ঢাকা, রোববার   ১৭ অক্টোবর ২০২১,   কার্তিক ২ ১৪২৮

রিদওয়ান রাহি

প্রকাশিত: ১৪:০৪, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১
আপডেট: ১৪:৩৩, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১

মালিকপুর এগ্রো ফার্ম

মানুষের কাছে রয়েছে যে ফার্মের অর্গানিক মাছ ও গরুর বিশেষ চাহিদা

মালিকপুর এগ্রো ফার্ম

মালিকপুর এগ্রো ফার্ম

মালিকপুর এগ্রো ফার্ম একটি স্বয়ং সম্পূর্ণ এগ্রো প্রজেক্ট। যেখানে বাণিজ্যিকভিত্তিতে ছোটবড় ৩৪টি পুকুরে প্রায় ৪০ একর জমিতে মাছ চাষ করা হয়। যার অধিকাংশই মাছই উৎপাদন হয় প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে। যে কারণে এই ফার্মের অরগানিক মাছের চাহিদা পুরো দেশজুড়ে।

বাংলাদেশের উত্তর পূর্বাংশে অবস্থিত চায়ের দেশ বলে খ্যাত মৌলভীবাজার সদর উপজেলার প্রায় ১৫ কি.মি উত্তর পশ্চিমাংশে অবস্থিত নাজিরাবাদ ইউনিয়নের অন্তর্গত হাইল হাওর এলাকায় প্রায় ২৫০ বিঘা জমির উপর সু-পরিকল্পিত ভাবে সম্পূর্ণ অর্গ্রানিক মাধ্যমে ২০১৪ সালে গড়ে উঠেছে মালিকপুর এগ্রো ফার্ম। এটি বিলাস পরিবারের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান।

এই প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার মো. সুহাদ - তার বাবার হাতের কেনা হাওর পারের জমিতে প্রথমত শখের বশঃবর্তি হয়ে মাছ চাষ শুরু করেন। পরবর্তিতে স্বপ্নবাজ এই তরুণ শিল্প উদ্যোক্তা শুরু করেন একটি বহুমুখী অর্গানিক ফার্ম। নিজের মেধা, প্রচেষ্ঠা এবং অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে গড়ে তুলেছেন কৃষি শিল্পভিত্তিক এই প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে এই প্রকল্পে তিনি গড়ে তুলেছেন গরু মোটাতাজাকরণ, ডেইরি, ও মৎস্য শিল্প।

মো. সোহাদ বলেন, “আমার বাবার স্বপ্নকে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আমার কঠোর প্রচেষ্ঠা সহকর্মীদের কর্মসংস্থান ও অক্লান্ত পরিশ্রম এবং সততার মাধ্যমে গড়ে তুলা আজকের এই মালিকপুর এগ্রো ফার্ম। শুধু মুনাফা অর্জন-ই নয়, নিরাপদ আমিষের যোগান নিশ্চিত করে সেবা প্রদান-ই মালিকপুর এগ্রো ফার্মের মূল উদ্ধেশ্য”। 

মালিকপুর এগ্রো ফার্ম থেকে বছরে উৎপাদন হয় ২২০ মেট্রিক টন মাছ

মালিকপুর এগ্রো ফার্মে মাছের ৩৪টি পুকুরের মধ্যে নার্সিং পুকুর বা রেণু পরিচর্যা পুকুরের সংখ্যা ৬টি। বাকি ২৮টি পুকুরে Indian Major Carp ফিস জাতীয় মাছের মধ্যে উৎপাদন করা হয় মনো সেক্স তেলাপিয়া ও পাঙ্গাস। দেশীয় মাছের মধ্যে উৎপাদন করা হয় রুই, কাতলা, মৃগেল, সিলভার কার্প, কালো-বাউশ, বিগহেড, ঘাস কার্প জাতীয় মাছ। কেট ফিস জাতীয় মাছের মধ্যে উৎপাদন করা হয় পাবদা, গুলশা, শিং ও মাগুর ইত্যাদি মাছ।

বর্তমানে BFRI থেকে বাছাইকৃত কোয়ালিটি সম্পন্ন রেণু এনে পুকুরে নার্সিং, ধানী পোনা, মজুদকরণ ও কালচারিং করা হয়। এ জেলার বাৎসরিক মৎস্য উৎপাদন হচ্ছে ৫০,৫১৮ মেট্রিক টন। যার মধ্যে প্রতি বছর মালিকপুর এগ্রো ফার্ম থেকে প্রায় ২২০ মেট্রিক টন মাছ উৎপাদিত হয়ে বিভিন্ন জেলার পাইকারি বাজারে সরবরাহ করা হয়। মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন স্বয়ং সম্পূর্ণ। সাধু পানিতে মাছ উৎপাদন বৃদ্ধির হারে অতীতের সর্বকালের রেকর্ড ভেঙ্গে বর্তমানে ২য় স্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। ফরমালিন মুক্ত মাছ এসময়ে সাধারণ জনগনের কাছে অন্যতম দাবী। তাই মালিকপুর এগ্রো ফার্মের উৎপাদনকৃত মাছের রয়েছে বিশেষ চাহিদা। প্রতিদিন এই প্রকল্পের পুকুরগুলোর মাছকে যে খাবার দেয়া হয় তা অত্যান্ত উন্নতমানের। মানব দেহের জন্য ক্ষতিকর কোনোকিছু পুকুরের পানিতে মিশ্রিত করা হয় না।

মালিকপুর এগ্রো ফার্ম-এ অর্গানিক উপায়ে উৎপাদন হয় নানা জাতের মাছ

মৌলভীবাজারে এই প্রকল্পের পুকুরগুলো সু-বিশাল হওয়ায় এবং অন্যান্য ফার্মেও মাছের তুলনায় এই প্রকল্পের স্বাদ ভিন্ন হওয়ায়, বাজারগুলোতে যে মাছ পাওয়া যায় তার চাইতে মালিকপুর এগ্রো ফার্মের মাছ অত্যান্ত সুস্বাদু ও পুষ্টিগুণ সম্পন্ন। এজন্যই এ প্রকল্পের মাছের চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলেছে। সম্প্রতিক মৌলভীবাজার জেলার সদর উপজেলার পাইকারি বাজারের পাশাপাশি জেলার কিছু ছোট/বড় রেস্তোরা এবং সুপার শপগুলো এই প্রকল্পের মাছের ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এছাড়াও এ প্রকল্পে বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষের জন্য প্রাথমিক পর্যায়ে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। আগামী বছেরের শুরুতে এই প্রকল্পে বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ উৎপাদন সম্ভব হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

অর্গানিক উপায়ে গরু মোটা তাজাকরণ ও ডেইরি শিল্প

এ প্রকল্পের ৩৫ হাজার বর্গফুটের ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন একটি শেডে রয়েছে গরু মোটাতাজাকরণ প্রকল্প ও ডেইরি শিল্প। বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের জেলা গুলো থেকে বাছাইকৃত গরু এই প্রকল্পে এনে যথাক্রমে ২০ থেকে ৩০ দিন পর্যন্ত কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়। কোয়ারেন্টাইন পরবর্তি এই গরু গুলোকে অন্যান্য গুরুর সাথে শেডে আনা হয়। প্রতিটি গরুকে নিয়ম মেনে গোসল করানো হয়। গরু মোটাতাজাকরণ প্রকল্পে প্রতিদিন TMR( Total Mix Ratio System) সিস্টেম পদ্ধতিতে দানাদার, ভূট্টা, সাইলেস, খড় ইত্যাদি প্রদান করা হয়। এই প্রকল্পে একই সাথে প্রতিটি গরুকে ভেটেরেনারি নিয়ম তান্ত্রিক পদ্ধতিতে অভিজ্ঞ ডাক্তার দ্বারা টিকা ও চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়। বর্তমানে এই প্রকল্পে মোটাতাজাকরণের জন্য রয়েছে দেশী, শাহী ওয়াল, ব্রাহমা জাতের ৮২টি ষাড় এবং আরও রয়েছে সিন্দি, হলিষ্টান ফ্রিজিয়ান ও জার্সি জাতের ৩২ টি গাভী। এসব গাভী থেকে প্রতিদিন প্রায় ৪৫০ লিটার অপাস্তরিত দুধ চলে যাচ্ছে জেলার কয়েকটি মিষ্টি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে।

কোরবানী ঈদে গবাদি পশুর যোগান

মো. সোহাদ বলেন, ‘প্রতিবছর কোরবানী ঈদের মৌসুমে পরিবার পরিজনসহ অনেকেই আসেন এই প্রকল্পে তাদের পছন্দের পশুটি বেঁছে নিয়ে কোরবানী করার জন্য। গ্রাহকের সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে আমরা খামারের প্রবেশদ্বারে সর্বোচ্চ স্বাস্থ্য বিধি মেনে গ্রাহকদের প্রবেশ করাচ্ছি। বাজারের ঝামেলাযুক্ত পরিবেশে কোরবানীর পশু ক্রয় থেকে বিরত থেকে আমাদের খামারে পাচ্ছেন মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশে স্ব-পরিবারে এসে আপনার পছন্দের বাছাইকৃত গরু অথবা ছাগল লাইভ ওয়েট নির্ধারণ করে যাচাই বাছাইয়ের মাধ্যমে ক্রয় করার সম্পূর্ণ সুযোগ সুবিধা। একি সাথে আপনার পশু ক্রয় করার পর কোরবানীর ঈদের আগের দিন আমরা আমাদের নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থার মাধ্যমে আপনার প্রিয় কোরবানীর পশুটিকে পৌঁছে দিচ্ছি আপনার দোরগোড়ায়।’

বৃহৎ বায়োগ্যাস প্লান্ট

এই প্রকল্পে একই সাথে রয়েছে একটি বৃহৎ বায়োগ্যাস প্লান্ট, যা এই প্রকল্পের লালন-পালনকৃত গরুর গোবর হতে উৎপাদিত হয়। যার মাধ্যমে সর্বমোট ২০টি ডাবল বার্ণার চুলা জালানো সম্ভব। বর্তমানে উৎপাদিত এই গ্যাস হতে ফার্মের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ৩ বেলা রান্না বান্নার কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে, এবং আগামীতে এটি আশ-পাশের এলাকায় জনসাধারণের কাছে বাণিজ্যিক ভাবে গ্যাস সরবরাহ করার পরিকল্পনা আছে।

এই প্রকল্পের দক্ষিণ পাশে অবস্থিত রয়েছে ৫০০০বর্গ ফুটের ৩০০ টি ছাগলের ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন একটি শেড। ছাগল পালনে আমরা সম্পূর্ণরূপে ব্যবহা করছি অগ্রানিক সবুজ ঘাস। এই শেডে একই সাথে রয়েছে ৩০০টির অধিক দেশি ও বেøক বেঙ্গল ছাগল।

মো. সোহাদ বলেন, আমাদের এই প্রকল্পে আপনি বছরের যে কোনো সময় বিয়ে, বৌ-ভাত, আকিকা, শিরনি, মেজবান সহ যে কোনো সামাজিক অনুষ্ঠানে আপনি নিজে এবং স্ব-পরিবারে এসে লাইভ ওয়েট নির্ধারণ করে যাচাই-বাছাই এর মাধ্যমে পছন্দ করে বেছে নিতে পারেন আপনার পছন্দের পশু।

বর্তমানে এই খামারে চলছে প্রকল্প সম্প্রসারণের কাজ। আগামীতে এই একই প্রকল্পে গড়ে উঠবে পোল্ট্রি, ফিড মিল, এবং নিজস্ব হ্যাচারি তৈরীর কাজ।

এই প্রকল্পের উত্তর পার্শে ২টি শেড জুড়ে নির্মিত হচ্ছে ৮০০০ মুরগি ও ৩০০০ হাঁসের খামার। ৫০০০ বর্গফুটের আয়তনের প্রতিটি শেডে থাকবে প্রায় ২৫০০ লেয়ার জাতীয় মুরগি। প্রতিদিন প্রায় ৫০০০ ডিম উৎপাদিত হবে এই খামার থেকে। এই প্রকল্পের উৎপাদিত মুরগি গুলোকে উন্নত ও সর্বাধুনিক প্রযুক্তির বায়ো সিকিউরিটি বজায় রেখে লালন পালন করা হবে।

মালিকপুর ফিড মিল

নিরাপদ ও স্বয়ং সম্পূর্ণ প্রাণীজ  আমিষ উৎপাদনে খামাড়িদের কাছে খাদ্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই প্রকল্পে চলছে মালিকপুর ফিড মিল উৎপাদনের কাজ। ফিড মিল প্রকল্প বাস্তবায়ণ হলে মালিকপুর ফিড মিল এর জন্য কাঁচামাল আমদানী করা হবে ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন দেশ থেকে। আমদানীকৃত কাঁচামাল নিজস্ব ল্যাবরেটরীর  মাধ্যমে যাচাই বাছাই করণের পর Quality Control শ্চিত করণ করা হবে। এবং পরবর্তিতে এসকল ফিড মিল অটো প্যাকেজিং এর মাধ্যমে নিজস্ব পরিবহন দ্বারা মৌলভীবাজার জেলার প্রতিটি উপজেলায় পৌঁছে দেয়া সম্ভব হবে।

ফলজ ও বনজ গাছের বনায়ন

পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার নিরাপদ পরিবেশ এই খামারের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় পুরো প্রকল্পটি ঘিরে করা হয়েছে বনায়ন। প্রকল্পটির চারপাশে রয়েছে সারিবদ্ধ ভাবে লাগানো নারিকেল ও সুপারি গাছ। এছাড়াও রয়েছে বারো মাসি আম, জাম, কাঠাল ইত্যাদি ফলের বাগান সহ বিভিন্ন ঔষধী গাছ গাছালি। আরও আছে আমলকি, জলপাই, হরিতকি ইত্যাদি ঔষধি গাছ। পাশাপাশি পুকুর পারের চারপাশে রয়েছে পেঁপেঁ ও কলার বাগান। এসব বাগান থেকেও বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ফল সরবরাহ করা হয়। এর পাশাপাশি বিভিন্ন খালি জমিতে চলছে বিভিন্ন মৌসুমি শাক-সব্জির চাষ, এর মধ্যে রয়েছে পুঁই শাক, লাল শাক, পালং শাক, করলা, শিম, টমেটো, লাউ, বেগুন, ফুলকপি ও বাঁধাকপি ইত্যাদি। মানব দেহের জন্য ক্ষতিকর কীটনাশক বা রাসয়নিক সার ছাড়া শুধু মাত্র জৈব উপাদান ব্যবহার করে এসকল মৌসুমি শাক-সব্জি ও ফলমূল ফলানো হয়।

এ প্রকল্প জুড়ে যতগুলো গাছ বনায়নের জন্য রূপণ করা হয়েছে আগামীতে তা কোম্পানির জন্য হয়ে উঠবে অমূল্য সম্পদ।

বেকারত্ব দূরীকরণে কর্মসংস্থানের উদ্যোগ

মালিকপুর এগ্রো ফার্ম এর পুরো প্রকল্পটিতে রয়েছে সার্বক্ষনিক নিরবিচ্ছিন্ন নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও এবং ওয়াচ টাওয়ার। পুরো এলাকাটিতে জুড়ে রয়েছে ৫০টি সি.সি টিভি ক্যামেরা এবং দিনে ও রাত্রের শিফট্ ে১০ জন নিরাপত্তা প্রহরী। রাত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করণের জন্য রয়েছে লাইট হাউস। এই লাইট হাউস থেকে পুরো এলাকাটিতে চঞত ক্যামেরার সাহায্যে একনজরে দেখা সম্ভব। এই প্রকল্পের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য রয়েছে নিজস্ব স্টাফ কোয়ার্টার। দিনে রাতে এই প্রকল্পে সর্বমোট ১২০ জন কর্মকর্তা কর্মচারী নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। পরবর্তিতে এই প্রকল্প সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নের পর এই প্রকল্পে প্রায় ৫০০ এর অধিক কর্মকর্তা কর্মচারী এক সাথে কাজ করবে। এর ফলে এই এলাকায় বেকারত্ব দূরীকরণে কর্মসংস্থানের মাধ্যমে মালিকপুর এগ্রো ফার্ম গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে মনে করছেন কর্ণধার মো. সোহাদ।

মালিকপুর কৃষি পর্যটন কেন্দ্র 

যেহেতু চায়ের দেশ বলে ক্ষ্যাত মৌলভীবাজার একটি পর্যটন অধ্যুষিত এলাকা, তাই হাওর পাড়ে নির্মিত এই মালিকপুর এগ্রো ফার্মকে কেন্দ্র করে পর্যটন শিল্পের অপার সম্ভাবনা নিয়ে এই প্রকল্পে নির্মাণ করা হবে কৃষি পর্যটন কেন্দ্র বা অমৎড় ঞড়ঁৎরংস ঈবহঃবৎ । এই পকল্পে বাচ্চাদের জন্য থাকবে বিভিন্ন ধরনের ওয়ার রাইড, কৃত্রিম ঝর্ণা ও পিকনিক স্পট এবং একই সাথে থাকবে ১০০টিরও বেশি গাড়ি পার্কিং এর নিজস্ব ব্যবস্থাপনা।

ভ্রমণপ্রেমী মানুষের জন্য থাকবে প্রকৃতির মনোরম ছায়া ঘেরা পরিবেশে বিলাসবহুল ইকো কটেজ,  পাশাপাশি থাকছে মাছের খেলা ও বর্ষি দিয়ে মাছ শিকারের অফুরন্ত সুযোগ।

এই প্রকল্পের সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নের পর নির্মিত হবে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য নিজস্ব পাওয়ার স্টেশন। পানি সরবরাহের জন্য থাকবে শক্তিশালী ওয়াটার পাম্প এছাড়া বর্তমানে এই প্রকল্পে মাছের অক্সিজেন সরবরাহের জন্য রয়েছে চারটি এরেটোর।

মাছ উৎপাদনে ভূমিকা রাখায় সম্মাননা

জেলার মৎস্য চাষে সফলতার জন্য জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ-২০১৬ সালে সফল মাছ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে মালিকপুর এগ্রো ফার্মকে মৌলভীবাজার জেলা মৎস্য অধিদপ্তর থেকে দেয়া হয় সম্মাননা স্মারক।

ফার্মের কর্ণধার মো. সোহাদ বলেন, দেশ এখন সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তাই সমৃদ্ধ ও স্বয়ং সম্পূর্ণ জাতি গঠনের উদ্দেশ্যে মালিকপুর এগ্রো নিরাপদ আমিষের যোগান নিশ্চিত করণে নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছে। এছাড়া আধুনিক পদ্ধতিতে মৎস্য চাষের সাথে এই প্রকল্পে তৈরী করা হবে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির বটম ক্লীন রেইসওয়ে ও আমেরিকান পদ্ধতিতে ইন পন্ড রেইস ওয়ে (IPRS) । এখানে আগামীতে রপ্তানি যোগ্য বিভিন্ন মাছ উৎপাদন করা হবে।

তাই বাণিজ্যিক ভিত্তিতে খামার ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মুনাফা অর্জনের পাশাপাশি দেশের খাদ্য চাহিদা পূরণে বিরাট অগ্রনী ভূমিকা পালন করবে মালিকপুর এগ্রো ফার্ম।

শুধু মুনাফা অর্জন-ই নয়, একটি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান হয়েও মুখ্য ভূমিকা পালন করবে এই প্রতিষ্ঠানটি। গাছ গাছালিতে ঘেরা ভ্রমণ পিপাসু ও প্রকৃতি প্রেমী মানুষের জন্য এই এগ্রো ফার্ম জুড়ে গড়ে উঠেছে সবুজের এক স্বপ্নিল ভূবন।

দেশ ও জাতীর উন্নয়নের অংশীদার হয়ে স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে গণ প্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মাননীয় প্রধান মন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার ভিশন ২১৪১ গড়ার প্রত্যয়ে মালিকপুর এগ্রো ফার্ম আরও সমৃদ্ধশালী হউক এই আমাদের প্রত্যাশা।

আইনিউজ/এইচকে

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়