ঢাকা, বুধবার ১২ আগস্ট ২০২৬,   শ্রাবণ ২৮ ১৪৩৩

আইনিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:৩৪, ১৫ অক্টোবর ২০২০

যুদ্ধে ‘বিপুলসংখ্যক’ সেনা হতাহতের কথা স্বীকার আর্মেনিয়ার

নাগার্নো-কারাবাখের দখলকে কেন্দ্র করে আজারবাইজানের সঙ্গে লড়াইয়ে ‘বিপুলসংখ্যক’ আর্মেনীয় সেনা হতাহত হয়েছেন বলে স্বীকার করেছেন আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান।

তবে আর্মেনিয়ার সেনাবাহিনী এখনও ওই অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে বলে তিনি দাবি করেন।

বিবিসি জানায়, বুধবার টেলিভিশনে প্রচারিত হওয়া এক ভাষণে আর্মেনীয় প্রধানমন্ত্রী পাশিনিয়ান বলেন, আর্মেনিয়ার ‘বহু হতাহত’ হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমি আমাদের সকল ভুক্তভোগী, শহীদ, তাদের পরিবার, অভিভাবক, বিশেষ করে শহীদদের মায়েদের উদ্দেশ্যে নতজানু হয়ে সম্মান জানাই। তাদের এই ক্ষতিকে আমি আমার ও আমার পরিবারের ব্যক্তিগত ক্ষতি হিসেবে বিবেচনা করছি।’

 

পাশিনিয়ান আরও বলেন, ‘আমাদের সবার জানা প্রয়োজন যে আমরা একটা কঠিন পরিস্থিতি পার করছি।’

তবে আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, ‘জনশক্তি ও উপকরণের ক্ষয়ক্ষতি হলেও’ আর্মেনিয়ার সেনারা এখনও নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে এবং প্রতিপক্ষের ‘জনশক্তি ও উপকরণের বিপুল ক্ষয়ক্ষতি করেছে’।

তিনি বলেন, ‘আমাদের জয়ী হতেই হবে, আমাদের বেঁচে থাকতেই হবে। আমাদের নিজেদের ইতিহাস তৈরি করতে হবে। আর আমরা এরই মধ্যে ইতিহাস তৈরি করছি। তৈরি করছি আমাদের বীরত্বপূর্ণ যুদ্ধের গল্প, আমাদের মহাকাব্য।’

নাগার্নো-কারাবাখ নিয়ে গত চার দশক ধরে দ্বন্দ্ব চলে আসছে এই দুই দেশের মধ্যে। নার্গানো-কারাবাখ আজারবাইজানের বলেই আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। কিন্তু এটি নিয়ন্ত্রণ করে রেখেছে জাতিগত আর্মেনীয়রা।

সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে অঞ্চলটি ঘিরে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে লড়াই শুরু হয়। রক্তক্ষয়ী এ সংঘাত দুই পক্ষেরই শত শত মানুষ মারা গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গত সপ্তাহে রাশিয়ার মধ্যস্থতায় দুই দেশ যুদ্ধবিরতি চুক্তি করলেও তা খুব একটা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।

তবে চলমান এই যুদ্ধ বন্ধ করতে তুরস্ক ও রাশিয়ার নেতারা নতুন করে দুই দেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান উভয় দেশই সোভিয়েত ইউনিয়নের অংশ ছিল। ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার পর তারা দুটি স্বাধীন দেশে পরিণত হয়।

তবে নাগার্নো-কারবাখ অঞ্চল নিয়ে প্রতিবেশী দেশ দুটির মধ্যে বিরোধ বাধে। এ নিয়ে এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ১৯৯৪ সালে অঞ্চলটি দখলে নিয়ে নেয় আর্মেনিয়া।

ওই যুদ্ধে কয়েক লাখ মানুষ মারা যায় এবং ১০ লাখের বেশি মানুষ উদ্বাস্তু হয়ে পড়ে। এই উদ্বাস্তুদের চাপ তৈরি হয় আজারবাইজানের ওপর। ২০১৬ সালেও অঞ্চলটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুইপক্ষ লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়েছিল। সেসময় অন্তত ২০০ জন নিহত হয়েছিল।

চলতি বছরের গত জুলাইয়ে সীমান্তে দুপক্ষের মধ্যে লড়াইয়ে কমপক্ষে ১৬ জন নিহত হয়। নিহতদের মধ্যে আজারবাইজানের উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তাও রয়েছেন। এরপর থেকে দু’দেশের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল।

১৯৯৪ সালে দুই দেশ যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিলেও তারা কখনোই স্থায়ীভাবে শান্তি চুক্তি করতে পারেনি।

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়