Bilas Moulvibazar, Bilas

ঢাকা, রোববার   ০৫ এপ্রিল ২০২৬,   চৈত্র ২১ ১৪৩২

শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৩:৩২, ৪ এপ্রিল ২০২৬

শ্রীমঙ্গলের উন্নয়নে অংশীজনের ভাবনা

ইশতেহার বাস্তবায়নে ৫ বছরের রোডম্যাপ প্রণয়নের উদ্যোগ

ছবি: আই নিউজ

ছবি: আই নিউজ

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলাকে ঘিরে উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের লক্ষ্য নিয়ে ইশতেহার বাস্তবায়নে পাঁচ বছরের কর্মপরিকল্পনা ও কৌশল নির্ধারণে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলা পরিষদের মিলনায়তনে আয়োজিত এ সভা স্থানীয় উন্নয়ন ভাবনায় এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এ সভার প্রতিপাদ্য ছিল—ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী মন্ত্রণালয় ও বিভাগভিত্তিক ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং আগামী পাঁচ বছরের সামগ্রিক কৌশল নির্ধারণ।

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইসলাম উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী।

সভায় অংশগ্রহণ করেন নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি, চা শ্রমিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষাবিদ, সংস্কৃতিকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। উন্মুক্ত আলোচনায় উঠে আসে শ্রীমঙ্গলের বাস্তব চিত্র, সমস্যা ও সম্ভাবনার বহুমাত্রিক দিক।

বক্তারা বলেন, দেশের অন্যতম পর্যটননির্ভর অঞ্চল হিসেবে শ্রীমঙ্গলে পরিকল্পিত উন্নয়ন জরুরি। যানজট নিরসন, পর্যটকবান্ধব অবকাঠামো গড়ে তোলা, ময়লার ভাগার অপসারণ এবং গ্রামীণ সড়ক উন্নয়ন এখন সময়ের দাবি। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত বাইপাস সড়ক প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনের প্রয়োজনীয়তার কথাও জোরালোভাবে উঠে আসে।

চা বাগান অধ্যুষিত এ অঞ্চলে শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন নিয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়। বক্তারা চা শ্রমিকদের জন্য টেকসই আবাসন ব্যবস্থা এবং বেকার যুবকদের জন্য কার্যকর কর্মসংস্থান পরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানান।

সভায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইসলাম উদ্দিন জানান, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছর এবং পঞ্চবার্ষিক উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়নে জনগণের মতামতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে আগামী সাত দিনের মধ্যে লিখিত মতামত জমা দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকার ইতোমধ্যে ইশতেহারের বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করেছে। ধর্মীয় সেবায় নিয়োজিত ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম, মন্দির ও গির্জার পুরোহিত-সেবাইতদের মাসিক সম্মানী ঈদুল ফিতরের আগেই প্রদান করা হয়েছে।

তিনি জানান, দেশের জলসম্পদ ব্যবস্থাপনায় ইতোমধ্যে পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। পাশাপাশি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘কৃষক কার্ড’ চালুর মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও কৃষকদের সুরক্ষা জোরদার করা হচ্ছে। বনায়নের মাধ্যমে সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগও বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সুবিধাবঞ্চিত নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী ও চা শ্রমিকসহ সকল শ্রেণির মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, যা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়িত হবে।’

সভা থেকে শ্রীমঙ্গলের সমস্যা, সম্ভাবনা ও উন্নয়ন চাহিদা চিহ্নিত করে একটি কার্যকর ও বাস্তবভিত্তিক পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা প্রণয়নের প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়। স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণমূলক এ উদ্যোগ শ্রীমঙ্গলের টেকসই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ইএন/এসএ

Green Tea
সিলেট বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়