ঢাকা, সোমবার   ১৮ জানুয়ারি ২০২১,   মাঘ ৪ ১৪২৭

হেলাল আহমেদ

প্রকাশিত: ১৬:০২, ২৫ নভেম্বর ২০২০
আপডেট: ১৬:১৬, ২৫ নভেম্বর ২০২০

ঔষধি গুণধর কালো মোরগের চাষ হচ্ছে বাংলাদেশেও

মোরগের এই বিরল প্রজাতিটি মূলত ইন্দোনেশিয়ার জাভা দ্বীপের প্রাণী

মোরগের এই বিরল প্রজাতিটি মূলত ইন্দোনেশিয়ার জাভা দ্বীপের প্রাণী

ভাত-মাছ বাঙালির পরিচয়ের একটি বাহক হলেও সুস্বাদু মাংস খাওয়াতেও পারদর্শী বাংলাদেশের মানুষ। তবে মাংসের কথা বললে মোরগের মাংসের কথাই বলতে হয়। কেননা পাখি প্রজাতির এই প্রাণীটির মাংসই সর্বাধিক পরিচিত। এর মধ্যে কক মোরগ, দেশি মোরগ এবং খামারজাত পোল্ট্রিসহ পরিচিত প্রজাতির গুলো মাংসের কথাই ভাবতে পারেন মানুষ। কিন্তু কালো মোরগির মাংস খাওয়ার কথা প্রায় কেউই বলবেন না। কারণ, কালো রঙের মোরগির মাংসের সাথে এদেশের মানুষ পরিচিত নন।

কালো রঙের এই বিশেষ প্রজাতির মোরগটিকে বলা হয় বিশ্বের সবথেকে দামী মোরগ । সাধারণ বিশ্বের অন্যান্য দেশে বাণিজ্যিকভাবে কালো মোরগের চাষ হলেও বাংলাদেশে কিছু বছর আগেও এ নিয়ে বিশেষ কোনো আগ্রহ ছিলো না দেশীয় খামারিদের। তবে গত পোল্ট্রি খামারিরা বলছেন, গত কয়েক বছর ধরে কালো মোরগের বাণিজ্যিক চাষের ব্যাপারে আগ্রহ বেড়েছে খামারিদের মধ্যে।

বিবিসির প্রতিবেদন বলছে, কালো রঙের মোরগ বাংলাদেশে প্রথম আসে ২০১৬ সালে। নরসিংদী জেলার কামরুল ইসলাম মাসুদ সে বছর কাজের সূত্রে ভারতে গিয়ে কালো মুরগি খেয়ে চমৎকৃত হন। এরপরেই তিনি দেশে নিয়ে এসে উৎপাদন শুরু করেন।

এই প্রজাতির মোরগ বছরে ১২০ থেকে ১৫০টি ডিম দেয়

নরসিংদীর কামরুল শুরুতে ৩০০ কালো মোরগ নিয়ে খামারের যাত্রা শুরু করেন। বর্তমানে তার খামারে মাসে দুই থেকে আড়াই হাজার কালো মুরগির বাচ্চা ফোটে। তবে এখন নরসিংদী ছাড়াও রাজশাহীর বাগমারায় বড় আকারে কালো মুরগির বাণিজ্যিক খামার গড়ে উঠেছে।

বছরে ১২০ থেকে ১৫০টি ডিম পাড়া একটি প্রাপ্ত বয়স্ক কালো মুরগির দাম আড়াই হাজার টাকা, এবং মোরগের দাম দেড় হাজার টাকা। তবে এই মুরগি ডিমে তা দেয়না বলে বাচ্চা ফুটাতে হয় দেশি মুরগির মাধ্যমে। কিংবা, নকিউবেটরে কৃত্রিমভাবে তা দিয়ে।

কালো মোরগ সমাচার

কালো মোরগের মাথার ঝুঁটি থেকে পা, অর্থাৎ এর সমস্ত অঙ্গের রং কালো। পালক, চামড়া, ঠোঁট, নখ, ঝুঁটি, জিভ, মাংস এমনকি হাড় পর্যন্ত কালো রঙের।

গবেষক, সরকারি কর্মকর্তা এবং খামারিরা সংবাদ সংস্থা বিবিসিকে জানিয়েছেন, কালো মোরগ একটি বিরল প্রজাতির মোরগ।

মোরগের এই বিরল প্রজাতিটি মূলত ইন্দোনেশিয়ার জাভা দ্বীপের প্রাণী। এর আসল নাম আয়্যাম কেমানি, ইন্দোনেশীয় ভাষায় আয়্যাম মানে মুরগি এবং কেমানি অর্থ পুরোপুরি কালো।

ভারতের মধ্য প্রদেশ, উত্তর প্রদেশ এই মুরগি কাদাকনাথ বা কালোমাসি নামে পরিচিত। ভারতের মধ্য প্রদেশ থেকেই বাংলাদেশে আনা হয়েছে কালো মুরগি।

শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মাকসুদা বেগম বিবিসিকে বলেছেন, একে বাংলাদেশে কেদারনাথ ব্রিড বা কালোমাসি বলে চেনেন কৃষিবিজ্ঞানীরা।

বাংলাদেশে এই মোরগটিকে কেদারনাথ ব্রিড বা কালোমাসি বলে চেনেন কৃষিবিজ্ঞানীরা

কালো মুরগির পুষ্টিগুণ

কালো মুরগির মাংসকে ঔষধিগুনাগুন সম্পন্ন মাংস ভাবা হয়। এর মাংস নানা ধরণের রোগ সারায় বলে মনে করেন অনেকে। বাংলাদেশে প্রথম এই মোরগ নিয়ে আসা খামারির ধারণা যে এর ঔষুধি গুণের কারণে বেশিরভাগ মানুষ এই মুরগি কিনছেন

খাদ্যগুণের বিচারে কালো মুরগির মাংসে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং আয়রন রয়েছে। সাধারণ মুরগির তুলনায় এই মুরগির মাংসে কোলেস্টরেলের মাত্রাও অনেক কম থাকে কোলেস্টরেল কম থাকে বলে এই মুরগি রক্তচাপ এবং রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।

তাছাড়া এই মুরগির মাংসে ফ্যাটি অ্যাসিড উপাদান অনেক বেশি থাকে। কিন্তু প্রোটিনের মাত্রা অন্য সব মুরগির মাংস থেকে কয়েক গুণ বেশি।

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়