ সামাজিক সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক এবং ‘হৃদয়ে শ্রীমঙ্গল’-এর নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে সামাজিক কর্মকাণ্ডে অবদান রেখে চলেছেন।

দেলোয়ার হোসেন একজন দক্ষ ও সৃজনশীল সংগঠক হিসেবে জাতীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে বহু অনুষ্ঠান সফলভাবে আয়োজন করেছেন। শ্রীমঙ্গল মুক্তমঞ্চ নির্মাণে তিনি ছিলেন উদ্যোক্তা ও আহ্বায়ক। তার নেতৃত্বে সম্মিলিত নাট্য পরিষদের আন্দোলনের মাধ্যমে শ্রীমঙ্গল পৌরসভায় অডিটোরিয়াম নির্মাণ সম্ভব হয়। এছাড়া পাবলিক লাইব্রেরি পুনর্নির্মাণ আন্দোলনেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন, যার ধারাবাহিকতায় শ্রীমঙ্গল কলেজ পাবলিক লাইব্রেরির নির্মাণকাজ বর্তমানে চলমান।

তিনি দেশের প্রথম উদ্যোগ হিসেবে গ্রামভিত্তিক ও ইউনিয়ন পর্যায়ে নাট্য উৎসব আয়োজনের কৃতিত্বও অর্জন করেন। বিভিন্ন সময়ে জাতীয় ও স্থানীয় নাট্য উৎসব আয়োজন করে তিনি একজন সফল সংগঠক হিসেবে নিজের দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন।

করোনাকালীন সময়ে সংস্কৃতিকর্মীদের পাশে দাঁড়িয়ে সচেতনতামূলক মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন তিনি। তরুণ সমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে নাটক ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজনেও অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন।

তার রচিত ও নির্দেশিত উল্লেখযোগ্য মঞ্চনাটকগুলোর মধ্যে রয়েছে- ‘মহাজনের খেলা’, ‘তিন খান কথা’, ‘আশরাফুল মাখলুকাত’ ও ‘আয়নার মায়াজাল’। এছাড়া ‘ঘটক সংবাদ’, ‘একজন মুক্তিযোদ্ধার স্বপ্ন’, ‘মায়ের সমাধি’ ও ‘বধ্যভূমি ৭১’সহ একাধিক পথনাটক দর্শকমহলে প্রশংসিত হয়েছে।

সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট আবৃত্তিকার ও সাংস্কৃতিক সংগঠক দেবাশীষ চৌধুরী রাজা, উদীচী শ্রীমঙ্গল শাখার সভাপতি নীলকান্ত দেব, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মো. কাওসার ইকবাল, বালাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক অবিনাশ আচার্য্য, শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজের গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সুদর্শন শীল, উদীচী শ্রীমঙ্গল শাখার সাধারণ সম্পাদক ও আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক প্রসেনজিৎ রায় বিষু, স্বাধীনতা দিবস উদযাপন পরিষদের সদস্য সচিব গোবিন্দ রায় সুমন, শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের প্রধান প্রভাষক মো. সাইফুল ইসলাম, ‘হৃদয়ে শ্রীমঙ্গল’-এর সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন টিটু এবং আরাফাত রহমান কোকো মেমোরিয়াল ট্রাস্টের কো-অর্ডিনেটর সরফরাজ আহমেদ সরফু।

উল্লেখ্য, মহান স্বাধীনতা দিবসের চেতনাকে ধারণ করে স্থবির হয়ে পড়া সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নতুন প্রাণ সঞ্চারের লক্ষ্যে তার অনুপ্রেরণায় শ্রীমঙ্গলে দুই দিনব্যাপী ‘স্বাধীনতা উৎসব ২০২৬’ আয়োজন করা হয়।

ইএন/এসএ

Green Tea
সিলেট বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়