ঢাকা, সোমবার   ২৯ নভেম্বর ২০২১,   অগ্রাহায়ণ ১৫ ১৪২৮

সাজু মারছিয়াং

প্রকাশিত: ১৩:৪৩, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১
আপডেট: ১৩:৫০, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১

পাহাড়-জলের অনিন্দ্য সৌন্দর্য হামহাম জলপ্রপাত

হামহাম জলপ্রপাত। ছবি- জুঁই দেব।

হামহাম জলপ্রপাত। ছবি- জুঁই দেব।

শহরের যান্ত্রিক ব্যস্ততায় হাঁপিয়ে ওঠা পাহাড় প্রেমীরা একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস নিতে ছুটে যান পাহাড় আর ঝরণার টানে। এমনই একটি জলপ্রপাত হামহাম, যা পাহাড় প্রেমীদের অন্যতম একটি তীর্থস্থান। অত্যন্ত দুর্গম আর গভীর জঙ্গলে অবস্থিত  এই জলপ্রপাত পর্যন্ত পৌঁছানোর প্রতি পদে পদে যেমন রয়েছে বিপদের ভয়, তেমনি রয়েছে রোমাঞ্চের হাতছানি। সেই রোমাঞ্চের টানেই পাহাড় ও প্রকৃতিপ্রেমী পর্যটকদের আকর্যণীয় স্থান হামহাম জলপ্রপাত।

পাহাড়ের শরীর বেয়ে টলমলে স্বচ্ছ পানির ধারা গড়িয়ে পড়ছে ১৫০ থেকে ১৬০ ফুট উপর থেকে। নির্জন পাহাড়ের ওপর থেকে আছড়ে পড়া স্রোতধারা শাঁ,শাঁ, শব্দ বয়ে যাচ্ছে সমতলে। চোখ জুড়ানো দৃশ্যের পর্যটন কেন্দ্রটি হচ্ছে হামহাম জলপ্রপাত। এর অবস্থান মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায়। হামহাম যেতে হলে আপনাকে ঢাকা থেকে প্রথমে যেতে হবে শ্রীমঙ্গল। বাস বা ট্রেন যে কোনওটাতেই যাওয়া যায়। এরপর শ্রীমঙ্গল থেকে জীপ বা সিএনজি নিয়ে যেতে হবে কমলগঞ্জ উপজেলার চাম্পারায় চা-বাগানের কলাবন। সেখান থেকে একজন গাইড নিতে ভুলবেন না। অত্যন্ত দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে হামহাম পর্যন্ত তিনিই নিয়ে যেতে পারবেন আপনাকে।

গুল্ম-লতাপাতা, বাঁশবন, বুনোফুল ও বিভিন্ন ফলের গাছ পরম মমতায় আগলে রেখেছে এই জলপ্রপাতকে। কমলগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৩৮ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিনে সীমান্ত এলাকার রাজকান্দি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের কুরমা বন বিটের পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত এ জলপ্রপাতটি। এটির নাম ও উচ্চতা নিয়ে রয়েছে ভিন্নমত। স্থানীয় বাসিন্দারা একে 'হামহাম ঝরণা' বলে থাকে। কেউ কেউ আবার হাম্মাম নামে ডাকে। এটি ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের কমলপুর সীমান্তের শূন্য রেখায় অবস্থিত। নয়নাভিরাম হামহাম জলপ্রপাত একনজর দেখার জন্য দেশ বিদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পর্যটকেরা ছুটে আসেন। উঁচুনিচু গহীন পাহাড়ি অরণ্যের ৭ কিলোমিটার টিলা,ছড়া,পাহাড়ি আঁকাবাঁকা পথ পাড়ি দিয়ে এ জলপ্রপাত দেখতে যেতে হয়। সপ্তাহের শুক্র ও শনিবার সরকারী ছুটির দিন গুলোতে পর্যটকদের সংখ্যা বেশী থাকে। চাম্পারায় চা-বাগান পাড়ি দিয়ে কলাবন বস্তি থেকে হাতে একটি বাঁশের লাঠি নিয়ে সাবধানে পথ চলতে হয়। এসময় দুইপাশের বনের দৃশ্য যেকোন পর্যটককে মুগ্ধ করে। যাওয়ার পথে দেখা মেলে নানা ধরনের গাছগাছালি, পশুপাখি। সীমান্তবর্তী চাম্পারায় চা-বাগান পার হয়ে যেতে হয় কলাবন বস্তিতে।

কলাবন গ্রামের শেষ প্রান্ত থেকে রাজকান্দি সংরক্ষিত বনের এলাকা শুরু। এ কলাবন থেকেই বনের মধ্যে ট্র্যাকিং (পায়ে হাটা শুরু) করতে হবে প্রায় দুই ঘন্টা। জলপ্রপাত পর্যন্ত পৌঁছতে ছোট বড় কয়েকটি পিচ্ছিল পাহাড়ও পাড়ি দিতে হয়। এই পথে হাঁটতে হাঁটতে ক্লান্ত হয়ে বিশ্রাম নেয়ার জন্য বা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগের জন্য দাঁড়ালেও আসবে বিপদ। সেই বিপদ আর কিছুই না, দাঁড়ানো মাত্রই চারপাশ থেকে আপনাকে ঘিরে ধরবে অসংখ্য জোঁক। সবাই বলে হামহামের পথ হচ্ছে জোকদের স্বর্গরাজ্য। এর থেকে বাঁচতে চাইলে যতটুকু সম্ভব শরীর ঢাকা কাপড় পরুন। পায়ে জুতো বা উঁচু বুট পরলে ভালো।  কলাবন থেকে গাইড নিয়ে যেতে হয় গাইড না নিলে রাস্তা হারিয়ে পড়তে পারেন মহাবিপদে। কারন রাস্তায় কোন সমস্যা হলে কাউকে না পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশী। পাহাড়-টিলার ঝিরিপথে হেটে যেতে যেতে পাখির সুমধুর কলরব ও ঝিঝি পোকার শব্দে মনে ভালোলাগার অনুভূতি তৈরী হবে। এভাবেই হাঁটতে হাঁটতে উঁচু মোকাটিলা বাঁশবনে উঠে আবার ওপর দিকে নেমেই একসময় পৌঁছানো যায় হামহাম জলপ্রপাতের কাছাকাছি। কিছুদুর এগোলেই শোনা যায় বর্যা মৌসুমে জলপ্রপাতের শাঁ,শাঁ, পানি পড়ার শব্দ । যাতায়াতের পথটি ঝুঁকিপূর্ণ ও দূর্গম বলেই সবাই-বিশেষ করে শিশু ও নারীরা হামহাম জলপ্রপাত এলাকায় যেতে সফল হন না। আবার অনেকেই ফিরে আসেন কিছু পাহাড়ি রাস্তা পাড়ি দেওয়ার পর। রাস্তায় কয়েক দফায় বেশ কিছু পর্যটক ক্লান্ত হয়ে কাঙ্ক্ষিত হামহাম ঝরনা না দেখেই বাড়ির পথে ফেরেন। তবে সাধারনত তরুন- তরুণীরাই হামহাম যাওয়ার দৌঁড়ে এগিয়ে আছেন। ঘুরতে আসা পর্যটকদের মধ্যে ৮০ শতাংশই তরুণ-তরুণী। দৃঢ় মনোবল ও ইচ্ছাশক্তি থাকলে হামহাম জলপ্রপাতের বর্যাকালের রুপ দেখা সম্ভব।

কলাবন বস্তি থেকে বনাঞ্চলে প্রবেশের পর পাহাড়ি ছড়ার তীরে পায়ে হাঁটার উপযোগী রাস্তা করা হলে এবং দু-একটি টিলার গা ঘেঁষে পায়ে হাঁটার রাস্তা করে দিলে সহজেই হামহাম জলপ্রপাতে যেতে পারবেন সব বয়সী পর্যটকরা।

সতর্কতা

মনে রাখবেন, অব্যবহৃত খাবার, চিপসের প্যাকেট, সিগারেটের ফিল্টার, পানির বোতলসহ অন্যান্য আবর্জনা বনের যেখানে সেখানে ফেলবেন না। এগুলো সাথে করে নিয়ে আসবেন এবং বাইরে কোথাও নির্দিষ্ট জায়গায় ফেলবেন। জলপ্রপাতে যাওয়ার পথে বেশকিছু উঁচু-নিচু পাহাড়, বন, পিচ্ছিল এলাকা পার হতে হবে। তাই ট্রেকিং উপযোগী জুতা পরতে হবে এবং সতর্ক হয়ে পথ চলবেন। মারাত্মক কোন দুর্ঘটনা ঘটলে দুর্গম রাস্তা পাড়ি দিয়ে ফিরে আসা অনেক কঠিন হবে।

আইনিউজ/সাজু মারছিয়াং/এসডি

 

হাইল হাওরের বাইক্কাবিলে পর্যটক আর পদ্মটুনার ভিডিও ভাইরাল

নীলাদ্রি লেক আমাদের এক টুকরো কাশ্মীর | পাখির চোখে নীলাদ্রি

শ্রীমঙ্গলে ১২ ফুট লম্বা অজগর সাপ উদ্ধার

২৩ মিনিট ২৩ সেকেন্ডে মৌলভীবাজার শহর পরিভ্রমণ

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়