ঢাকা, মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট ২০২৬,   ভাদ্র ১০ ১৪৩৩

বিকাশ বিশ্বাস, শ্রীমঙ্গল

প্রকাশিত: ১৪:৫৮, ২৫ আগস্ট ২০২৬

শ্রীমঙ্গলে থামে না হবিগঞ্জ-সিলেট এক্সপ্রেস, ক্ষুব্ধ যাত্রীরা

শ্রীমঙ্গলে যাত্রী ওঠানামার জন্য স্টপেজ চালুর দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ। ছবি: আই নিউজ

শ্রীমঙ্গলে যাত্রী ওঠানামার জন্য স্টপেজ চালুর দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ। ছবি: আই নিউজ

শ্রীমঙ্গলের বুক চিরে প্রতিদিন ছুটে চলেছে হবিগঞ্জ-সিলেট এক্সপ্রেস, অথচ এই শহরের যাত্রীদের ওঠার সুযোগ নেই! বিরতিহীন এ বাস সার্ভিসে শ্রীমঙ্গলে কোনো স্টপেজ না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় যাত্রীরা। এ ভোগান্তির অবসান এবং শ্রীমঙ্গলে যাত্রী ওঠানামার জন্য স্টপেজ চালুর দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন সর্বস্তরের ভুক্তভোগী জনসাধারণ ও হবিগঞ্জ ঐক্য উন্নয়ন সংস্থার নেতৃবৃন্দ।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে শ্রীমঙ্গল চৌমুহনায় এ মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, “রাত ৮টা বাজলে শ্রীমঙ্গল থেকে শায়েস্তাগঞ্জ বা হবিগঞ্জ যাওয়ার মতো কোনো সুযোগ থাকে না। আজ সবার কাছে, বিশেষ করে মালিক সমিতির কাছে আমাদের দাবি, যাত্রীদের এই দুর্ভোগ লাঘবে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। এ জন্য যা কিছু করা প্রয়োজন, অবশ্যই তা করতে হবে। আজ মানববন্ধনে আমরা যারা দাঁড়িয়ে আছি, আমাদের একটাই দাবি, আমরা ভালো সার্ভিস চাই এবং দ্রুততম সময়ে যেন নিজ নিজ গন্তব্যে পৌঁছাতে পারি। হবিগঞ্জ থেকে অনেক মানুষ শ্রীমঙ্গল ও মৌলভীবাজারে আসেন। তাঁদের মধ্যে ব্যাংকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিরা রয়েছেন। তাঁদের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে হলেও ‘হবিগঞ্জ বিরতিহীন এক্সপ্রেস’-এর শ্রীমঙ্গল স্টপেজ চালু করা হোক। যে পরিবহন ভালো সেবা দেবে, জনগণ স্বাভাবিকভাবেই সেই পরিবহন বেছে নেবে।”

বক্তারা আরও বলেন, “শ্রীমঙ্গল থেকে হবিগঞ্জ এবং হবিগঞ্জ থেকে শ্রীমঙ্গলে প্রতিদিন অসংখ্য যাত্রী যাতায়াত করেন। কিন্তু দুঃখের বিষয়, কিছুদিন ধরে আমরা যাত্রীরা নানা ধরনের হয়রানির শিকার হচ্ছি। শ্রীমঙ্গল থেকে হবিগঞ্জ যেতে পারছি না, আবার হবিগঞ্জ থেকেও শ্রীমঙ্গলে যথাসময়ে আসতে পারছি না। ফলে ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, শিক্ষার্থীরা সময়মতো ক্লাসে যেতে পারছে না এবং রোগীরা চিকিৎসার জন্য যথাসময়ে হাসপাতালে আসতে পারছেন না। এতে আমাদের নানা ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। আমরা জোর দাবি জানাচ্ছি, যত দ্রুত সম্ভব ‘হবিগঞ্জ বিরতিহীন এক্সপ্রেস’-এর শ্রীমঙ্গল স্টপেজ চালু করা হোক। অন্তত যাত্রী সাধারণের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে আগের মতো স্টপেজটি পুনরায় চালু করা হোক।”

হবিগঞ্জ ঐক্য উন্নয়ন সংস্থার মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা মিতালী দত্ত বলেন, “আমার শ্বশুরবাড়ি শ্রীমঙ্গল এবং বাবার বাড়ি হবিগঞ্জ। শ্বশুরবাড়ির দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তো বাবার বাড়িকে ভুলে যাওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু আগে যেখানে হবিগঞ্জ যেতে ১ ঘণ্টা ২০ মিনিট সময় লাগত, এখন সেখানে সময় লাগে প্রায় আড়াই ঘণ্টা। তাহলে আমরা কীভাবে দিনের মধ্যে বাড়ি থেকে যাতায়াত করব? বিশেষ করে যারা কর্মজীবী ও সরকারি চাকরিজীবী, তারা প্রতিনিয়ত শ্রীমঙ্গল থেকে হবিগঞ্জ এবং হবিগঞ্জ থেকে শ্রীমঙ্গলে যাতায়াত করছেন। তাঁদের অনেককে রাত ৮টা, ৯টা কিংবা ১০টার মধ্যে বাড়ি ফিরতে হয়। এ অবস্থায় তাঁরা কীভাবে যাতায়াত করবেন, কীভাবে নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছাবেন?”

সংস্কৃতিকর্মী মো. তারেক ইকবালের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য দেন হবিগঞ্জ ঐক্য উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি নিহার রঞ্জন দেবনাথ, মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা মিতালী দত্ত, কোষাধ্যক্ষ সুলতান আহমদ, সদস্য মো. ওয়াহিদ হাসান, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) শ্রীমঙ্গল উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও সিনিয়র সাংবাদিক মো. কাওছার ইকবাল, শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের সাবেক কোষাধ্যক্ষ সৈয়দ ছায়েদ আহমদ, সিনিয়র সদস্য সৈয়দ আমিরুজ্জামান প্রমুখ।

এ সময় দ্রুত বিষয়টি বিবেচনা করে হবিগঞ্জ-সিলেট এক্সপ্রেসের শ্রীমঙ্গলে স্টপেজ দেওয়ার জোর দাবি জানান মানববন্ধনে অংশ নেওয়া যাত্রীরা।

ইএন/এসএ

Green Tea
সিলেট বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়