ঢাকা, বুধবার   ১৮ মে ২০২২,   জ্যৈষ্ঠ ৩ ১৪২৯

নিজস্ব প্রতিবেদক, মৌলভীবাজার

প্রকাশিত: ২৩:৫৩, ১২ মে ২০২২

বঙ্গবন্ধু ব্রি ধান ১০০ চাষে সময় কম লাগে, খরচ বাঁচে

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবন করে উচ্চ জিংকসমৃদ্ধ নতুন জাতের ধান, যার নাম দেওয়া হয়েছে বঙ্গবন্ধু ব্রি ধান ১০০। মৌলভীবাজার সদর উপজেলার কাউয়াদিঘী এলাকা,আমতৈল ইউনিয়নের দক্ষিণ চমৎকার গ্রাম সহ জেলার সাতটি উপজেলায়  প্রথমবারের মতো প্রায় ২৫ বিঘা জমিতে বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা হয়েছে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের উদ্ভাবন করা নতুন জাতের ব্রি ধান বঙ্গবন্ধু-১০০।

কৃষি বিভাগের মতে, বঙ্গবন্ধু ব্রি ধান ১৪৫ থেকে ১৪৮ দিনের মধ্যে হেক্টরপ্রতি ৭.৮ টন উৎপাদন সম্ভব। এই ধানের চাল মাঝারি চিকন ও সাদা। এতে জিংকের পরিমাণ রয়েছে প্রতি কেজিতে ২৫.৭ মিলিগ্রাম, যা জিংকের অভাব পূরণে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে। এ ছাড়া চালের অ্যামাইলোজ ২৬.৮ শতাংশ ও প্রোটিন ৭.৮ শতাংশ। এ ধান নাজিরশাইল বা জিরা ধানের দানার মতো। চালের গুণগত মান অত্যন্ত ভালো এবং ভাত ঝরঝরে।

কৃষি বিভাগ সূত্রে আরো জানা গেছে বঙ্গবন্ধু ধান ১০০ বোরো মৌসুমের একটা জাত। এর কৌলিক সারিটি বিআর ৮৬৩১-১২-৩-৫ পি ২। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট কর্তৃক বিআর ৭১৬৬-৫ ও বিজি ৩০৫ এর সাথে সংকরায়ণ করা হয় ২০০৫। এরপর এটি ২০০৭ সালে আবার ব্রি ধান ২৯ এর সাথে সংকরায়ন করা হয়। পরবর্তীতে ব্রি:তে বংশানুক্রম সিলেকশনের মাধ্যমে উদ্ভাবিত হয়। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট এর গবেষণা মাঠে ৫ বৎসর ফলন পরীক্ষার পর হাইব্রীড শংকর জাতটি ২০১৭ সালে ব্রির আ লিক কার্যালয় গুলোতে গবেষণার পর ২০১৯ সালে দেশের বিভিন্ন এলাকায় কুষকের মাঠে পরীক্ষা নিরিক্ষার এবং ২০২০ সালে বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সি কর্তৃক প্রস্তাবিত জাতের ফলন সন্তোষজনক হওযায় জাতীয় বীজ বোর্ড কর্তৃক ছাড়করণ করা হয়।  এই শংকর জাতটির বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বর্ষে বঙ্গবন্ধু ১০০ নামে কৃষকদের মাধে বীজ বিতরণ করা হয়।

সদর উপজেলার উত্তর মিরপুর গ্রামে পরীক্ষামূলক এই ধান চাষ করা কৃষক  মো: মিলাদ হোসেন বলেন, তাঁর ক্ষেতের ধান পাকায় এরই মধ্যে কেটে সংগ্রহ করা হয়েছে। ৬০ শতক জমিতে ৪০ মণ ধান পেয়েছেন তিনি। তাঁর খরচ হয়েছে মাত্র ১০ হাজার টাকা।

মিরপুর গ্রামের কৃষক আনার মিয়া বলেন, এই ধানের উৎপাদন অনেক বেশি, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক বেশি থাকায় কীটনাশক প্রয়োগ করা প্রয়োজন অন্যান ধানের চেয়ে কম লাগে। নতুন জাতের ধান চাষে আমি লাভবান। তাই নিজ উদ্যোগে আবার বীজ সংগ্রহ করে পরবর্তি বছরে আরো ব্যাপক আকারে চাষ করবেন বলে জানান।

দক্ষিণ চমৎকার গ্রামর মো: সুলতান আহমদ বলেন,বঙ্গবন্ধু ব্রি ধান অন্যান জাতের ধানের চেয়ে আবাদে ১০ থেকে ১২ দিন সময় কম লাগে। সার ও টিকনাশকও কম দিতে হয়। ঝড়বৃষ্টিতে ফসল নষ্টও কম হয়। সময় কম লাগে, খরচ বাঁচে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক কৃষিবিদ কাজী লুৎফুল বারী বলেন, জেলায় বিভিন্ন উপজেলায়  বঙ্গবন্ধু ব্রি ১০০ কম বেশি চাষ করেছেন কৃষকরা। এই ধানে ধানের ফ্লাগ লিড ভালো থাকায় ফলন ভালো হয়েছে। অন্যান্য ধানে ফ্লাগ লিড কম থাকায় চিটা বেশি হয়। বঙ্গবন্ধু ধান ১৪৫ থেকে ১৪৮ দিনের মধ্যে উৎপাদন পর্যায়ে যায়। যেখানে অন্যান্য ধানে প্রায় ১৬০ দিন লাগে। বীজ বপনের পর অল্প কিছুদিনের মধ্যেই রোপণ করতে পারায় চারা নষ্ট হয় না বললেই চলে।

আইনিউজ/এসইকে/এসডি

দেখুন আইনিউজ ভিডিও

জাফলংয়ে পর্যটকদের ওপর হামলায় ৫ জন কারাগারে

জাফলংয়ে পর্যটক পেটানো সেই স্বেচ্ছাসেবকদের বিরুদ্ধে যেসব ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানালেন এসপি

সিলেট বিভাগের সবচেয়ে বড় এ ঈদগাহে নামাজ পড়বে ১৬ হাজার মানুষ

শহরে বেদে নারীদের চাঁদাবাজি, তাদের লক্ষ্য নিরীহ পথচারী ও যাত্রী

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়